হাজারীবাগে কুরিয়ার সার্ভিসে হামলা: মামলার বাদীকে ফোনে হুমকি
- আপডেট সময় : ১০:৫৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর হাজারীবাগে অবস্থিত এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয় ও গুদামে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদীকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কুরিয়ার সার্ভিসটির ব্যবস্থাপক ও মামলার বাদী আফসার উদ্দিনকে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি এই হুমকি দেন।
হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিও রেকর্ড পুলিশের কাছে পৌঁছেছে। হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ অডিওটি যাচাই-বাছাই করছে এবং এটি মামলার তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ বিষয়টিকেও মামলার তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। বাদীর সঙ্গে হুমকিদাতার কথোপকথনের অডিওতে শোনা যায়, হুমকিদাতা সালাম দিয়ে আফসারকে বলছেন, ‘ভাই মামলার বাদী যে হলেন আপনার নিজের মামলার বাদী কে হবেন?’। জবাবে হুমকিদাতা বলেন, ‘কোনটা আপনি বোঝেন না?’।
অডিও রেকর্ডে হুমকিদাতাকে বলতে শোনা যায়, ‘কালকের (শনিবার) মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা করা না হলে লাশ পড়ে থাকবে।
এ সময় হুমকিদাতা বাদীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। নিজের পরিচয় জানতে চাইলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘তোর বাপ বলছি। এর আগেও তিনি ফোন করে বলেছিলেন, ‘কালকের দিন সময় দিলাম, তোর বাপের সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে।’
বাদী নিজেকে প্রতিষ্ঠানের মালিক নন বলে জানালে হুমকিদাতা পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘মালিক না তো বাদী হইছোস কেমনে?’ এরপরই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বাদী আফসার উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই হামলার নেপথ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের নাম শোনা যাচ্ছে। হামলার সময় সন্ত্রাসীরা নিজেদের ইমনের লোক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। ওই কর্মকর্তা জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আটজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও মূল অভিযুক্ত সাইফুল ও জুয়েল এখনো পলাতক।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যালয়ে হামলা চালায়। তারা দাবি করে, এখন থেকে ওই জমির ভাড়া সন্ত্রাসী ইমনের কাছেই দিতে হবে। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ টাকার পণ্য লুট করা হয় এবং সিসিটিভি ক্যামেরা খুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুই বছর আগে শিকদার গ্রুপের কাছ থেকে বৈধ চুক্তির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটি জায়গাটি ভাড়া নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


























