ইরানে হামলা নিয়ে নেতানিয়াহু ও সেনাপ্রধানের নজিরবিহীন বিরোধ
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনার নির্দেশনাকে কেন্দ্র করে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও দেশটির সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরের মধ্যে নজিরবিহীন বিরোধ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগমুহূর্তে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া একটি সামরিক নির্দেশ পালন করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের দ্রুত বিস্তার ঘটতে পারে বলে প্রতিরক্ষা মহলে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রোববার ইসরাইলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে এই উত্তেজনার বিষয়টি সামনে আসে। এ নির্দেশের ফলে ইরানের সঙ্গে দ্রুত সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছেন সেনাপ্রধান জামির। তিনি এই অভিযানের আইনি বৈধতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লিখিত নথিতে নেতানিয়াহুর স্বাক্ষর দাবি করেছেন। যদিও সুনির্দিষ্টভাবে কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, তা এখনও অস্পষ্ট। চ্যানেল ১২-এর দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিরোধ চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে। ইসরাইলের সামরিক সেন্সরশিপের কঠোর বিধিনিষেধ মেনে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
এক সামরিক কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, এই নির্দেশ এমন এক সংবেদনশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে নিয়ে যাবে। বিশেষ করে, ভুল হিসাব-নিকাশের ভয়াবহ ঝুঁকি রয়েছে এই মুহূর্তে। সামরিক নেতৃত্বের একটি অংশ মনে করছে, রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশায় সরকার ইরান ইস্যুকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত কয়েকজন সূত্র আরও বলেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে ইরান ইস্যুকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে কি না, তা নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
এদিকে চ্যানেল ১৪-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এই বিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করে একে ‘বাজে কথা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে একই সাক্ষাৎকারের ভিন্ন অংশে তিনি দাবি করেন, সম্প্রতি তিনি ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও মোসাদকে ইরানের বর্তমান সরকার উৎখাতের নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও সাম্প্রতিক সামরিক নির্দেশের সঙ্গে এই বক্তব্যের সরাসরি যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।
রোববার পালমাহিম বিমানঘাঁটিতে আয়োজিত একটি আলোচনার সময় নেতানিয়াহু ও জামিরের মধ্যকার তিক্ততা প্রকাশ্য হয়ে ওঠে। উপস্থিত এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মতে, জামিরের সাম্প্রতিক ভূমিকা ইতিহাসের পাতায় থেকে যাবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার চ্যানেল ১৩-এর খবরে বলা হয়েছিল, রুদ্ধদ্বার এক বৈঠকে জামির স্পষ্ট জানিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালানোর মতো কোনো সামরিক প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। বৈঠককক্ষের পরিবেশ ছিল ‘অত্যন্ত তিক্ত’। যদি আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে ইরানে হামলা প্রয়োজন, তাহলে তা চালাব।
জামিরের মতে, যদি কখনো ইরানে হামলার প্রয়োজন অনুভূত হয়, তবেই তা করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে নেতানিয়াহুর এমন পদক্ষেপের পেছনে ভোট বাড়ানোর কৌশল কিংবা নির্বাচন পেছানোর কোনো চক্রান্ত রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে অভিযোগ উঠছে। তবে প্রধানমন্ত্রী বরাবরই এই জাতীয় উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে নিজের সম্ভাবনা বাড়ানো কিংবা ভোট পেছানোর উদ্দেশ্যেও তিনি এমন উদ্যোগ নিতে পারেন।
























