ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দেবে যুক্তরাষ্ট্র, ব্যয় ২১০ কোটি ডলার
- আপডেট সময় : ০৯:৪৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর শুক্রবার জানিয়েছে, কিয়েভের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব এরই মধ্যে অনুমোদন করা হয়েছে। এ বিশাল অস্ত্র চালানের জন্য আনুমানিক ২১০ কোটি ডলার ব্যয় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো মূলত কানাডা, জার্মানি ও নরওয়ের দেওয়া অর্থায়নে কেনা হচ্ছে। ‘ইউএস জাম্পস্টার্ট’ কর্মসূচি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ইউক্রেন সাপোর্ট লোন’ প্রকল্পের মাধ্যমে এই অর্থ সরবরাহ করা হবে। ইউক্রেন দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছে, হামলা ঠেকাতে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তাদের জরুরিভিত্তিতে আরও ক্ষেপণাস্ত্র দরকার। অস্ত্র বিক্রির চুক্তি কার্যকর করতে সাধারণত কয়েক বছর লাগে।
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ইউক্রেনকে প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম দেওয়ার অন্যতম বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে প্যাট্রিয়ট সিস্টেমকে অত্যন্ত কার্যকর মনে করে ইউক্রেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত সোমবার জানিয়েছিলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহের জন্য ইউক্রেন প্রায় এক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষায় ছিল। এর মধ্যেই রাশিয়া তাদের জ্বালানি ও বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রুশ সামরিক বাহিনী ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে।
তবে দ্রুত এসব অস্ত্র হাতে পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ ক্ষীণ। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব ক্ষেপণাস্ত্র এখনো তৈরিই হয়নি। ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিক পর্যন্ত এগুলো ইউক্রেনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুবই কম। পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের প্রতি সরবরাহ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানাচ্ছে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অস্ত্রভান্ডারে থাকা মজুত থেকে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আগেভাগে দিয়ে পরে নতুনগুলো দিয়ে সেই ঘাটতি পূরণের বিষয়টিও বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। ২০৩০-এর দশকের শুরুর দিকের কয়েকটা বছর পার না হওয়া পর্যন্ত এসব অস্ত্র ইউক্রেনে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
এদিকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিলম্ব নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল বাণিজ্যের চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের হামলা চালানোর বিষয়টিকে ট্রাম্প নেতিবাচকভাবে দেখছেন এবং এ নিয়ে জেলেনস্কির সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, ইউক্রেনের অনাগ্রহের কারণেই ওই হামলাগুলো বন্ধ হচ্ছে না।
পেন্টাগনের তথ্যমতে, ইউক্রেনকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে মিত্রদেশগুলোর অনুদানে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। তবে বর্তমান বাস্তবতায় ইউক্রেনের জরুরি প্রয়োজনের সঙ্গে অস্ত্র উৎপাদন ও সরবরাহের গতির বড় ধরনের ব্যবধান থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, পেন্টাগন ইউক্রেনের অনুরোধে সাড়া দিয়ে কত দ্রুত এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সরবরাহ করতে পারে।

























