ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মডেল সাহারা রে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সাহারা রে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত ১৮ অক্টোবর, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে ৩৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মার্কিন বিনোদন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড জানায়, মৃত্যুর সময় পরিবারের স্বজনেরা তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে সবাই তাঁর পাশে ছিলেন এবং তারা তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাহারা ‘স্নো’ নামে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। ইনস্টাগ্রামে মেয়েকে নিয়ে করা তাঁর সবশেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ সেই পোস্টের তিন মাসের মাথায় মারা গেলেন অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর। ২০২৪ সালের মে মাসে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ তাঁর অসুস্থতা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেটিই তাঁর ইনস্টাগ্রাম গ্রিডে শেষ পোস্ট। তখন হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হতো তাঁকে।

সাহারার মৃত্যুর নেপথ্যে শক্তিশালী ব্যথানাশক ফেন্টানিল সেবনের অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এবং পেজ সিক্স তাদের প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মাদকজাতীয় ওই ব্যথানাশকের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণই তাঁর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। রোববার পরিবার লাইফ সাপোর্ট সরানোর কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে এই তথ্যের বিষয়ে পরিবার বা কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিয়ে যা জানা গেছে সাহারার মৃত্যু নিয়ে প্রথমে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পরিবার। রোববার সেই জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় পরিবারকে। ডেইলি মেইলের বরাতে পেজ সিক্সও একই তথ্য জানিয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণের ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। মা হওয়ার আনন্দের খবরের পাশাপাশি নিজের উদ্বেগের কথাও অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। সেখানে সাহারা জানিয়েছিলেন, মুহূর্তেই তাঁর জীবন বদলে গেছে।

শারীরিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে সাহারার শেষ কয়েকটি বছর কেটেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে এক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। মদ্যপ এক গাড়িচালকের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামক বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হন। দুর্ঘটনার ফলে তাঁর শরীরের নিচের অংশে পচন ও চলনশক্তি হারিয়ে ফেলার মতো জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানান, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একপর্যায়ে ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তবু সুস্থ হওয়ার আশা ছাড়তে চাননি তিনি।

সাহারার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল সার্ফিং ও ফ্যাশন। প্রখ্যাত সার্ফার টনি রের মেয়ে হওয়ার সুবাদে শৈশব থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। ২০১৪ সালে তিনি ‘সাহারা রে সুইম’ নামে নিজস্ব সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড গড়ে তোলেন। মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। ২০১৬ সালে কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে হাওয়াইয়ে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। যদিও বিবারের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, তবুও তাঁরা কেউই তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। ২০১৬ সালে কানাডীয় পপতারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

সাহারার মা গ্রেচেন বাখ মেয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সাহারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, দয়ালু এবং ভালোবাসায় পূর্ণ একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর পৃথিবী জুড়ে ছিল পরিবার, ফ্যাশন, সার্ফিং এবং প্রিয় সন্তান স্নো। ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের ছবি পোস্ট করার পর আর কোনো নতুন পোস্ট দেননি সাহারা। তাঁর অকাল প্রয়াণে অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মডেল সাহারা রে

আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও প্রভাবশালী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সাহারা রে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত ১৮ অক্টোবর, রোববার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে ৩৪ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। মার্কিন বিনোদন সংবাদমাধ্যম টিএমজেড জানায়, মৃত্যুর সময় পরিবারের স্বজনেরা তাঁর পাশে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করে বলা হয়েছে, শেষ মুহূর্তে সবাই তাঁর পাশে ছিলেন এবং তারা তাঁকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সাহারা ‘স্নো’ নামে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন। ইনস্টাগ্রামে মেয়েকে নিয়ে করা তাঁর সবশেষ পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ সেই পোস্টের তিন মাসের মাথায় মারা গেলেন অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে। তাঁর বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪ বছর। ২০২৪ সালের মে মাসে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ তাঁর অসুস্থতা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেটিই তাঁর ইনস্টাগ্রাম গ্রিডে শেষ পোস্ট। তখন হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হতো তাঁকে।

সাহারার মৃত্যুর নেপথ্যে শক্তিশালী ব্যথানাশক ফেন্টানিল সেবনের অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল এবং পেজ সিক্স তাদের প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, মাদকজাতীয় ওই ব্যথানাশকের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণই তাঁর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। রোববার পরিবার লাইফ সাপোর্ট সরানোর কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে এই তথ্যের বিষয়ে পরিবার বা কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ নিয়ে যা জানা গেছে সাহারার মৃত্যু নিয়ে প্রথমে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পরিবার। রোববার সেই জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় পরিবারকে। ডেইলি মেইলের বরাতে পেজ সিক্সও একই তথ্য জানিয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় ওষুধ গ্রহণের ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট নয়। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। মা হওয়ার আনন্দের খবরের পাশাপাশি নিজের উদ্বেগের কথাও অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। সেখানে সাহারা জানিয়েছিলেন, মুহূর্তেই তাঁর জীবন বদলে গেছে।

শারীরিক ও মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে সাহারার শেষ কয়েকটি বছর কেটেছে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে এক গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। মদ্যপ এক গাড়িচালকের ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামক বিরল স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হন। দুর্ঘটনার ফলে তাঁর শরীরের নিচের অংশে পচন ও চলনশক্তি হারিয়ে ফেলার মতো জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি সুস্থ হওয়ার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি মাদক ও অ্যালকোহল আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানান, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একপর্যায়ে ঊরুর ওপরের অংশ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তবু সুস্থ হওয়ার আশা ছাড়তে চাননি তিনি।

সাহারার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের বড় অংশ জুড়ে ছিল সার্ফিং ও ফ্যাশন। প্রখ্যাত সার্ফার টনি রের মেয়ে হওয়ার সুবাদে শৈশব থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। ২০১৪ সালে তিনি ‘সাহারা রে সুইম’ নামে নিজস্ব সাঁতারের পোশাকের ব্র্যান্ড গড়ে তোলেন। মডেলিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তার মাধ্যমে তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে। ২০১৬ সালে কানাডীয় পপ তারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে হাওয়াইয়ে ছুটি কাটানোর ছবি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন। যদিও বিবারের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, তবুও তাঁরা কেউই তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। ২০১৬ সালে কানাডীয় পপতারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জনে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

সাহারার মা গ্রেচেন বাখ মেয়ের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সাহারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, দয়ালু এবং ভালোবাসায় পূর্ণ একজন মানুষ ছিলেন। তাঁর পৃথিবী জুড়ে ছিল পরিবার, ফ্যাশন, সার্ফিং এবং প্রিয় সন্তান স্নো। ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের ছবি পোস্ট করার পর আর কোনো নতুন পোস্ট দেননি সাহারা। তাঁর অকাল প্রয়াণে অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন।