ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল এলাকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চেয়ে রাজপথে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) জেলা শাখা এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি সুজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, আমি গেলে গুলি করবে’—আগেই বলেছিলেন সাংবাদিক আলিফ।

ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল এবং আরজেএফের চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় হায়দার জাহান চৌধুরী অতীতে সাগর-রুনিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক হত্যার বিচার না পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান দাবি করেন। সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন—এমন পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান তারা। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হক। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

একইদিন সকালে নিহত সাংবাদিকের গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার সুনই এলাকায় দশধার-পোগলা সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা। সেখানে আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির আক্ষেপ করে বলেন, নিহত সাংবাদিক সীমান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখি করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার পরিবার আর আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না জানিয়ে তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দশধার-পোগলা সড়কের সুনই ফকিরবাড়ি মোড় এলাকায় আলিফের পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো আর আমার ভাইকে কোনো দিন ফিরে পাব না।

উল্লেখ্য যে, ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ কারণেই দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে তিনি মনে করেন।

নিহত লুৎফুজ্জামান একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ নানাবিধ অনিয়ম নিয়ে সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। হত্যার ঘটনার পরদিন আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

নেত্রকোনায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান হত্যার বিচারের দাবিতে উত্তাল এলাকা

আপডেট সময় : ০২:৪৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের মৃত্যুর ঘটনার বিচার চেয়ে রাজপথে নেমেছেন সাংবাদিক সমাজ। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় জেলা প্রেসক্লাবের সামনে রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশন (আরজেএফ) জেলা শাখা এক মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে। সংগঠনের সভাপতি সুজাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ‘তারা অস্ত্র নিয়ে বসে আছে, আমি গেলে গুলি করবে’—আগেই বলেছিলেন সাংবাদিক আলিফ।

ঘণ্টাব্যাপী এই কর্মসূচিতে জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল এবং আরজেএফের চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় হায়দার জাহান চৌধুরী অতীতে সাগর-রুনিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক হত্যার বিচার না পাওয়ার দীর্ঘসূত্রতার প্রসঙ্গ টেনে বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান দাবি করেন। সাংবাদিকরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং একের পর এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন—এমন পরিস্থিতির তীব্র নিন্দা জানান তারা। সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এরশাদুল হক। বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

একইদিন সকালে নিহত সাংবাদিকের গ্রামের বাড়ি কলমাকান্দা উপজেলার সুনই এলাকায় দশধার-পোগলা সড়কে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তার পরিবার ও স্থানীয়রা। সেখানে আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির আক্ষেপ করে বলেন, নিহত সাংবাদিক সীমান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখি করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার পরিবার আর আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না জানিয়ে তিনি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। দশধার-পোগলা সড়কের সুনই ফকিরবাড়ি মোড় এলাকায় আলিফের পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো আর আমার ভাইকে কোনো দিন ফিরে পাব না।

উল্লেখ্য যে, ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ কারণেই দুর্বৃত্তরা তাঁকে গুলি করে হত্যা করেছে বলে তিনি মনে করেন।

নিহত লুৎফুজ্জামান একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজে সীমান্ত এলাকার চোরাচালানসহ নানাবিধ অনিয়ম নিয়ে সাহসী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন। হত্যার ঘটনার পরদিন আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ এ পর্যন্ত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।