ের জবাব -: তাহসিফ সৌরির মৃত অবস্থায় পাওয়ার ঘটনায়
- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর তুরাগ নদে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার হওয়া বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির (২৮) মৃত্যু নিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর বুধবার বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ চালায়। মরদেহ উদ্ধারের পর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার সময় ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পাওয়া যায় উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাট সংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসছে। যার বয়স আনুমানিক ২৮ বছর। বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে তুরাগ নদী থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন তাহসিফ। তার বাবার ভাষ্যমতে, উদ্ধারের স্থানটি তাহসিফের পরিচিত এলাকা নয় এবং তিনি কখনো সেখানে যাননি। নিখোঁজ থাকা অবস্থায় রাত দেড়টা পর্যন্ত তিনি কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কিংবা শেষ মেসেজটি কে পাঠিয়েছিলেন—তা নিয়ে পরিবারের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তার মৃত্যু কোন পরিস্থিতিতে হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কে তাকে ডেকে নিল এমন প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে।
তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানামুখী আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে গত ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়কার একটি ঘটনা। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার একটি ভিডিও চিত্র ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে তার সম্পৃক্ত থাকার বিষয়ে বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মৃত্যুর কিছুদিন আগে একটি পডকাস্টে তাহসিফ নিজেই এই অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ হিসেবে নাকচ করে দিয়েছিলেন। আলোচনা আছে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উড়োজাহাজে করে ভারতে পালানোর ভিডিও প্রচার করেছিলেন। তিনি লেখেন, গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা। তিনি আরো লেখেন, ৫ই আগস্টের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর, তার মানহানি করা হয় নানান বিষয়ে কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি কেস করতে পারেনাই।
তাহসিফ সেই পডকাস্টে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পেছনে ওই ভিডিও সংক্রান্ত অভিযোগের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি কিছু না বলে বলেছিলেন, ‘এমনটি হতে পারে।’ তার দাবি ছিল, ৫ই আগস্টের ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটানো হলেও আইনি কোনো মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই তার মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জাল আরো ঘনীভূত হচ্ছে। অভ্যুত্থানের পর চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তাহসিফ সৌরি।
নিহত তাহসিফের বন্ধু ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কর্মকর্তা কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম ফেসবুক পোস্টে এই মৃত্যুকে রাজনৈতিক কোন্দলের অংশ বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘লাশের হাতে কাদা মাখা থাকলেও শরীরের বাকি অংশ ছিল পরিচ্ছন্ন, যা স্বাভাবিক মৃত্যুর ইঙ্গিত দেয় না। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা দুর্ঘটনা হিসেবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমি এটিকে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবেই ধরব।’ এদিকে, নিজেকে তাহসিফের বন্ধু দাবি করা বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামামও নিজের ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা।
নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার বিকেলে মরদেহ পাওয়ার সময় তার পরনে সাদা পাজামা ও কালো পাঞ্জাবি ছিল। তার পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরেই পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়া তাহসিফ শেষ পর্যন্ত কোন পরিস্থিতিতে তুরাগ নদে পৌঁছালেন, তা এখন তদন্ত সাপেক্ষ বিষয়।


























