লাইসেন্স ছাড়া চলছিল টুপটুপ রিসোর্ট, আগেই ঝুঁকিপূর্ণ বলে নোটিশ
- আপডেট সময় : ০৪:১২:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে অবস্থিত কাঠের তৈরি ‘টুপটুপ রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং দশজনের বেশি আহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ এ তথ্য জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, রিসোর্টটি কোনো ধরনের অনুমোদন বা বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। আজ রিসোর্টটিতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হন। ১৭ অক্টোবর (শনিবার) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মহাপরিচালক জানান, গত জুন মাসে রিসোর্টটি পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। সে সময় অগ্নিনিরাপত্তার গুরুতর ঘাটতি থাকায় রিসোর্টটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। তিনতলা এই কাঠের রিসোর্টটির নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ ছিল। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে আগুনের সূত্রপাত হয়।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের টিম কাজ শুরু করে। তবে দুর্গম এলাকার কারণে নিকটতম ফায়ার স্টেশন থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ছিল প্রায় ২২ কিলোমিটার। আগুন কীভাবে লেগেছে সে বিষয়ে এখনই কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, কোনো অনুমানের ভিত্তিতে আগুনের কারণ নির্ধারণ করা সমীচীন হবে না। এছাড়া, নোটিশ পাওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রিসোর্টটি চালু রাখার বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে।
কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন এলাকাগুলোতে কাঠ ও দাহ্য উপকরণে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে মহাপরিচালক গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেই। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পর্যটন অ্যাসোসিয়েশনগুলোর মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তাগুলো মালিকপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি। সামনে শুষ্ক মৌসুম আসায় এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুরান ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হয়। মহাপরিচালক জানান, সরু রাস্তা ও ভবনের মধ্যে অপর্যাপ্ত দূরত্বের কারণে ফায়ার সার্ভিসের বড় চ্যালেঞ্জ হলো জরুরি অবস্থায় দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছানো। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার সরু এলাকায় চলাচলের উপযোগী বিশেষ ধরনের তিন চাকার যান ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি, যেকোনো ভবন নির্মাণের সময় সরকারি বিধিবিধান ও বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর তিনি পুনরায় জোর দেন। এসব কারণে অগ্নিনির্বাপণকারী যানবাহন ও সরঞ্জাম নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।


























