ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ইডির কার্যালয় থেকে বের হতেই গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রতারণার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কলকাতার সল্টলেক দপ্তরে তলব করা হয়েছিল সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। বুধবার দুপুরে ইডির সমন পেয়ে তিনি ওই দপ্তরে উপস্থিত হন। সেখানে টানা চার ঘণ্টা ইডি কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর দপ্তর থেকে বের হতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পরই সাবেক এই মন্ত্রীকে নেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে।

তবে ঠিক কোন মামলায় এবং সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মূলত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের প্রতিষ্ঠিত ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি করে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় মামলা করেন।

অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো

  • কলকাতার ২৪টি প্রখ্যাত দুর্গাপূজা দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে ‘প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস’ বিক্রি করত মাস আর্ট।
  • প্রতিটি ডোনার পাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার রুপি।
  • ইউনেসকোর নাম ও অফিশিয়াল লোগো ব্যবহার করে এসব পাস বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • অভিযোগকারীর মতে, ইন্দ্রনীল সেন বা তাঁর স্ত্রী ইউনেসকোর কোনো আনুষ্ঠানিক অংশীদার না হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের অংশীদার হিসেবে দাবি করেছেন।
  • ২০২২ সালে ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৬১ হাজার ডোনার পাস বিক্রি করে মোট ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি তোলার দাবি করা হলেও অর্থের ব্যবহারের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

আইনি পদক্ষেপ ও ইডির তল্লাশি অভিযান

ইউনেসকো ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই বৈশ্বিক পরিচিতিকে পুঁজি করেই অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে পাস বিক্রি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার এড়াতে ইন্দ্রনীল সেন প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও আদালত তাঁকে কোনো অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেননি। এর আগেই ইডির তদন্তকারী দল ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন, হুগলির খামারবাড়ি এবং তাঁর ১৫ জন আত্মীয় ও নিকটজনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ইডির কার্যালয় থেকে বের হতেই গ্রেপ্তার সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন

আপডেট সময় : ০৭:৩১:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রতারণার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) কলকাতার সল্টলেক দপ্তরে তলব করা হয়েছিল সংগীতশিল্পী ও সাবেক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। বুধবার দুপুরে ইডির সমন পেয়ে তিনি ওই দপ্তরে উপস্থিত হন। সেখানে টানা চার ঘণ্টা ইডি কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর দপ্তর থেকে বের হতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে কলকাতা পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর পরই সাবেক এই মন্ত্রীকে নেওয়া হয় কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে।

তবে ঠিক কোন মামলায় এবং সুনির্দিষ্ট কী অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মূলত ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের প্রতিষ্ঠিত ‘মাস আর্ট’ নামের একটি সংস্থার বিরুদ্ধে দুর্গাপূজার ডোনার পাস বিক্রি করে আনুমানিক ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনায় জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি বউবাজার থানায় মামলা করেন।

অভিযোগের মূল বিষয়গুলো হলো

  • কলকাতার ২৪টি প্রখ্যাত দুর্গাপূজা দেখার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে ‘প্লাটিনাম ফ্যামিলি ডোনার পাস’ বিক্রি করত মাস আর্ট।
  • প্রতিটি ডোনার পাসের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার রুপি।
  • ইউনেসকোর নাম ও অফিশিয়াল লোগো ব্যবহার করে এসব পাস বিক্রি করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • অভিযোগকারীর মতে, ইন্দ্রনীল সেন বা তাঁর স্ত্রী ইউনেসকোর কোনো আনুষ্ঠানিক অংশীদার না হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের অংশীদার হিসেবে দাবি করেছেন।
  • ২০২২ সালে ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে ৬১ হাজার ডোনার পাস বিক্রি করে মোট ৫০ থেকে ৬০ কোটি রুপি তোলার দাবি করা হলেও অর্থের ব্যবহারের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

আইনি পদক্ষেপ ও ইডির তল্লাশি অভিযান

ইউনেসকো ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর কলকাতার দুর্গাপূজাকে ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই বৈশ্বিক পরিচিতিকে পুঁজি করেই অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে পাস বিক্রি করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার এড়াতে ইন্দ্রনীল সেন প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেও আদালত তাঁকে কোনো অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দেননি। এর আগেই ইডির তদন্তকারী দল ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাসভবন, হুগলির খামারবাড়ি এবং তাঁর ১৫ জন আত্মীয় ও নিকটজনের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছিল।