ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হুতি বিদ্রোহীদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের অবকাঠামোর ওপর হামলা থেকে বিরত রাখতে বড় অঙ্কের আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব হুতিদের ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে সশরীরে তেহরানে গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে লক্ষ্য ছিল হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং রিয়াদের স্থাপনাগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করা। যদিও এই বিপুল পরিমাণ অর্থ শেষ পর্যন্ত হুতিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করাই এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য। হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরও কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।

সৌদি আরবের প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের এই তেহরান সফরকে চলমান আঞ্চলিক সংকট নিরসনের একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে রিয়াদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো উত্তেজনা হ্রাস, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতাকে সমর্থন করা। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোর সামরিক সহায়তা প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে সামরিক উপদেষ্টাদের মাধ্যমে সহায়তা দিচ্ছে। সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়া বা অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিবর্তে তারা সামরিক উপদেষ্টাদের সহায়তার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমিত রেখেছে।

ইরানের তরফ থেকে এই আলোচনায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ও সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রিয়াদের বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিতের মতো পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব এই শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেয়।

ইসরাইল হায়োমকে দেওয়া এক বক্তব্যে সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের একটি প্রধান কারণ হলো তিন বছর আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে উভয়পক্ষের ব্যর্থতা। প্রস্তাবিত এই আর্থিক প্যাকেজটি হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বেসামরিক কাঠামো পুনর্গঠন ও সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে শর্ত ছিল যুদ্ধবিরতি ও সৌদি আরবে হামলা বন্ধের। তবে বর্তমান বাস্তবতায় হুতিরা দাবি করছে, সৌদি আরব আগের চুক্তি থেকে সরে এসেছে, যা তাদের হামলার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান হুতিদের নেপথ্যে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এ অভিযোগকে সামনে রেখেই তারা হামলার পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হুতি বিদ্রোহীদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবের অবকাঠামোর ওপর হামলা থেকে বিরত রাখতে বড় অঙ্কের আর্থিক প্যাকেজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ইসরাইল হায়োমের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব হুতিদের ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এই আলোচনার অংশ হিসেবে সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী একটি হারকিউলিস সামরিক পরিবহন বিমানে সশরীরে তেহরানে গিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বিশেষ বৈঠকে লক্ষ্য ছিল হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং রিয়াদের স্থাপনাগুলোর ওপর তাদের আক্রমণ পুরোপুরি বন্ধ করা। যদিও এই বিপুল পরিমাণ অর্থ শেষ পর্যন্ত হুতিদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কিনা, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উপসাগরীয় অঞ্চলের কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হুতিদের হামলা পুরোপুরি বন্ধ করাই এ প্রস্তাবের উদ্দেশ্য। হুতিদের হামলার কারণে রিয়াদ বিমানবন্দরও কয়েক দিনের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।

সৌদি আরবের প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের এই তেহরান সফরকে চলমান আঞ্চলিক সংকট নিরসনের একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছে রিয়াদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সফরের উদ্দেশ্য হলো উত্তেজনা হ্রাস, সংলাপের পরিবেশ তৈরি এবং কাতার ও পাকিস্তানের চলমান মধ্যস্থতাকে সমর্থন করা। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন উপস্থিত ছিলেন। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় কোনো সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোর সামরিক সহায়তা প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি যুদ্ধে না জড়িয়ে সামরিক উপদেষ্টাদের মাধ্যমে সহায়তা দিচ্ছে। সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়া বা অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর পরিবর্তে তারা সামরিক উপদেষ্টাদের সহায়তার মধ্যেই নিজেদের ভূমিকা সীমিত রেখেছে।

ইরানের তরফ থেকে এই আলোচনায় অংশ নেন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি এবং ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর ইরানের হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রপ্তানি ও সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রিয়াদের বিমানবন্দর বন্ধ রাখা এবং বিনিয়োগ সম্মেলন স্থগিতের মতো পরিস্থিতির মুখে দাঁড়িয়ে সৌদি আরব এই শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নেয়।

ইসরাইল হায়োমকে দেওয়া এক বক্তব্যে সৌদি আরবের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুতিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের একটি প্রধান কারণ হলো তিন বছর আগে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো বাস্তবায়নে উভয়পক্ষের ব্যর্থতা। প্রস্তাবিত এই আর্থিক প্যাকেজটি হুতি নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বেসামরিক কাঠামো পুনর্গঠন ও সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। বিনিময়ে শর্ত ছিল যুদ্ধবিরতি ও সৌদি আরবে হামলা বন্ধের। তবে বর্তমান বাস্তবতায় হুতিরা দাবি করছে, সৌদি আরব আগের চুক্তি থেকে সরে এসেছে, যা তাদের হামলার পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে ইরান হুতিদের নেপথ্যে সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে। এ অভিযোগকে সামনে রেখেই তারা হামলার পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছে।