জম্বি চরিত্রে চুমুর দৃশ্যে মজার অভিজ্ঞতার কথা জানালেন রোজ
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
নিউজিল্যান্ড থেকে হলিউডের অনিশ্চিত যাত্রাপথে রোজ ম্যাকাইভারের শুরুর সময়টা খুব একটা সহজ ছিল না। লস অ্যাঞ্জেলেসে থিতু হওয়ার পর তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এখানকার প্রতিযোগিতার জায়গাটা কতটা কঠিন। অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া কিংবা নির্মাতাদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা ছিল নিত্যদিনের লড়াই। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোজ স্মরণ করেছেন, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের একটি অডিশনে সাধারণ পোশাকে উপস্থিত হওয়ার পর তাঁকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল যে, আরও ‘হলিউডসুলভ’ হতে হবে। এই মন্তব্যটি তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। ‘আরও হলিউডসুলভ হতে হবে’ নিউজিল্যান্ডে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পাড়ি জমানোর পর রোজের সামনে খুলে যায় নতুন সম্ভাবনা। অডিশনে বারবার প্রত্যাখ্যাত হওয়া, পছন্দের চরিত্র না পাওয়া কিংবা নির্মাতাদের চোখে যথেষ্ট পরিচিত মুখ হয়ে উঠতে না পারার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। পর্দায় নগ্ন দৃশ্য দেখে সিডনির পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া কী ছিল।
অবশ্য খুব দ্রুতই পরিস্থিতির বদল ঘটে। ২০০৯ সালে পিটার জ্যাকসনের ‘দ্য লাভলি বোনস’ সিনেমায় লিন্ডসে চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজরে আসেন। সেখানে তিনি কিশোরী সুসি স্যালমনের বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তবে রোজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাঁক আসে ‘আইজম্বি’ সিরিজের মাধ্যমে। এই সিরিজে তিনি এমন এক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যেখানে জম্বি হওয়ার ফলে তাঁকে মানুষের মস্তিষ্ক খেয়ে মৃত ব্যক্তিদের স্মৃতি ও ব্যক্তিত্ব ধারণ করতে হতো। সিরিজটির জটিল চিত্রনাট্য ও নানা ধরনের ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলার সক্ষমতা তাঁকে দারুণ পরিচিতি এনে দেয়। রহস্য, কমেডি ও অপরাধের মিশেলে তৈরি সিরিজটিতে রোজকে একেক সময় একেক ধরনের ব্যক্তিত্ব ধারণ করতে হয়েছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি পারিশ্রমিকের দিক থেকেও তিনি এখন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, ‘ঘোস্টস’ সিরিজের সাফল্যের পর রোজ ম্যাকাইভার প্রতি পর্বে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা তিন কোটি টাকারও বেশি। তাঁর এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা ও আয় এখন হলিউডপাড়ায় আলোচনার খোরাক জোগায়। তবে তাঁর সিরিজের প্রতি পর্বের পারিশ্রমিক সম্পর্কে একটি নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেছিল ডেডলাইন।
পেশাদার জীবনের পাশাপাশি সহশিল্পীদের সঙ্গে কাজের রসায়ন নিয়েও তিনি মুখর ছিলেন। ২০১৫ সালে ইয়াহু এন্টারটেইনমেন্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ‘আইজম্বি’ সিরিজের একটি মজার অভিজ্ঞতার কথা বলেছিলেন। সিরিজের একটি চুমুর দৃশ্যের চিত্রনাট্য পড়ে তিনি বেশ আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু শুটিংয়ের সময় ঘটে এক বিড়ম্বনা। জম্বি চরিত্রের জন্য তাঁর মুখে মাখা সাদা রঙের মেকআপ চুমুর সময় সহশিল্পী রবার্টের মুখে লেগে যাচ্ছিল। এই দৃশ্য ধারণের সময় দুজনই হাস্যরসে মেতে ওঠেন। রোজের মতে, সহশিল্পীর সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়া থাকায় শুটিংয়ের এই ছোটখাটো ঘটনাগুলোও বেশ আনন্দময় হয়ে উঠেছিল। সিনেমাটিতে তাঁর সহশিল্পী ছিলেন সাওয়ার্সে রোনান।

























