টঙ্গীর মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা: প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানাল পুলিশ
- আপডেট সময় : ১০:৩৩:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে (৩০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদ (৩০) বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে, ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। শনিবার রাতে তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংগৃহীত আলামত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা (শিশুকে নিপীড়ন করা হয়েছে) পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতের বিচারকের কাছে শিশুটি তার জবানবন্দি প্রদান করে। শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি দায়ের করেন। পুলিশের তথ্যমতে, ১৯ অক্টোবর সোমবার টঙ্গীর ওই মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের ঘটনাটি ঘটে। কয়েক দিন বিষয়টি গোপন থাকলেও, পরে স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি ঘটনার বর্ণনা দেয়।
এরপর ২১ অক্টোবর স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের উপস্থিতি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মারধরের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনার বিভিন্ন দিক নিয়ে জনমনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। একদিকে যেমন শিশুটির পরিবার নির্যাতনের বিচার দাবি করছে, অন্যদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন ভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। অধ্যক্ষের দাবি, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ৫টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এসব বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছে। ‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
অভিযুক্ত শিক্ষকদের মারধর ও লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা। শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, ঘটনার দিন তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন কেবল মেয়ের ওপর ঘটে যাওয়া নিপীড়নের বিচারের দাবি জানাতে, কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যে নয়। ভাঙচুর ও টাকা লুটের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও ন্যায়বিচারের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি।

























