ঢাকা ০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু সাইবার পুলিশ সেন্টারের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন ডিভাইসে সাইবার অপরাধের আলামত শনাক্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আর ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। বুধবার দুপুরে দামপাড়া পুলিশ লাইনের সিআইডি কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোয়াইকা)-এর সহায়তায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ডিভাইস দিয়ে তাঁরা কী করেছেন, কী তাঁদের উদ্দেশ্য, তা জানার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা দরকার। তবে এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে থাকেন। সরেজমিন দেখা গেছে, চারতলা এই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বসানো হয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাব, কম্পিউটার ও ল্যাবের নানা সরঞ্জাম। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন জানান, আগে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মুঠোফোন বা ল্যাপটপের মতো ডিভাইসগুলো ঢাকায় পাঠাতে হতো, যা তদন্তে বড় ধরনের সময়ক্ষেপণ ঘটাত। এখন চট্টগ্রামেই এই সুবিধা পাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে গতি আসবে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট চট্টগ্রামের উপপুলিশ কমিশনার শামীম হোসেন জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে নগরে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় যে তদন্ত চলছে, তাতেও এই ফরেনসিক ল্যাবের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে সাইবার আইনে হওয়া মামলার সংখ্যা ৫০।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ৯৬৭টি মামলার বিচারকাজ চলছে। এছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২৮টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত এবং দীর্ঘকাল ধরে ৬৫টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। থানা পর্যায়েও প্রতিদিন সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ আসছে। অপরাধের নতুন নতুন ধরন যেমন অনলাইনে জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মতো ঘটনার দ্রুত আইনি সুরাহা করতে এই ল্যাবটি সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জানা গেছে, অন্য অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সেখানে বসে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সাইবার পুলিশ সেন্টারে থাকা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মুঠোফোন, ট্যাব, ড্রোন, জিপিএস ও বিভিন্ন ডিজিটাল স্টোরেজ থেকে মুছে ফেলা তথ্য, কল লগ, মেসেজ, ওয়েব ব্রাউজিং হিস্ট্রি এবং ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সেটিংস উদ্ধার করা সম্ভব। এছাড়া ডার্ক ওয়েবের অপরাধ, অ্যাপের তথ্য, মেসেঞ্জার ও ক্লাউড ড্রাইভে সংরক্ষিত ডেটা বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা যাবে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ও প্রকল্প পরিচালক সরদার রুকন উজ্জামান জানান, এখানে অপরাধ ঢাকতে মুছে ফেলা হার্ড ড্রাইভের ডেটা বা মেমোরি ডাম্পের জটিল বিশ্লেষণও সম্পন্ন করা যাবে। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে কেউ গুজব কিংবা অপপ্রচার চালালে সহজে শনাক্ত করা যাবে এই সাইবার সেন্টারে প্রযুক্তির সাহায্য।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক রাসিব খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতারকরা এখন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ করছে। এই কেন্দ্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। এছাড়া কক্সবাজারে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোনসহ গ্রেপ্তার হওয়া চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকদের মামলাটির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও এই সেন্টারটি বড় ধরনের সহায়তা দেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

চট্টগ্রামে যাত্রা শুরু সাইবার পুলিশ সেন্টারের

আপডেট সময় : ০৩:১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীতে বিভিন্ন ডিভাইসে সাইবার অপরাধের আলামত শনাক্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য আর ঢাকায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। বুধবার দুপুরে দামপাড়া পুলিশ লাইনের সিআইডি কার্যালয় সংলগ্ন স্থানে ‘সাইবার পুলিশ সেন্টার’ উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দক্ষিণ কোরিয়ার আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (কোয়াইকা)-এর সহায়তায় ৫৯ কোটি ৮ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। এসব ডিভাইস দিয়ে তাঁরা কী করেছেন, কী তাঁদের উদ্দেশ্য, তা জানার জন্য ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা দরকার। তবে এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীরা বেশি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে থাকেন। সরেজমিন দেখা গেছে, চারতলা এই ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বসানো হয়েছে প্রয়োজনীয় আসবাব, কম্পিউটার ও ল্যাবের নানা সরঞ্জাম। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে মোবাইল ফরেনসিক ল্যাব।

সিআইডি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার সালাহ উদ্দিন জানান, আগে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মুঠোফোন বা ল্যাপটপের মতো ডিভাইসগুলো ঢাকায় পাঠাতে হতো, যা তদন্তে বড় ধরনের সময়ক্ষেপণ ঘটাত। এখন চট্টগ্রামেই এই সুবিধা পাওয়ায় তদন্ত কার্যক্রমে গতি আসবে। কাউন্টার টেররিজম ইউনিট চট্টগ্রামের উপপুলিশ কমিশনার শামীম হোসেন জানান, গত সেপ্টেম্বর মাসে নগরে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় যে তদন্ত চলছে, তাতেও এই ফরেনসিক ল্যাবের প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে সাইবার আইনে হওয়া মামলার সংখ্যা ৫০।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে ১ হাজার ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ৯৬৭টি মামলার বিচারকাজ চলছে। এছাড়া উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২৮টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত এবং দীর্ঘকাল ধরে ৬৫টি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে। থানা পর্যায়েও প্রতিদিন সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ আসছে। অপরাধের নতুন নতুন ধরন যেমন অনলাইনে জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানোর মতো ঘটনার দ্রুত আইনি সুরাহা করতে এই ল্যাবটি সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জানা গেছে, অন্য অপরাধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সেখানে বসে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সাইবার পুলিশ সেন্টারে থাকা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে মুঠোফোন, ট্যাব, ড্রোন, জিপিএস ও বিভিন্ন ডিজিটাল স্টোরেজ থেকে মুছে ফেলা তথ্য, কল লগ, মেসেজ, ওয়েব ব্রাউজিং হিস্ট্রি এবং ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক সেটিংস উদ্ধার করা সম্ভব। এছাড়া ডার্ক ওয়েবের অপরাধ, অ্যাপের তথ্য, মেসেঞ্জার ও ক্লাউড ড্রাইভে সংরক্ষিত ডেটা বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা যাবে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ও প্রকল্প পরিচালক সরদার রুকন উজ্জামান জানান, এখানে অপরাধ ঢাকতে মুছে ফেলা হার্ড ড্রাইভের ডেটা বা মেমোরি ডাম্পের জটিল বিশ্লেষণও সম্পন্ন করা যাবে। তিনি আরও বলেন, ফেসবুকে কেউ গুজব কিংবা অপপ্রচার চালালে সহজে শনাক্ত করা যাবে এই সাইবার সেন্টারে প্রযুক্তির সাহায্য।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের উপপরিদর্শক রাসিব খান বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। প্রতারকরা এখন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল জালিয়াতির মতো অপরাধ করছে। এই কেন্দ্রে প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও আগাম ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। এছাড়া কক্সবাজারে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোনসহ গ্রেপ্তার হওয়া চীন ও তাইওয়ানের নাগরিকদের মামলাটির মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও এই সেন্টারটি বড় ধরনের সহায়তা দেবে।