ঢাকা ০৬:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চুয়েটে সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সীমিত পরিসরে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ ক্লাস ও পরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল। উপাচার্য নিয়োগ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই প্রতিবাদে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। পরদিন তাঁরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে প্রথম দিনে শুধুমাত্র এই বিভাগেই ক্লাস চালু ছিল। বিভাগীয় প্রধান ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা জানান, ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। তবে আগামী দিনে এই হার বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তালবী জানান, অল্প উপস্থিতির কারণে ল্যাব ক্লাস স্থগিত রাখা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী ল্যাব হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে তা স্থগিত করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২১ ও ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বেশি উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ভিন্নমত থাকতে পারে।

একাডেমিক কার্যক্রম আংশিকভাবে শুরু হলেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সুরাহা হয়নি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল জানান, তারা আগের অবস্থানেই অনড় আছেন এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও তাদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা কয়েকজনকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যেই তাদের এই কার্যক্রম। আলোচনার ভিত্তিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে কমিটি।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে এবং দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান জানান, শিক্ষকদের অবস্থান ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে লিখিত ও মৌখিকভাবে কমিটিকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের অবস্থান ও আন্দোলনের কারণ তুলে ধরা হয়। এসব বিষয়ও কমিটির কাছে তুলে ধরেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনের নেতৃত্বে কয়েক জন প্রতিনিধি কমিটির সঙ্গে দেখা করেন। ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে নয় বরং অচলাবস্থা নিরসনে নিজেদের মতামত জানাতে এসেছেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়ার বিষয়টি কমিটির নজরে এনেছেন। এর মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

পরামর্শক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বরত আছেন ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বুয়েট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী। কমিটি এখন সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চুয়েটে সীমিত পরিসরে ক্লাস শুরু

আপডেট সময় : ০৩:৩২:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ ৩৬ দিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সীমিত পরিসরে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ ক্লাস ও পরীক্ষা দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ ছিল। উপাচার্য নিয়োগ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত ও সামগ্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। গত ২১ সেপ্টেম্বর নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর থেকেই প্রতিবাদে নামেন চুয়েটের শিক্ষার্থীরা। পরদিন তাঁরা কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করেন।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি বিভাগের মধ্যে প্রথম দিনে শুধুমাত্র এই বিভাগেই ক্লাস চালু ছিল। বিভাগীয় প্রধান ফৌজিয়া গুলশানা রশিদ লোপা জানান, ২১, ২২ ও ২৩ ব্যাচের ক্লাস নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। তবে আগামী দিনে এই হার বাড়বে বলে তিনি আশা করছেন। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ তালবী জানান, অল্প উপস্থিতির কারণে ল্যাব ক্লাস স্থগিত রাখা হয়েছে। রুটিন অনুযায়ী ল্যাব হওয়ার কথা থাকলেও বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে তা স্থগিত করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২১ ও ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বেশি উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের ভিন্নমত থাকতে পারে।

একাডেমিক কার্যক্রম আংশিকভাবে শুরু হলেও উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের সুরাহা হয়নি। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মুর্শেদ রাতুল জানান, তারা আগের অবস্থানেই অনড় আছেন এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও তাদের এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে আসা কয়েকজনকে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন একাডেমিক গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রধান ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক আবদুল্লাহ-আল-মামুন জানান, সব পক্ষের বক্তব্য শুনে সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার লক্ষ্যেই তাদের এই কার্যক্রম। আলোচনার ভিত্তিতে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবে কমিটি।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শিক্ষকদের সঙ্গে এবং দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক রাশিদুল হাসান জানান, শিক্ষকদের অবস্থান ও আন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে লিখিত ও মৌখিকভাবে কমিটিকে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে তাদের অবস্থান ও আন্দোলনের কারণ তুলে ধরা হয়। এসব বিষয়ও কমিটির কাছে তুলে ধরেছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনের নেতৃত্বে কয়েক জন প্রতিনিধি কমিটির সঙ্গে দেখা করেন। ওয়াসিফ রাশেদ বলেন, তারা প্রতিপক্ষ হিসেবে নয় বরং অচলাবস্থা নিরসনে নিজেদের মতামত জানাতে এসেছেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ও শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়ার বিষয়টি কমিটির নজরে এনেছেন। এর মাধ্যমে অচলাবস্থা নিরসনে দ্রুত গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

পরামর্শক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বরত আছেন ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক মো. মহিবুল আহসান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বুয়েট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যগণ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বিশ্ববিদ্যালয় অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুবুল হক পাটোয়ারী। কমিটি এখন সব পক্ষের মতামত পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।