খুলনায় ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
খুলনা মহানগরীতে মাত্র ১৫ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকালে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় এবং সন্ধ্যার পর জিন্নাহপাড়া এলাকায় এই ঘটনাগুলো ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, দুটি ঘটনার পেছনেই মাদক ব্যবসাসংক্রান্ত বিরোধ বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাত পৌনে আটটার দিকে নগরের জিন্নাহপাড়া এলাকার বউবাজারের সাত নম্বর গলির মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান খুশি (২৫) নামের এক গৃহবধূ।
স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরপরই মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহত খুশি জিন্নাহপাড়ার খোকন শেখের মেয়ে এবং সুমন সরদারের স্ত্রী। লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, খুশির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের সন্ধানে অভিযান চলছে। বাসা থেকে কয়েক মিটার দূরে আগে থেকে অবস্থান করা দুই দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় তথ্যমতে, নিহত খুশি ও তাঁর স্বামী সুমন সরদার ওরফে ব্লেড বাবু দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে মাদক-সংশ্লিষ্ট বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। তিনি বলেন, ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলাও রয়েছে।
এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে নগরের পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার খাদেমুল উলুম মাদ্রাসার সামনে তাওহিদুল ইসলাম (৩২) নামের এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় কয়েকজন যুবকের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা গুলি চালালে তাওহিদুলের পিঠে গুলি লাগে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোটরসাইকেল ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত তাওহিদুল কারাবন্দী খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন জানান, প্রতিপক্ষ গ্রুপের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।
উল্লেখ্য যে, খুলনা মহানগরে অপরাধীদের অন্তত ১০টি শীর্ষ চক্র সক্রিয় রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিশোধের জেরে এসব চক্রের মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে খুলনা মহানগরে ৩৩টি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৩১টির রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।

























