ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মেহেরপুরে ১০ কোটির পানি শোধনাগার ৪ বছরেও চালু হয়নি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মেহেরপুর পৌরসভার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে শহরের পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের কাজ ২০১৫ সালে শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২২ সালের এপ্রিলে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। মেহেরপুর পৌরসভায় যেখানে পানির উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সেখানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার চার বছরেও চালু না হওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মেহেরপুর পৌরসভায় পানিসংকট যে কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেটা পৌর শহরের বাসিন্দাদের ভাষ্যেই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এতে একদিকে যেমন পানির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকদেরও বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় একেবারেই পানি পৌঁছাচ্ছে না। উৎপাদনের পাশাপাশি পানি নিরাপদভাবে মানুষের বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থাটিও সচল করতে হবে।

পৌরসভার বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, শহরের দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার। অথচ এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার। পানির মান এতটাই নিম্নগামী যে, বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরবরাহকৃত পানিতে ময়লা, শেওলা ও পোকা থাকে। ফলে এই পানি পান করা অসম্ভব এবং রান্নার কাজেও ব্যবহারের উপযোগী নয়। বাধ্য হয়েই নাগরিকেরা সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে অথবা কিনে পানি সংগ্রহ করছেন, যা তাঁদের আর্থিক ব্যয়ের বোঝা আরও বাড়াচ্ছে। গোসল ও কাপড় ধোয়ার মতো কাজেই শুধু সেই পানি ব্যবহার করা যায়, পান করা যায় না।

শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থায় বিদ্যমান পাইপলাইনের প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের ৫৫ শতাংশই আয়রন জমে অকেজো হয়ে আছে। ফলে অনেক এলাকায় পানির সংযোগ প্রায় বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে শুধু নতুন শোধনাগার চালু করাই যথেষ্ট নয়, পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। নাগরিকেরা তাদের করের টাকায় নির্মিত এই প্রকল্পের সুফল থেকে দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থাকছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকদের সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

প্রকল্পটি চালু না হওয়ার পেছনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। অধিদপ্তরের দাবি, শোধনাগারটি সচল অবস্থাতেই হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জনবলের অভাব ও আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত না করে কেন এত বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হলো এবং হস্তান্তরের পরও কেন তা অকেজো পড়ে আছে? জনদুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভাকে এখন দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত চালু করা জরুরি। আবার হস্তান্তরের পরও সেটি চালু না করার দায়ই-বা কে নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মেহেরপুরে ১০ কোটির পানি শোধনাগার ৪ বছরেও চালু হয়নি

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মেহেরপুর পৌরসভার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের। এ সমস্যা সমাধানে শহরের পশুর হাটসংলগ্ন এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ভূগর্ভস্থ পানি শোধনাগার নির্মাণের কাজ ২০১৫ সালে শুরু হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২২ সালের এপ্রিলে এর নির্মাণকাজ শেষ হয় এবং ২০২৪ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে তা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটি আজ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। মেহেরপুর পৌরসভায় যেখানে পানির উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, সেখানে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পানি শোধনাগার চার বছরেও চালু না হওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। মেহেরপুর পৌরসভায় পানিসংকট যে কতটা প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেটা পৌর শহরের বাসিন্দাদের ভাষ্যেই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এতে একদিকে যেমন পানির অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে নাগরিকদেরও বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। কয়েকটি এলাকায় একেবারেই পানি পৌঁছাচ্ছে না। উৎপাদনের পাশাপাশি পানি নিরাপদভাবে মানুষের বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থাটিও সচল করতে হবে।

পৌরসভার বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, শহরের দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ লিটার। অথচ এর বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৫০ লাখ লিটার। পানির মান এতটাই নিম্নগামী যে, বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরবরাহকৃত পানিতে ময়লা, শেওলা ও পোকা থাকে। ফলে এই পানি পান করা অসম্ভব এবং রান্নার কাজেও ব্যবহারের উপযোগী নয়। বাধ্য হয়েই নাগরিকেরা সাবমারসিবল পাম্প বসিয়ে অথবা কিনে পানি সংগ্রহ করছেন, যা তাঁদের আর্থিক ব্যয়ের বোঝা আরও বাড়াচ্ছে। গোসল ও কাপড় ধোয়ার মতো কাজেই শুধু সেই পানি ব্যবহার করা যায়, পান করা যায় না।

শহরের পানি সরবরাহব্যবস্থায় বিদ্যমান পাইপলাইনের প্রায় ১৫০ কিলোমিটারের ৫৫ শতাংশই আয়রন জমে অকেজো হয়ে আছে। ফলে অনেক এলাকায় পানির সংযোগ প্রায় বন্ধ। এই পরিস্থিতিতে শুধু নতুন শোধনাগার চালু করাই যথেষ্ট নয়, পুরোনো পাইপলাইন সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। নাগরিকেরা তাদের করের টাকায় নির্মিত এই প্রকল্পের সুফল থেকে দীর্ঘ সময় বঞ্চিত থাকছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নাগরিকদের সুপেয় পানি পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।

প্রকল্পটি চালু না হওয়ার পেছনে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং পৌরসভা কর্তৃপক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। অধিদপ্তরের দাবি, শোধনাগারটি সচল অবস্থাতেই হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জনবলের অভাব ও আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরছে। প্রশ্ন উঠছে, প্রয়োজনীয় জনবল ও পরিচালনার সক্ষমতা নিশ্চিত না করে কেন এত বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হলো এবং হস্তান্তরের পরও কেন তা অকেজো পড়ে আছে? জনদুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভাকে এখন দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগ ও কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্পটি দ্রুত চালু করা জরুরি। আবার হস্তান্তরের পরও সেটি চালু না করার দায়ই-বা কে নেবে।