ঢাকা ০১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দরপত্র ছাড়াই বিএনপি নেতাকে যাদুকাটার দুই বালুমহালের দখল হস্তান্তর

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহালের দখল কোনো ধরনের দরপত্র আহ্বান ছাড়াই স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আদেশে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হিসেবে বিবেচনা করে সোমবার বিকেলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই বিএনপি নেতার নাম নাছির মিয়া, যিনি তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। আমরা যা করেছি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাতেই করেছি।’।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের গত ২২ সেপ্টেম্বরের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহিরপুর উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং যাদুকাটা-২ বালুমহালের সাবেক ইজারাদার নাছির মিয়া ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত নদীর দুটি মহাল থেকে বালু উত্তোলন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনায় গত তিন বছরের গড় বাজারমূল্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ শতাংশ হারে দর নির্ধারণ করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অবশিষ্ট সময়ের জন্য মোট ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা মেনেই এই দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় আমাদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এবং তাদের আদেশ অনুসারেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহালটির আরেক সাবেক ইজারাদার। তাঁর মতে, নিয়ম অনুযায়ী বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা বা খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল, যা এখানে করা হয়নি। এ জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হলেও পরে তা স্থগিত হয়। আদালত তাঁদের পক্ষে আদেশ দেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য জিনান এন্টারপ্রাইজের শাহ রুবেল আহমদ ও মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের মালিক নাছির মিয়া যৌথভাবে ১০৮ কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। আইনি জটিলতায় পাঁচ মাস দেরিতে দখল পাওয়ার পর নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে তাঁরা আদালতে রিট করেন। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর আপিল শুনানিতে রিটকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত নয় মর্মে আদেশ আসার পর জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করে খাস আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে চলতি ১৪৩৩ বাংলা সনের বাকি সময়ের জন্য খাস আদায়ে ইজারা নিয়োগের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন।

এই সময়ের মধ্যে দুই ইজারাদার মন্ত্রণালয়ের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বালু উত্তোলনের আবেদন করেন।

মন্ত্রণালয় শুধু নাছির মিয়াকে অনুমতি দিলে শাহ রুবেল আহমদ গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন, যা পরবর্তীতে তিন মাসের জন্য স্থগিত হয় এবং উভয় পক্ষের সমঝোতায় তা প্রত্যাহার করা হয়। এর মাঝে ১৫ অক্টোবর আরেক সাবেক ইজারাদার রতন মিয়া একই বিষয়ে রিট করলে রোববার তার কার্যকারিতা স্থগিত হয়। সব আইনি জটিলতার অবসানের পর অবশেষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সোমবার নাছির মিয়াকে মহাল দুটির দখল বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দরপত্র ছাড়াই বিএনপি নেতাকে যাদুকাটার দুই বালুমহালের দখল হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০১:০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর দুটি বালুমহালের দখল কোনো ধরনের দরপত্র আহ্বান ছাড়াই স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকে বুঝিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ আদেশে ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ হিসেবে বিবেচনা করে সোমবার বিকেলে এই হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই বিএনপি নেতার নাম নাছির মিয়া, যিনি তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত। আমরা যা করেছি, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাতেই করেছি।’।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের গত ২২ সেপ্টেম্বরের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহিরপুর উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং যাদুকাটা-২ বালুমহালের সাবেক ইজারাদার নাছির মিয়া ২০২৭ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত নদীর দুটি মহাল থেকে বালু উত্তোলন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয়ের এই নির্দেশনায় গত তিন বছরের গড় বাজারমূল্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ শতাংশ হারে দর নির্ধারণ করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই অবশিষ্ট সময়ের জন্য মোট ৪২ কোটি ৬৬ লাখ ৩৬ হাজার ৪২২ টাকা রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তাপস শীল জানান, মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা মেনেই এই দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় আমাদের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ এবং তাদের আদেশ অনুসারেই প্রশাসন এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মহালটির আরেক সাবেক ইজারাদার। তাঁর মতে, নিয়ম অনুযায়ী বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা বা খাস আদায়ের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল, যা এখানে করা হয়নি। এ জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর জেলা বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা আহ্বান করা হলেও পরে তা স্থগিত হয়। আদালত তাঁদের পক্ষে আদেশ দেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে জানা যায়, ১৪৩২ বাংলা সনের জন্য জিনান এন্টারপ্রাইজের শাহ রুবেল আহমদ ও মেসার্স তাহিয়া স্টোন ক্রাশারের মালিক নাছির মিয়া যৌথভাবে ১০৮ কোটি টাকায় ইজারা নিয়েছিলেন। আইনি জটিলতায় পাঁচ মাস দেরিতে দখল পাওয়ার পর নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে তাঁরা আদালতে রিট করেন। পরবর্তীতে ১৩ সেপ্টেম্বর আপিল শুনানিতে রিটকারীদের ক্ষতিগ্রস্ত নয় মর্মে আদেশ আসার পর জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধ ঘোষণা করে খাস আদায়ের উদ্যোগ নিয়েছিল। পরে চলতি ১৪৩৩ বাংলা সনের বাকি সময়ের জন্য খাস আদায়ে ইজারা নিয়োগের উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন।

এই সময়ের মধ্যে দুই ইজারাদার মন্ত্রণালয়ের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে বালু উত্তোলনের আবেদন করেন।

মন্ত্রণালয় শুধু নাছির মিয়াকে অনুমতি দিলে শাহ রুবেল আহমদ গত ২৯ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন, যা পরবর্তীতে তিন মাসের জন্য স্থগিত হয় এবং উভয় পক্ষের সমঝোতায় তা প্রত্যাহার করা হয়। এর মাঝে ১৫ অক্টোবর আরেক সাবেক ইজারাদার রতন মিয়া একই বিষয়ে রিট করলে রোববার তার কার্যকারিতা স্থগিত হয়। সব আইনি জটিলতার অবসানের পর অবশেষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় সোমবার নাছির মিয়াকে মহাল দুটির দখল বুঝিয়ে দেয় প্রশাসন।