ঢাকা ০২:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

দেশ গড়ায় ধর্মের ঊর্ধ্বে নাগরিক পরিচয় বড়: প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশ গড়ার মূল শক্তি হিসেবে নাগরিকদের অভিন্ন পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার ১৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও অর্জনে ধর্মীয় পরিচয় কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পরে বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণ যখন রাজপথে নেমেছে, তখন তারা জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ দলমত নির্বিশেষে অংশ নিয়েছিল, যা আমাদের ঐক্যের বড় প্রমাণ। তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ হিসেবে পরিচয়কেই সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সাক্ষী দেয় যে, এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। তাই আগামী দিনে দেশ গড়ার প্রতিটি পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচিতির ঊর্ধ্বে গিয়ে নাগরিক পরিচয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আগামী দিনেও দেশ গড়তে সবাইকে একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মহাখালীর রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপে যান এবং সেখানে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। মন্দির কমিটির সাথে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দেশ গড়ায় ধর্মের ঊর্ধ্বে নাগরিক পরিচয় বড়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৯:১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

দেশ গড়ার মূল শক্তি হিসেবে নাগরিকদের অভিন্ন পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার ১৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর মহাখালী এবং গুলশান-বনানীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও অর্জনে ধর্মীয় পরিচয় কখনোই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পরে বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সেখানে উপস্থিত পূজারি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

তারেক রহমান তার বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের লড়াই থেকে শুরু করে পরবর্তীতে ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার প্রতিষ্ঠায় জনগণ যখন রাজপথে নেমেছে, তখন তারা জাত-ধর্মের ঊর্ধ্বে ওঠে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও সব শ্রেণি-পেশার মানুষ দলমত নির্বিশেষে অংশ নিয়েছিল, যা আমাদের ঐক্যের বড় প্রমাণ। তারেক রহমান বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। যুদ্ধের ময়দানে আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের মানুষ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, যারা এই দেশকে ভালোবাসেন, সবাই মিলে দেশকে স্বাধীন করেছেন।

ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে ‘বাংলাদেশি নাগরিক’ হিসেবে পরিচয়কেই সবচেয়ে বড় পরিচয় হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সাক্ষী দেয় যে, এ ভূখণ্ডে সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করে আসছে। তাই আগামী দিনে দেশ গড়ার প্রতিটি পদক্ষেপে ধর্মীয় পরিচিতির ঊর্ধ্বে গিয়ে নাগরিক পরিচয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আগামী দিনেও দেশ গড়তে সবাইকে একইভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আগামী হাজার বছরও যাতে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে মহাখালীর রক্ষাকালী মন্দিরের পূজামণ্ডপে যান এবং সেখানে পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। মন্দির কমিটির সাথে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই দেশের ওপর আপনার যেমন অধিকার আছে, আমারও তেমন অধিকার আছে।