জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সম্প্রসারণে প্রয়োজন ২০ লাখ ডলার
- আপডেট সময় : ১১:২৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ২৮ বার পড়া হয়েছে
নিউইয়র্কের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ ইসলামিক প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) তাদের চলমান আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে নতুন করে ২০ লাখ বা ২ মিলিয়ন ডলারের তহবিল সংগ্রহ করতে যাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান মুসল্লিদের চাহিদা পূরণ, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের জন্য উন্নত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজ হাতে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, শিক্ষামূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসা প্রতিষ্ঠানটিকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাঁরা জানান, ক্রমবর্ধমান মুসল্লির সংখ্যা, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং নতুন প্রজন্মের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশকে সমন্বিত করা, অতিরিক্ত তলা সংযোজন, লিফটের মাধ্যমে যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের জন্য ভবনকে আরও ব্যবহারোপযোগী করার উদ্যোগ রয়েছে। এ ছাড়া আধুনিক শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ও বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তার জন্য স্প্রিঙ্কলার সিস্টেম, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়নের কাজও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ভবনটিকে আরো নিরাপদ, আরামদায়ক ও কার্যকরভাবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে আগামী প্রজন্মকে মসজিদকেন্দ্রিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাকে এ উদ্যোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। আয়োজকেরা আশা করছেন, নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ধর্মপ্রাণ মুসলমান, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী ও শুভানুধ্যায়ীরা এ আয়োজনে অংশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ প্রকল্পে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশীয় মুসলমানদের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। সংবাদ সম্মেলনে জেএমসির কর্মকর্তারা প্রত্যাশা করছেন, অতীতে যেভাবে প্রবাসী মুসলমানদের সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি ধাপে ধাপে বিকশিত হয়েছে, এবারও একইভাবে সবাই এগিয়ে এলে চলমান আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
প্রকল্পের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্দেশ্যে আগামী ২৪ অক্টোবর শনিবার একটি বিশেষ ফান্ডরেইজিং ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। নিউইয়র্কের ইস্ট এলমহার্স্টের লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট ম্যারিয়ট হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত ইন্টারফেইথ স্কলার শেখ উসমান বিন ফারুক। কমিউনিটির সকল স্তরের মানুষকে এই আয়োজনে পরিবারসহ অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। ইতিমধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হলেও অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে উল্লেখযোগ্য অর্থের প্রয়োজন। অতিথি বক্তা হিসেবে থাকবেন ইসলামিক স্কলার শেখ ড. জাকির আহমেদ, জেএমসির ইমাম মাওলানা আবু জাফর বেগ এবং ইমাম শামসি আলী।
অনুষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, জনপ্রতি ২৫০ ডলার এবং চার সদস্যের পরিবারের জন্য ১ হাজার ডলার অনুদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অর্থ সংগ্রহে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান জেএমসির উন্নয়ন কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করবে বলে তারা মনে করছেন। একই সঙ্গে ২৪ অক্টোবরের ফান্ডরেইজিং ডিনারে পরিবার-পরিজনসহ অংশগ্রহণ এবং সামর্থ্য অনুযায়ী অনুদান প্রদানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত ১২ অক্টোবর সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেএমসির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও নির্বাহী কমিটির কর্মকর্তারা প্রকল্পের অগ্রগতির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। জেএমসির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ডা. নাজমুল এইচসহ অন্যান্য নীতিনির্ধারকরা। তারা জানান, ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির সেবায় কাজ করে আসছে। খান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ডা. মাহমুদুর রহমান তুহিন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফান্ডরেইজিং কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক এবং জেএমসির কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান লাবু বক্তব্য দেন। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। একই বছর আল-মামুর স্কুল এবং ইকরা লাইব্রেরিও যাত্রা শুরু করে।
জেএমসির ঐতিহাসিক ধারায় দেখা যায়, ১৯৯৭ সালে এর নতুন মসজিদ ভবন চালু হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে সম্প্রসারিত ভবনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এর আগে ২০০১ সালে হাফেজি মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়, যা বর্তমান সময়ে জামিয়া কোরআনিয়া একাডেমি নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমান উন্নয়ন প্রকল্পটি এই ধারাবাহিকতারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা বাস্তবায়িত হলে প্রতিষ্ঠানটির সেবার পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে। প্রথমদিকে সীমিত পরিসরে নামাজের ব্যবস্থা থাকলেও পরবর্তী সময়ে নিজস্ব সম্পত্তি ক্রয়, মসজিদ নির্মাণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিধি বৃদ্ধি পায়।


























