ঢাকা ১০:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো একটি পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত শহরে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশকে পরিকল্পিতভাবে পরিচ্ছন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রমনা জনগণের সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’।

তারেক রহমান টোকিও শহরের পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে বলেন, এখানকার রাস্তাঘাটে কোনো ময়লা-আবর্জনা চোখে পড়ে না। অথচ ঢাকায় প্রতিনিয়ত আবর্জনা জমে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাবাসীকে সুস্থ রাখতে পরিবেশের উন্নয়ন ও বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা এখন জরুরি কাজ। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বায়ুদূষণ রোধ, পরিবেশের মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রচুর গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবর্জনার কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচলে ভোগান্তি এবং দূষিত বাতাসের ফলে যাতে কেউ অসুস্থ না হয়, সে জন্য কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। টোকিওর মতো ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করা গেলে তা হবে বর্তমান সরকারের একটি বড় সংস্কারমূলক সাফল্য।’ তিনি সংস্কারের সংজ্ঞায় বলেন, রাজনীতিতে সংস্কার বলতে তিনি এমন উদ্যোগকেই বোঝেন, যার সুফল প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোগ করতে পারে। সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা।’। কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে সীমিতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জনজীবনের মান উন্নয়নই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি না। তবে সরকার যেসব কাজ হাতে নিয়েছে, তা যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তবেই সমর্থন করুন যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।’ প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং প্রবাসীদের দোয়া কামনা করেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী সঞ্চালনা করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে সম্মাননা হিসেবে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। পরিশ্রম ও ধৈর্য বজায় রেখে ঐক্যের সাথে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য তিনি প্রবাসীদের উৎসাহিত করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:০৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে জাপানের রাজধানী টোকিওর মতো একটি পরিচ্ছন্ন, দূষণমুক্ত এবং স্বাস্থ্যসম্মত শহরে রূপান্তরের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ পুরো দেশকে পরিকল্পিতভাবে পরিচ্ছন্ন করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ কমিউনিটি’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। তিনি বলেন, ‘দেশের গণতন্ত্রমনা জনগণের সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।’।

তারেক রহমান টোকিও শহরের পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করে বলেন, এখানকার রাস্তাঘাটে কোনো ময়লা-আবর্জনা চোখে পড়ে না। অথচ ঢাকায় প্রতিনিয়ত আবর্জনা জমে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকাবাসীকে সুস্থ রাখতে পরিবেশের উন্নয়ন ও বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করা এখন জরুরি কাজ। প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, বায়ুদূষণ রোধ, পরিবেশের মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে প্রচুর গাছ লাগানোর কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আবর্জনার কারণে রাস্তায় মানুষের চলাচলে ভোগান্তি এবং দূষিত বাতাসের ফলে যাতে কেউ অসুস্থ না হয়, সে জন্য কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। টোকিওর মতো ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করা গেলে তা হবে বর্তমান সরকারের একটি বড় সংস্কারমূলক সাফল্য।’ তিনি সংস্কারের সংজ্ঞায় বলেন, রাজনীতিতে সংস্কার বলতে তিনি এমন উদ্যোগকেই বোঝেন, যার সুফল প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষ সরাসরি ভোগ করতে পারে। সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা।’। কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে সীমিতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন।

সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং জনজীবনের মান উন্নয়নই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘আমি বিএনপিকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি না। তবে সরকার যেসব কাজ হাতে নিয়েছে, তা যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তবেই সমর্থন করুন যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।’ প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি দেশের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান এবং প্রবাসীদের দোয়া কামনা করেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী সঞ্চালনা করেন।

এতে উপস্থিত ছিলেন জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে সম্মাননা হিসেবে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে প্রবাসীদের পরিবারের পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। পরিশ্রম ও ধৈর্য বজায় রেখে ঐক্যের সাথে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য তিনি প্রবাসীদের উৎসাহিত করেন।