ঢাকা ০৩:২২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কাতারে অবৈধ প্রবাসীদের ফিরে যেতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কাতারে যেসব প্রবাসী রেসিডেন্সি বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সহায়তা নিয়ে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট। সম্প্রতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগটির ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি জানান, যেসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে পুলিশের সিআইডি শাখায় যোগাযোগ করলে তাদের আইনানুগভাবে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

ভিসা আইন লঙ্ঘন এবং অবৈধ ফ্রি ভিসা ব্যবসার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মেজর আল-বুরাইদি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে এই জরিমানার অংক এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া স্পন্সর বা নিয়োগকর্তারা যদি কর্মীর আকামা বা আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের প্রতিটি আইডি কার্ডের বিপরীতে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে। অনুষ্ঠানে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরে মেজর আল-বুরাইদি জানান, অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল।

অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য কোথাও কাজ করা বা কর্মস্থল থেকে পালিয়ে আসার মতো বিষয়গুলো রোধে নিয়মিত কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মেজর আল-বুরাইদি স্পষ্ট করেন যে, সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার মূলত একটি সাময়িক অবস্থানের কেন্দ্র, কোনো শাস্তিমূলক কারাগার নয়। দেশে ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রবাসীদের জন্য সেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত ও সুষম খাবারের পাশাপাশি নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। বরং এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

রেসিডেন্সি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট কিংবা বিভিন্ন ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব কেন্দ্রে সমস্যার সমাধান না হলে, দোহা সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। রেসিডেন্সিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

কাতারে অবৈধ প্রবাসীদের ফিরে যেতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশনা

আপডেট সময় : ০২:২৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

কাতারে যেসব প্রবাসী রেসিডেন্সি বা আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে অবস্থান করছেন, তাদের আত্মগোপনে না থেকে স্বেচ্ছায় পুলিশের সহায়তা নিয়ে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট। সম্প্রতি আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দিয়েছেন বিভাগটির ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি। তিনি জানান, যেসব প্রবাসীর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই, তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে পুলিশের সিআইডি শাখায় যোগাযোগ করলে তাদের আইনানুগভাবে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

ভিসা আইন লঙ্ঘন এবং অবৈধ ফ্রি ভিসা ব্যবসার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মেজর আল-বুরাইদি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ ধরনের অপরাধের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে এই জরিমানার অংক এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত বাড়তে পারে। এছাড়া স্পন্সর বা নিয়োগকর্তারা যদি কর্মীর আকামা বা আইডির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নবায়ন করতে ব্যর্থ হন, তবে তাদের প্রতিটি আইডি কার্ডের বিপরীতে ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে। অনুষ্ঠানে ভিসাসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন ও অবৈধ ভিসা ব্যবসার শাস্তির বিষয়টিও কঠোরভাবে তুলে ধরে মেজর আল-বুরাইদি জানান, অবৈধ ভিসা বা ফ্রি ভিসা ব্যবসার সাথে জড়িত পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল।

অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্য কোথাও কাজ করা বা কর্মস্থল থেকে পালিয়ে আসার মতো বিষয়গুলো রোধে নিয়মিত কঠোর আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মেজর আল-বুরাইদি স্পষ্ট করেন যে, সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেন্টার মূলত একটি সাময়িক অবস্থানের কেন্দ্র, কোনো শাস্তিমূলক কারাগার নয়। দেশে ফেরত যাওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রবাসীদের জন্য সেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত ও সুষম খাবারের পাশাপাশি নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা হয়। বরং এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়। আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে।

রেসিডেন্সি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট কিংবা বিভিন্ন ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব কেন্দ্রে সমস্যার সমাধান না হলে, দোহা সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে সরাসরি যোগাযোগ করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। রেসিডেন্সিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রবাসীরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট কিংবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নিতে পারেন।