ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ক্রসফায়ার নিয়ে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজনবোধে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতেও পিছপা হবে না—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন আইজিপি। তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে বিষয়টি নিয়ে ২৬ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলেছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইজিপি যে মন্তব্য করেছেন, তা মূলত অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়েই তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে শব্দটি উল্লেখ করেননি।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব পালনকালে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের সংঘবদ্ধ অপরাধী বা হামলাকারীদের সরাসরি প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ প্রায় ১৭৬টি হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সমালোচনা করে বিবৃতিও দেয়া হয়েছে।

আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আত্মরক্ষার আইনি অধিকার রয়েছে। মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইজিপি মূলত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মানবাধিকার সমুন্নত রেখে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ক্রসফায়ার নিয়ে মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে সরকার অনুমতি দিলে এবং প্রয়োজনবোধে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতেও পিছপা হবে না—পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের একটি শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন আইজিপি। তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে বিষয়টি নিয়ে ২৬ অক্টোবর সোমবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলেছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা এ কে এম কামরুল আহসানের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইজিপি যে মন্তব্য করেছেন, তা মূলত অপরাধ দমনে পুলিশের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়েই তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি প্রদানের লক্ষ্যে শব্দটি উল্লেখ করেননি।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, বাংলাদেশ পুলিশ রাষ্ট্রের প্রধান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও শান্তি বজায় রাখতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দায়িত্ব পালনকালে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের সংঘবদ্ধ অপরাধী বা হামলাকারীদের সরাসরি প্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হয়। বিশেষ করে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন প্রয়োগ করতে গিয়ে পুলিশ প্রায় ১৭৬টি হামলার শিকার হয়েছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধী গ্রেপ্তার, অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। টিআইবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সমালোচনা করে বিবৃতিও দেয়া হয়েছে।

আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১-এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আত্মরক্ষার আইনি অধিকার রয়েছে। মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইজিপি মূলত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। মানবাধিকার সমুন্নত রেখে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ পুলিশ বদ্ধপরিকর বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।