ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

রিকেলটন ও মুল্ডারের জোড়া সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার সামনে কঠিন লক্ষ্য

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কেপটাউন টেস্টের চতুর্থ দিনে রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডারের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৪০ রানের লিড নিয়ে দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ছিল ৬ উইকেট, তবে দ্রুত এক উইকেট হারালেও রিকেলটন ও মুল্ডারের দৃঢ়তায় তারা বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায়। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১৫৪ রানের অবিস্মরণীয় এক জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দুই সেশন জুড়ে চাপে রাখেন। স্কোরবোর্ডে ৫০ রান যোগ করতে হারাতে হলো আরও এক উইকেট। ছয় ও সাত নম্বরে নামা দুই ব্যাটসম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার লিডটা শুধু দেড় শ–দুই শই পার করাননি, চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর বিদায়ের পর অবশ্য আরেকটি ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কেপটাউনে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড অবশ্য আছে।

রিকেলটন ১০১ রান করে রানআউটে কাটা পড়লে ভাঙন ধরে প্রোটিয়া ইনিংসে। এরপর ১৬ রানের মধ্যে আরও তিন ব্যাটার সাজঘরে ফিরলে দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে অটল ছিলেন মুল্ডার। শেষ ব্যাটার কাগিসো রাবাদাকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। রাবাদাকে স্ট্রাইক থেকে দূরে রেখে মুল্ডার নিজেই রানের গতি সচল রাখেন এবং শেষ উইকেটে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন, যার মধ্যে ৩৩ রানই ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত প্যাট কামিন্সের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২১ বলের মোকাবেলায় ১১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংসটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৮৭ রানের লিড এনে দেয়। টেল এন্ডারে ভরা শেষ পাঁচ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা আর কতদূরই বা এগোবে—এমনটাই যখন আবহ, তখন অটল দাঁড়িয়ে গেলেন রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডার।

টেস্ট ক্রিকেটে ছয় বা তার নিচের পজিশনে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের একই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার এটি চতুর্থ ঘটনা। এর আগে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাফ ডু প্লেসি ও ডিন এলগার শেষবার এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে অতীতে ২০০২ সালে এই মাঠেই ৩৩১ রান তাড়া করে জেতার ইতিহাস রয়েছে। ফিলিপসের সেঞ্চুরি, অবশেষে ভারতকে থামাতে পারল নিউজিল্যান্ড।

আগামীকাল পঞ্চম ও শেষ দিনে কেপটাউন টেস্টের পাশাপাশি সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জটি বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। পিচে স্পিনারদের জন্য কিছুটা সুবিধা রয়েছে, যা কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমাররা কতটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটির ওপরই নির্ভর করছে সিরিজের ভাগ্য। অস্ট্রেলিয়াকে এই রান টপকে জিততে হলে তাদের ব্যাটারদের বড় ধরনের ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

রিকেলটন ও মুল্ডারের জোড়া সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার সামনে কঠিন লক্ষ্য

আপডেট সময় : ১০:৪২:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

কেপটাউন টেস্টের চতুর্থ দিনে রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডারের দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্যে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। মাত্র ৪০ রানের লিড নিয়ে দিন শুরু করা দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে ছিল ৬ উইকেট, তবে দ্রুত এক উইকেট হারালেও রিকেলটন ও মুল্ডারের দৃঢ়তায় তারা বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যায়। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১৫৪ রানের অবিস্মরণীয় এক জুটি গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের দুই সেশন জুড়ে চাপে রাখেন। স্কোরবোর্ডে ৫০ রান যোগ করতে হারাতে হলো আরও এক উইকেট। ছয় ও সাত নম্বরে নামা দুই ব্যাটসম্যান দক্ষিণ আফ্রিকার লিডটা শুধু দেড় শ–দুই শই পার করাননি, চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর বিদায়ের পর অবশ্য আরেকটি ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। কেপটাউনে এর চেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড অবশ্য আছে।

রিকেলটন ১০১ রান করে রানআউটে কাটা পড়লে ভাঙন ধরে প্রোটিয়া ইনিংসে। এরপর ১৬ রানের মধ্যে আরও তিন ব্যাটার সাজঘরে ফিরলে দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে অটল ছিলেন মুল্ডার। শেষ ব্যাটার কাগিসো রাবাদাকে নিয়ে লড়াই চালিয়ে যান তিনি। রাবাদাকে স্ট্রাইক থেকে দূরে রেখে মুল্ডার নিজেই রানের গতি সচল রাখেন এবং শেষ উইকেটে ৩৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন, যার মধ্যে ৩৩ রানই ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত প্যাট কামিন্সের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ২২১ বলের মোকাবেলায় ১১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১০টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো তাঁর এই ইনিংসটি দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২৮৭ রানের লিড এনে দেয়। টেল এন্ডারে ভরা শেষ পাঁচ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকা আর কতদূরই বা এগোবে—এমনটাই যখন আবহ, তখন অটল দাঁড়িয়ে গেলেন রায়ান রিকেলটন ও উইয়ান মুল্ডার।

টেস্ট ক্রিকেটে ছয় বা তার নিচের পজিশনে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের একই ইনিংসে সেঞ্চুরি করার এটি চতুর্থ ঘটনা। এর আগে ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাফ ডু প্লেসি ও ডিন এলগার শেষবার এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন। জয়ের জন্য ২৮৮ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নামা অস্ট্রেলিয়াকে অতীতে ২০০২ সালে এই মাঠেই ৩৩১ রান তাড়া করে জেতার ইতিহাস রয়েছে। ফিলিপসের সেঞ্চুরি, অবশেষে ভারতকে থামাতে পারল নিউজিল্যান্ড।

আগামীকাল পঞ্চম ও শেষ দিনে কেপটাউন টেস্টের পাশাপাশি সিরিজ নির্ধারণী লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য চ্যালেঞ্জটি বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। পিচে স্পিনারদের জন্য কিছুটা সুবিধা রয়েছে, যা কেশব মহারাজ ও সাইমন হারমাররা কতটা কাজে লাগাতে পারেন, সেটির ওপরই নির্ভর করছে সিরিজের ভাগ্য। অস্ট্রেলিয়াকে এই রান টপকে জিততে হলে তাদের ব্যাটারদের বড় ধরনের ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে।