দারিদ্র্য বিমোচনে ইসলামের কার্যকর দিকনির্দেশনা ও করণীয়
- আপডেট সময় : ০৭:০১:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
ইসলামে মানবজীবনের সব সমস্যারই সমাধান রয়েছে। জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ অত্যন্ত জরুরি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা পরিপূর্ণরূপে ইসলামে প্রবেশ করো’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০৮)। এই নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবন পরিচালনা করলে দারিদ্র্যসহ অনেক সংকট নিরসন সম্ভব।
দারিদ্র্য একটি সমাজের শান্তি ও অগ্রগতির পথে বড় বাধা। ইসলাম এই সমস্যা সমাধানের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো জাকাত, যা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি। জাকাত কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি ধনীদের সম্পদ থেকে দরিদ্রদের হক বা অধিকার আদায়ের একটি মাধ্যম। মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘তাদের সম্পদে রয়েছে প্রার্থনাকারী ও বঞ্চিতের অধিকার’ (সুরা জারিয়াত, আয়াত: ১৯)। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, ধনীদের সম্পদ থেকে জাকাত আদায় করে তা গরিবদের মধ্যে বিতরণের বিধান দেওয়া হয়েছে (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩৯৫)। দারিদ্র্য বিমোচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো দান-অনুদান।
অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সহায়তায় ইসলামে ঋণ মওকুফ বা অবকাশ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে ঋণগ্রস্তদের জন্য জাকাতের তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া, ঋণগ্রহীতা অসচ্ছল হলে তাঁর অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সময় দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘কোনো (ঋণগ্রহীতা) ব্যক্তি যদি অসচ্ছল হয়, তবে সচ্ছলতা লাভ করা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দিতে হবে’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮০)। রাসুলুল্লাহ (সা.) এমন এক ব্যক্তির জান্নাতে যাওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন, যে দুনিয়াতে ঋণগ্রহীতাদের অভাবের সময় ঋণ পরিশোধের জন্য সময় দিত এবং অনেক সময় তা মওকুফ করে দিত (সহিহ বুখারি, হাদিস ৩৪৫১)। আর যদি সদকা করে দাও, তবে তোমাদের পক্ষে সেটাই অধিকতর শ্রেয়, যদি তোমরা উপলব্ধি করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮০)। আরও বলেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক ব্যক্তির কাছে ফেরেশতা তার প্রাণ হরণের জন্য এসেছিলেন। জাকাতের মূল উদ্দেশ্য ধনী-গরিবের বৈষম্য কমানো, সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, তুমি কি কোনো ভালো কাজ করেছ। তাকে বলা হলো, একটু চিন্তা করে দেখো। সে বলল, এ বিষয়টি ছাড়া আমার আর কিছুই জানা নেই যে দুনিয়াতে আমি মানুষের সঙ্গে ব্যবসা করতাম, অর্থাৎ ঋণ দিতাম।
দারিদ্র্য বিমোচনে জাকাতের পাশাপাশি নিয়মিত দান-সদকার গুরুত্ব অপরিসীম। দানের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানো ও তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা সম্ভব। এ কারণে ইসলাম মানুষকে নিয়মিত দান-সদকার প্রতি উৎসাহিত করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘প্রত্যেক মুসলিমের ওপর দান-সদকা করা একান্ত জরুরি’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১০০৮)। হতদরিদ্র মানুষের জন্য প্রথমেই প্রয়োজন আর্থিক সহযোগিতা।
পাশাপাশি, জীবিকা নির্বাহের জন্য বৈধ ব্যবসা ও শ্রমের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম। এটি ব্যক্তিকে সৎ, পরিশ্রমী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘নামাজ শেষ হয়ে গেলে তোমরা জমিনে ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ করো। আর বেশি বেশি আল্লাহকে স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফল হতে পারো’ (সুরা জুমা, আয়াত: ১০)।
এই নিবন্ধটি লিখেছেন অধ্যক্ষ মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, যিনি বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

























