ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য দ্রুত ফিরবেন: বিজিবি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার শশীদল সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে খুব দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে তাদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। আটককৃতরা বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গলবেষ্টিত ওই সীমান্তের টপোগ্রাফির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে এই বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্নক সহযোগিতা করছি। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব আনহার্ম, এটা আমরা সেভাবেই যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের যে ঐতিহ্যবাহী বাহিনী এবং আমরা যেভাবে এই দায়িত্ব, রেসপন্সিবিলিটিস পালন করে আসছি, এই প্রক্রিয়াতে এই কার্যক্রমের সাথে এধরনের ইনসিডেন্ট কিন্তু নতুন নয়। তাই আমরা প্রস্তুত থাকি, আমাদের দায়িত্ব পালন করি, পাশাপাশি পেশাগতভাবে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে থাকি। যদি আমরা ওভারল একটা স্ট্যাটিস্টিক্স নেই, মোটা দাগে সীমান্তে স্থিতিশীলতা সীমান্তের সুরক্ষা আমরা এখন পর্যন্ত মনে হয় আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি। যে ধরনের চ্যালেঞ্জ আসছে এগুলো আসবে এবং এগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে। মাহবুব মুর্শেদ বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে যোগাযোগ সহজ হবে। একটি পুরোনো ছবি, অসম্পূর্ণ ভিডিও কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য উদ্বেগ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন উদ্বেগ থাকলে আগেই অবহিত করুন। আপনাদের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করুন, পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি পরিচালক আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষা বিজিবির মূল দায়িত্ব। সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তসহ সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিজিবি পুরোপুরি প্রস্তুত। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে বিজিবি সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি। সে প্রস্তুতি চলছে এবং তারা আনহার্ম আছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে সহায়তা জোরদার করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। দূরত্ব বা দুর্গমতার কারণে কোনো এলাকার মানুষ যেন নিরাপত্তা সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, এটাই আমাদের লক্ষ্য। ঢাকা মহানগরীতে বিজিবির দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের ভেতর ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকার ১৮৩টি মণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে এবং দুর্গম এলাকায় ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল এবং ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানি রোধে সংবেদনশীল তথ্য যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যথাস্থানে পৌঁছানো যায়। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মন্ডপগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনী। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১ হাজার ৫৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন ও ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয় এবং ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়।

মানবপাচার রোধে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৪২ জনকে উদ্ধার এবং ২০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিযানে ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষায় বিজিবি তার পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ সদস্য দ্রুত ফিরবেন: বিজিবি

আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার শশীদল সীমান্ত এলাকায় মাদক উদ্ধারে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক হওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে খুব দ্রুতই দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান। শুক্রবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে তাদের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে। আটককৃতরা বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি ও জঙ্গলবেষ্টিত ওই সীমান্তের টপোগ্রাফির কারণে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সেখানে এই বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সর্বাত্নক সহযোগিতা করছি। আমরা আশাবাদী খুব শিগগিরই আমরা এটা সম্পন্ন করতে পারব আনহার্ম, এটা আমরা সেভাবেই যোগাযোগ রেখেছি। আমাদের যে ঐতিহ্যবাহী বাহিনী এবং আমরা যেভাবে এই দায়িত্ব, রেসপন্সিবিলিটিস পালন করে আসছি, এই প্রক্রিয়াতে এই কার্যক্রমের সাথে এধরনের ইনসিডেন্ট কিন্তু নতুন নয়। তাই আমরা প্রস্তুত থাকি, আমাদের দায়িত্ব পালন করি, পাশাপাশি পেশাগতভাবে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও আমরা আমাদের সব ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে থাকি। যদি আমরা ওভারল একটা স্ট্যাটিস্টিক্স নেই, মোটা দাগে সীমান্তে স্থিতিশীলতা সীমান্তের সুরক্ষা আমরা এখন পর্যন্ত মনে হয় আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছি। যে ধরনের চ্যালেঞ্জ আসছে এগুলো আসবে এবং এগুলোকে মোকাবেলা করতে হবে। মাহবুব মুর্শেদ বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানসহ দায়িত্বপ্রাপ্তদের মাঝে যোগাযোগ সহজ হবে। একটি পুরোনো ছবি, অসম্পূর্ণ ভিডিও কিংবা যাচাই না করা বক্তব্য উদ্বেগ ও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি করতে পারে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোন উদ্বেগ থাকলে আগেই অবহিত করুন। আপনাদের মাধ্যমে সনাতন ধর্মের ভাইবোনদের আশ্বস্ত করতে চাই, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করুন, পরিবার নিয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসবে অংশ নিন।

সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি পরিচালক আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষা এবং দেশের অখণ্ডতা রক্ষা বিজিবির মূল দায়িত্ব। সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তারা বদ্ধপরিকর। এছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তসহ সব ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিজিবি পুরোপুরি প্রস্তুত। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে বিজিবি সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি। সে প্রস্তুতি চলছে এবং তারা আনহার্ম আছে। পরিস্থিতির প্রয়োজনে সহায়তা জোরদার করার প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। দূরত্ব বা দুর্গমতার কারণে কোনো এলাকার মানুষ যেন নিরাপত্তা সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, এটাই আমাদের লক্ষ্য। ঢাকা মহানগরীতে বিজিবির দায়িত্বের পরিধি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজিবি একটি সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত সারা দেশে ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সীমান্তের আট কিলোমিটারের ভেতর ১ হাজার ৪২৫টি, ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের তিন কিলোমিটারের মধ্যে ১ হাজার ১১৯টি এবং দুর্গম এলাকার ১৮৩টি মণ্ডপ রয়েছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় বিজিবি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে এবং দুর্গম এলাকায় ১৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে মনিটরিং সেল এবং ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গুজব ও সাম্প্রদায়িক উসকানি রোধে সংবেদনশীল তথ্য যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। এলাকার প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মণ্ডপগুলোর সরেজমিন পর্যবেক্ষণ ও রেকি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যাতায়াতের পথ, স্থানীয় পরিবেশ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত যথাস্থানে পৌঁছানো যায়। দুর্গম ও দূরবর্তী এলাকার মন্ডপগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিজিবি প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালামাল জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, স্বর্ণ, বস্ত্র ও প্রসাধনী। একই সময়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ইয়াবা, ৪০ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ১৬ হাজার কেজি গাঁজা, ৯ কেজি হেরোইন এবং ২৮ হাজার বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১ হাজার ৫৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ৭৮টি পিস্তল, ৭টি রাইফেল, ১টি এসএমজি, ৭টি গ্রেনেড, ১২টি মাইন ও ৩ হাজার ২১৩ রাউন্ড গোলাবারুদ জব্দ করা হয় এবং ১ হাজার ৯৫৭ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়।

মানবপাচার রোধে চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ৪২ জনকে উদ্ধার এবং ২০ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন অভিযানে ১৫৮ মেট্রিক টন রাসায়নিক সার, ১ লাখ ২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল এবং ১৫ হাজার লিটার ভোজ্য তেল জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২৩টি জেলায় ১৮২টি ঘটনায় ১ হাজার ২৭৫ জনকে অবৈধভাবে পুশ-ইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। সীমান্ত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং মানুষের জীবন ও মর্যাদা সুরক্ষায় বিজিবি তার পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।