হুমায়ুন কবির -: সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায়
- আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি ছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী বিচারপ্রক্রিয়া চলতে পারে, তবে নাগরিকের বিষয়টি জানার অধিকার থাকা সত্ত্বেও এক্ষেত্রে প্রক্রিয়ায় ত্রুটি ছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা খতিয়ে দেখার জন্য দুই পক্ষের মধ্যে কথাবার্তা বলছি। তবে এ ঘটনায় তথ্য বিনিময়, যোগাযোগ ও প্রক্রিয়াগত ঘাটতি কোথায় হয়েছে, তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ঘটনার বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যেহেতু বাংলাদেশ এবং সৌদি আরব উভয় দেশই জেনেভা কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী, তাই স্বাভাবিকভাবেই এ ধরনের বিষয়ে তথ্যের আদান-প্রদান প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু কোথায় এবং কেন সেই প্রক্রিয়ায় ঘাটতি দেখা দিল, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। মৃত্যুদণ্ড ইতিমধ্যে কার্যকর হয়ে যাওয়ায় এখন ব্লাড মানি বা ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহাসিক উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, সরকার এই সম্পর্ককে আরও নতুন উচ্চতায় নিতে আগ্রহী। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে কনস্যুলার সেবা প্রদান এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণের সুযোগ না পাওয়াটা হতাশাজনক। ওই দুই ব্যক্তি বাংলাদেশি কি না এবং তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বাইরে আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বর্তমান সরকারের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ঐতিহাসিক।
উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানতে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব মো. নজরুল ইসলাম ঢাকায় সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ. বিন আবিয়াহর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সৌদি সরকারকে পাঠানো আগের কূটনৈতিক পত্রের অনুলিপি হস্তান্তর করা হয় এবং জরুরি ভিত্তিতে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। মূলত কোনো দেশের নাগরিক বিদেশে আটক বা বিচারের মুখোমুখি হলে সংশ্লিষ্ট দেশকে তা জানানোর যে আন্তর্জাতিক প্রথা রয়েছে, তা এখানে অনুসৃত হয়নি বলেই ঢাকা মনে করছে।


























