ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ফ্ল্যাট জব্দ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রয় বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। লর্ডশিপ রিজেন্টস পার্কের কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ২৪০ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তিটি জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার (এনসিএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে অর্থ পাচার, জালিয়াতি ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। আনিসুজ্জামান চৌধুরী তার ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করলেও যুক্তরাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলো পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এনসিএ গত বছর আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে তার এই ফ্ল্যাট কেনার অর্থের বৈধ উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি ২০১৩ সালে তার নিজস্ব কোম্পানি ‘রনি ৪২ লিমিটেড’-এর নামে ১২.৪ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে এই সম্পত্তিটি ক্রয় করেছিলেন। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনসিএ’র তদন্ত এড়াতে এবং ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা গোপন রাখতে আনিসুজ্জামান চৌধুরী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১ পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে এটি হস্তান্তরের নাটক সাজান। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঘুরেফিরে এর নিয়ন্ত্রণ পরবর্তীতে তার স্ত্রী ও দুই কন্যার হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই জালিয়াতি প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। নথিপত্রে ভুয়া স্বাক্ষরের জন্য ডেভিড ক্যামেরন, রিচার্ড নিক্সন এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ক্রিস ব্রাউনের নাম ব্যবহার করা হয়, যা আইনি দলিলে তাদের জালিয়াতির মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বিচারপতি কারেন স্টেইন আদালতে স্পষ্টভাবে বলেন, এই সম্পত্তি ক্রয়ের অর্থ যে অবৈধ, তার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিসংগত প্রমাণ রয়েছে। তবে আনিসুজ্জামান চৌধুরী ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। তার ভাষ্যমতে, তিনি আইনি পরামর্শ মেনে চলার কারণে আপাতত এই জব্দ আদেশের বিরোধিতা করেননি, তবে এনসিএ যদি দেওয়ানি মামলা করে তবে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে তিনি তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইন অনুযায়ী ফ্ল্যাটটি অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এনসিএর তথ্যমতে, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তাদের বিদেশি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। এর আগে চলমান সিভিল ইনভেস্টিগেশনের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুন মাসে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি এনসিএ জব্দ করেছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রীর ভাইয়ের ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ফ্ল্যাট জব্দ

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রয় বা হস্তান্তরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন দেশটির হাইকোর্ট। লর্ডশিপ রিজেন্টস পার্কের কাছাকাছি অবস্থিত প্রায় ১৫ মিলিয়ন পাউন্ড বা প্রায় ২৪০ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তিটি জব্দ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় অপরাধ সংস্থার (এনসিএ) আবেদনের প্রেক্ষিতে অর্থ পাচার, জালিয়াতি ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। আনিসুজ্জামান চৌধুরী তার ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের বিষয়টি অস্বীকার করলেও যুক্তরাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাগুলো পুরো পরিবারের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এনসিএ গত বছর আনিসুজ্জামান চৌধুরীকে তার এই ফ্ল্যাট কেনার অর্থের বৈধ উৎস সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি ২০১৩ সালে তার নিজস্ব কোম্পানি ‘রনি ৪২ লিমিটেড’-এর নামে ১২.৪ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে এই সম্পত্তিটি ক্রয় করেছিলেন। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, এনসিএ’র তদন্ত এড়াতে এবং ফ্ল্যাটের প্রকৃত মালিকানা গোপন রাখতে আনিসুজ্জামান চৌধুরী ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১ পাউন্ডের বিনিময়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে এটি হস্তান্তরের নাটক সাজান। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ঘুরেফিরে এর নিয়ন্ত্রণ পরবর্তীতে তার স্ত্রী ও দুই কন্যার হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, এই জালিয়াতি প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত পরিকল্পিত। নথিপত্রে ভুয়া স্বাক্ষরের জন্য ডেভিড ক্যামেরন, রিচার্ড নিক্সন এবং জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ক্রিস ব্রাউনের নাম ব্যবহার করা হয়, যা আইনি দলিলে তাদের জালিয়াতির মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। বিচারপতি কারেন স্টেইন আদালতে স্পষ্টভাবে বলেন, এই সম্পত্তি ক্রয়ের অর্থ যে অবৈধ, তার পেছনে যথেষ্ট যুক্তিসংগত প্রমাণ রয়েছে। তবে আনিসুজ্জামান চৌধুরী ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দাবি করেছেন, তিনি কোনো ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নন। তার ভাষ্যমতে, তিনি আইনি পরামর্শ মেনে চলার কারণে আপাতত এই জব্দ আদেশের বিরোধিতা করেননি, তবে এনসিএ যদি দেওয়ানি মামলা করে তবে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। তবে তিনি তা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাজ্যের দুর্নীতিবিরোধী আইন অনুযায়ী ফ্ল্যাটটি অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশ থেকে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছে। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এনসিএর তথ্যমতে, ১৯৯২ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত তাদের বিদেশি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৯৫ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। এর আগে চলমান সিভিল ইনভেস্টিগেশনের অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের জুন মাসে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন প্রায় ১৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সম্পত্তি এনসিএ জব্দ করেছিল।