ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ক্রেতা সংকট ও লোকসানে বন্ধ হলো কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ে অবস্থিত প্রায় তিন দশকের পুরনো অভিজাত শপিং কমপ্লেক্স কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক মন্দা, চরম ক্রেতা সংকট এবং বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল পরিশোধের অক্ষমতার কারণে গত ১ অক্টোবর থেকে মার্কেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেটটির মূল ফটকের শাটার নামানো রয়েছে এবং সেখানে ‘১/১০/২০২৬ তারিখ হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’ সম্বলিত একটি বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে।

১৯৯৮ সালে কর্ণফুলী গ্রুপের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই ২০ তলা ভবনটির নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত শপিং মল এবং চতুর্থ তলায় ফুড কোর্ট ও বাগান ছিল। চালুর সময় এখানে ১৯৮টি দোকান থাকলেও, বন্ধের সময় মাত্র ১৭টি দোকান এবং বাইরের রেস্তোরাঁসহ মোট ২৫টি দোকান চালু ছিল। কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী জানান, গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিপণিবিতানটিতে ধারাবাহিকভাবে বিক্রি কমছিল। তিনি আরও জানান, মূলত কয়েকটি কারণে মার্কেটটি ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে এবং মালিকেরা সম্মিলিতভাবে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

বাকীবিল্লাহ ওসমানীর ভাষ্যমতে, গত দশকে মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের ফলে ক্রেতারা এখানে আসা কমিয়ে দেন। সে সময় অনেকে দোকান সরিয়ে নিলেও নির্মাণকাজ শেষে আর ফেরেননি। এছাড়া মহামারি করোনার প্রভাবে শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে আর সচল হয়নি। অন্যদিকে, প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগও মার্কেটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। বর্তমানে দোকানমালিকেরা এই জায়গাটি হাসপাতাল, ব্যাংক বা বড় কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য আলোচনা চালাচ্ছেন এবং শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তা ছাড়া মার্কেটে থাকা বেশ কিছু প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগেও বিপণিবিতানের সুনাম নষ্ট হয়। তাই দোকানমালিকেরা সবাই মিলেই মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন বেশ কয়েকজন দোকানমালিক আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে অস্থায়ীভাবে দোকান সরিয়ে নেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ক্রেতা সংকট ও লোকসানে বন্ধ হলো কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি

আপডেট সময় : ০৯:৫১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর শান্তিনগর-কাকরাইল মোড়ে অবস্থিত প্রায় তিন দশকের পুরনো অভিজাত শপিং কমপ্লেক্স কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যবসায়িক মন্দা, চরম ক্রেতা সংকট এবং বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল পরিশোধের অক্ষমতার কারণে গত ১ অক্টোবর থেকে মার্কেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, মার্কেটটির মূল ফটকের শাটার নামানো রয়েছে এবং সেখানে ‘১/১০/২০২৬ তারিখ হতে শপিং কমপ্লেক্স বন্ধ থাকিবে’ সম্বলিত একটি বিজ্ঞপ্তি ঝুলছে।

১৯৯৮ সালে কর্ণফুলী গ্রুপের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই ২০ তলা ভবনটির নিচতলা থেকে তৃতীয় তলা পর্যন্ত শপিং মল এবং চতুর্থ তলায় ফুড কোর্ট ও বাগান ছিল। চালুর সময় এখানে ১৯৮টি দোকান থাকলেও, বন্ধের সময় মাত্র ১৭টি দোকান এবং বাইরের রেস্তোরাঁসহ মোট ২৫টি দোকান চালু ছিল। কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি শপিং কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাকীবিল্লাহ ওসমানী জানান, গত ১০ বছরের বেশি সময় ধরে বিপণিবিতানটিতে ধারাবাহিকভাবে বিক্রি কমছিল। তিনি আরও জানান, মূলত কয়েকটি কারণে মার্কেটটি ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ে এবং মালিকেরা সম্মিলিতভাবে এটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন।

বাকীবিল্লাহ ওসমানীর ভাষ্যমতে, গত দশকে মগবাজার-মালিবাগ উড়ালসড়ক নির্মাণের সময় তীব্র যানজটের ফলে ক্রেতারা এখানে আসা কমিয়ে দেন। সে সময় অনেকে দোকান সরিয়ে নিলেও নির্মাণকাজ শেষে আর ফেরেননি। এছাড়া মহামারি করোনার প্রভাবে শতাধিক দোকান বন্ধ হয়ে যায়, যা পরবর্তীতে আর সচল হয়নি। অন্যদিকে, প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগও মার্কেটের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে। বর্তমানে দোকানমালিকেরা এই জায়গাটি হাসপাতাল, ব্যাংক বা বড় কোনো করপোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির জন্য আলোচনা চালাচ্ছেন এবং শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। তা ছাড়া মার্কেটে থাকা বেশ কিছু প্রসাধনীর দোকানে মানহীন পণ্য বিক্রির অভিযোগেও বিপণিবিতানের সুনাম নষ্ট হয়। তাই দোকানমালিকেরা সবাই মিলেই মালিকানা বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তখন বেশ কয়েকজন দোকানমালিক আশপাশের বিভিন্ন মার্কেটে অস্থায়ীভাবে দোকান সরিয়ে নেন।