ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ছাত্রদল নেতা হত্যায় এমপি-পুত্র নূরুজ্জামানকে ফের রিমান্ডের আবেদন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাটোরের ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গুরুদাসপুর আমলি আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ এই আবেদন জানায়। নূরুজ্জামান নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল আজিজের বড় ছেলে।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য নিয়মিত আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নূরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গত ২৬ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর প্রথম দফার রিমান্ডে নূরুজ্জামান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই করার জন্য পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। ১২ দিন রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। শাকিলের বাবা রবিউল করিমের করা আগের মামলাটি পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এ ঘটনার তদন্তে নূরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হামলার ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল করিম আগেই একটি মামলা করেছিলেন। শাকিলের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয় এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি হিসেবে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মো. আলামিন (২৫) ও আনিছুর রহমান (২৬) নামের আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিবি। এই মামলার সূত্র ধরে এমপির ছেলেদের অনুসারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ছাত্রদলের দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নিহত শাকিল ছিলেন এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের অনুসারী, যা এমপির দুই ছেলের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে।

এদিকে মামলার বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে নাটোর জেলা বিএনপি একটি বিশেষ সভা করেছে। সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ও সদস্যসচিব আসাদুজ্জামানসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপি আবদুল আজিজের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই; বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে। পাশাপাশি এমপিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও এবং তাঁর ছেলের অপরাধের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, সভায় শহীদ শাকিল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাঁদের কাছে আসা তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

গত কয়েক দিনে নাটোরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ছাত্রদল নেতার জানাজার পর এমপির ছেলের ঘনিষ্ঠ প্রবাসীর শপিংমলে হামলা ও লুটের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ছাত্রদল নেতা হত্যায় এমপি-পুত্র নূরুজ্জামানকে ফের রিমান্ডের আবেদন

আপডেট সময় : ১১:০৯:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

নাটোরের ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল আজিজের বড় ছেলে নূরুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁকে গুরুদাসপুর আমলি আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ এই আবেদন জানায়। নূরুজ্জামান নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আবদুল আজিজের বড় ছেলে।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাদ্দাম হোসেনের আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য নিয়মিত আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে নূরুজ্জামানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। ডিবির ওসি নজরুল ইসলাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গত ২৬ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর প্রথম দফার রিমান্ডে নূরুজ্জামান বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই করার জন্য পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত হন গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম। ১২ দিন রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। শাকিলের বাবা রবিউল করিমের করা আগের মামলাটি পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। এ ঘটনার তদন্তে নূরুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হামলার ঘটনায় শাকিলের বাবা রবিউল করিম আগেই একটি মামলা করেছিলেন। শাকিলের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয় এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামি হিসেবে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার মো. আলামিন (২৫) ও আনিছুর রহমান (২৬) নামের আরও দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে ডিবি। এই মামলার সূত্র ধরে এমপির ছেলেদের অনুসারীদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টিও সামনে এসেছে। ছাত্রদলের দলীয় সূত্র অনুযায়ী, নিহত শাকিল ছিলেন এমপির ছোট ছেলে মাহমুদুজ্জামানের অনুসারী, যা এমপির দুই ছেলের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। দুই ভাইয়ের অনুসারীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে।

এদিকে মামলার বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে নাটোর জেলা বিএনপি একটি বিশেষ সভা করেছে। সভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজ ও সদস্যসচিব আসাদুজ্জামানসহ শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এমপি আবদুল আজিজের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পদের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জেলা কমিটির নেই; বিষয়টি কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানানো হবে। পাশাপাশি এমপিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও এবং তাঁর ছেলের অপরাধের বিষয়টিও কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে আনা হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, সভায় শহীদ শাকিল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাঁদের কাছে আসা তথ্য-প্রমাণ কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

গত কয়েক দিনে নাটোরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ছাত্রদল নেতার জানাজার পর এমপির ছেলের ঘনিষ্ঠ প্রবাসীর শপিংমলে হামলা ও লুটের ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশ বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রেখেছে।