বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সংস্কার জরুরি: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:৩৪:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
বর্তমান বিশ্বে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সশস্ত্র সংঘাত এবং মানবিক সংকট যে হারে বাড়ছে, তাতে বহুপাক্ষিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি। জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে ২৪ অক্টোবর শনিবার দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ বহুপাক্ষিকতার মূলনীতির প্রতি গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় জাতিসংঘের অর্থবহ সংস্কারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি জাতিসংঘ চায় যা আরও বেশি প্রতিনিধিত্বমূলক, স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে।
প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুসংহত করতে, আইনের শাসন নিশ্চিত করতে এবং মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে জবাবদিহিমূলক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির বিষয়ে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্ব করার সুযোগ পাওয়াটা বহুপাক্ষিক কর্মকাণ্ডে সরকারের সক্রিয় অংশগ্রহণের নতুন অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব কেবলমাত্র কথার ওপর নয়, বরং বাস্তব কর্মকাণ্ড ও গভীর সংহতির ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বৃদ্ধি, লিঙ্গসমতা এবং বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রমে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘ একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে, মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
টেকসই উন্নয়নের ২০৩০ এজেন্ডা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়; বরং উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন, প্রযুক্তির হস্তান্তর এবং সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সংলাপের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, রাষ্ট্রের সার্বভৌম সমতা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি। সবশেষে প্রতিমন্ত্রী সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা সম্মিলিতভাবে কাজের মাধ্যমে আস্থা পুনরুদ্ধার করি, বিভেদ মুছে ফেলি এবং এমন একটি পৃথিবী গড়ে তুলি যেখানে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধি সবার মাঝে সমভাবে বণ্টিত হবে। জাতিসংঘ দিবসটি বৈশ্বিক সংস্থায় সনদের দীর্ঘস্থায়ী গুরুত্ব এবং ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা আমাদের নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।


























