কন্যাশিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিতে জিরো টলারেন্সের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তাদের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা যৌন হয়রানি রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতার নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ থেকে শুরু করে যাতায়াতের পথ এবং অনলাইন জগত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবক্ষেত্রেই কন্যাশিশুর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগই এখন সময়ের দাবি। আর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।
সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা মনে না করে তাদের সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে হবে। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদের স্বপ্নপূরণের সমান সুযোগ তৈরি করা আমাদের গুরুদায়িত্ব। শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা যে অসামান্য সাফল্য দেখাচ্ছেন, তা দেশের জন্য বড় গর্বের। উদাহরণ হিসেবে তিনি জাতীয় নারী ফুটবল দল ও এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করেন। অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কন্যাসন্তানকে ছোটবেলা থেকেই যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে এবং ছেলেদের শিক্ষা দিতে হবে যাতে তারা কন্যাদের সম্মান করতে শেখে। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। তিনি নারীদের জন্য শিক্ষা বৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।
দুই কন্যার বাবা হিসেবে বিষয়টি নিজের অনুভূতির কথা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ করা শুধু একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, এটি আমার কাছে মমতারও বিষয়। ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্রষ্টার এই নেয়ামতকে অবহেলা বা অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই, বরং সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় তাদের অধিকার রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশু বিয়ের কুফল সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কেবল শৈশব কেড়ে নেয় না, বরং শিক্ষাজীবন নষ্ট করে ও অকাল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এ বছর আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে তিনি মন্তব্য করেন। কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত হলেও সমাজে অনেক সময় এ নেয়ামতকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়। এর সঙ্গে অকালমাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও যুক্ত হতে পারে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্রপতি খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অতীতে নারী শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছিলেন। বর্তমান সরকারের চলমান প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও হেল্পলাইন সুবিধা আরও সহজলভ্য করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, তোমরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হও, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরো এবং আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার মতো দক্ষতা অর্জন করো। কোনো প্রকার নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হলে ভয় না পেয়ে বিশ্বস্ত অভিভাবক বা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে হবে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন নিয়ে তোমাদের এগিয়ে যেতে হবে, কারণ তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান। এছাড়া দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহসভাপতি শাহীন আক্তার বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান। আলোচনা শেষে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুজন কন্যাশিশু তাদের নিজস্ব মতামত তুলে ধরে।


























