ঢাকা ০২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রবাসীদের মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে। রেমিট্যান্স কেবল লাখো পরিবারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের শ্রম, ঘাম এবং ত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অসামান্য অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব। এটি প্রমাণ করে যে, দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ তারা। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এসময় অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, দালালচক্র ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে প্রবাসী-বান্ধব ও কার্যকর করে তোলার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতে বিশেষ অবদান রাখা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি শ্রমবাজারের বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নারী কর্মীদের ‘খাদ্দামা’ হিসেবে পাঠানোর যে ভুল নীতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সম্পর্কে সরকার অবগত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এসব অনিয়ম বন্ধে সরকার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জমিজমা বিক্রি করে বিদেশে গিয়েও চাকরি না পাওয়ার দুর্ভোগ লাঘবে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নারী কর্মীদের জন্য আবাসন, হোস্টেল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহনের মাধ্যমে কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রবাসীদের মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব

আপডেট সময় : ০৫:০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির মূল প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করছে। রেমিট্যান্স কেবল লাখো পরিবারের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনছে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের গতি সঞ্চার করছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীতে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তি ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রবাসীদের শ্রম, ঘাম এবং ত্যাগের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অসামান্য অবদান স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের ভূমিকা ছিল অভূতপূর্ব। এটি প্রমাণ করে যে, দেশের জাতীয় ও অর্থনৈতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ তারা। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এসময় অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, দালালচক্র ও প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোকে প্রবাসী-বান্ধব ও কার্যকর করে তোলার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে অভিবাসন খাতে বিশেষ অবদান রাখা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপতি। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি শ্রমবাজারের বৈচিত্র্য আনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার অন্যান্য দেশেও কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে। বিশেষ করে বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে নারী কর্মীদের ‘খাদ্দামা’ হিসেবে পাঠানোর যে ভুল নীতি ছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত জাতীয় কৌশল গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ সম্পর্কে সরকার অবগত। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এসব অনিয়ম বন্ধে সরকার সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জমিজমা বিক্রি করে বিদেশে গিয়েও চাকরি না পাওয়ার দুর্ভোগ লাঘবে সরকার কাজ করছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নারী কর্মীদের জন্য আবাসন, হোস্টেল ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রবাসীদের পরিবারের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় বহনের মাধ্যমে কর্মীদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।