কাতার আমিরের হুশিয়ারি: সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়
- আপডেট সময় : ১১:৪৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের মধ্যেও কাতার নিজস্ব সক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতির প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় শূরা কাউন্সিলে দেওয়া বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
আমির জানান, গত কয়েক মাসের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে পুরো অঞ্চলকে ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে যুদ্ধ শুরুর আগেই নেওয়া দূরদর্শী বিভিন্ন নীতির কারণে কাতার এই সংকট মোকাবিলায় সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।
যুদ্ধের প্রভাব ও জ্বালানি নিরাপত্তা
- গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।
- যুদ্ধ চলাকালীন ইরান একাধিকবার কাতারের ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র ‘রাস লাফান’ স্থাপনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ভয়াবহ চাপ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন আমির। তিনি বলেন, সমুদ্রপথের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষায় আরও বেশি উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে, কাতার যুদ্ধ বন্ধ করা এবং মতবিরোধ নিরসনে কূটনৈতিক সংলাপের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি দেশটির অটল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে আমির জানান, কাতারের পররাষ্ট্রনীতি সবসময়ই ন্যায়বিচার ও সংঘাত নিরসনের পক্ষে কাজ করবে। আঞ্চলিক সংঘাতের এই সময়ে কাতারের এই বক্তব্য একদিকে যেমন নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করে, তেমনি বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সংলাপের অপরিহার্যতাকেও তুলে ধরে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের মজবুত কাঠামোর কারণে কাতার যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার সামর্থ্য রাখে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


























