প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ানোর পরিকল্পনা সরকারের, জানালেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তাদের বিদ্যমান ভাতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এই ভাতা বাড়ানো হবে, যাতে এই জনগোষ্ঠীর মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করতে পারেন। বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির (বিপিকেএস) সঙ্গে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের যথাযথ মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা সরকার এবং সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। অতীতে এ ক্ষেত্রে যেসব সীমাবদ্ধতা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করছে।
প্রশাসনিক ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধীদের সহজগম্যতা বাড়াতে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আদালতগুলোতে সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার ওপর আলোকপাত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তাদের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে, যাতে সাংকেতিক ভাষা জানা কর্মীরা সেখানে উপস্থিত থাকেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে। এ বিষয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’।
পরিসংখ্যান ব্যুরোকে প্রতিবন্ধীদের প্রকৃত সংখ্যা নিরুপণে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নারী প্রতিবন্ধীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। প্রতিবন্ধী কৃষকদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা তৈরি এবং সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টিও সরকার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখছে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে প্রতিবন্ধীবান্ধব বাস চালুর পাশাপাশি পিংক বাসসেবা আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এখন থেকে নতুন কোনো ভবনের নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের প্রবেশযোগ্যতা নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একইভাবে প্রতিবন্ধী নারীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিতের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজকল্যাণ, আইন এবং নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা তাদের অধিকার আদায়ের পথকে আরও মসৃণ করবে। অনুষ্ঠানে বিপিকেএস’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আব্দুস সাত্তার দুলালের সঞ্চালনায় প্রায় ৩০ জন প্রতিনিধি তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় মো. মহসিন নামে এক প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ প্রধানমন্ত্রীকে একটি ক্যাপ উপহার দিলে তিনি নিজে মঞ্চ থেকে নেমে তা গ্রহণ করেন এবং ওই ক্রীড়াবিদের দলকে বিদেশে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীদের জীবন সহজ করতে সরকার সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করবে। এই মতবিনিময় সভায় সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার উপস্থিত ছিলেন। প্রতিবন্ধীদের সংসদে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার প্রস্তাবটি সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে দলীয় ফোরামে আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী সভায় জানান। এসব সমস্যা অনুধাবন করে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করবে।’।


























