সাড়ে চার ঘণ্টায় রাজধানীর ১৩ স্পট পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেন। টানা সাড়ে চার ঘণ্টার এই সফরে তিনি মোট ১৩টি স্পট ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সেবার মান ও পরিবেশ উন্নয়নে কঠোর নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, দুপুর ১টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত চলা এই কার্যক্রমে তিনি উত্তরা থেকে শুরু করে আজিমপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এলাকা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩ স্পট পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর।
পরিদর্শনের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী উত্তরায় অবস্থিত কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে যান। সেখানকার পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার অভাব দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষকে উন্নতির জন্য সাত দিনের সময় বেঁধে দেন। এরপর তিনি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার এবং সরকারি বাংলা কলেজ পরিদর্শন করেন। এছাড়া আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ঘুরে দেখার সময়ও তিনি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ঘাটতি পর্যবেক্ষণ করেন।
সফরের এক পর্যায়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গিয়ে সহযোগী অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলামকে নিজ কক্ষে ধূমপানরত অবস্থায় পান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ওই চিকিৎসকের কক্ষের পরিবেশও ছিল অস্বাস্থ্যকর। এমন দায়িত্বহীনতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের চেয়ারম্যানকে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টারের আবাসন এলাকার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে সেটি পরিষ্কারের জন্য দুই সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন প্রধানমন্ত্রী।
নিজের প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজেও যান তিনি। সেখানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে একটি পরিচ্ছন্ন দেশ গড়া ও বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দেন। এ ছাড়া মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাত পরিদর্শনের সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন। সামগ্রিক এই পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনসাধারণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

























