পূজার তিন সিনেমায় দর্শক খরা, জোর প্রচারণার তাগিদ
- আপডেট সময় : ১০:৪০:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
দুর্গাপূজার আমেজে দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলোতে নতুন তিনটি দেশীয় সিনেমা মুক্তি পেলেও দর্শক সাড়া নিয়ে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একসঙ্গে ‘চিরকুট’, ‘কাট–পিস’ ও ‘স্নেহের বন্ধন’ ছবিগুলো প্রেক্ষাগৃহে আসাকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখলেও অনেক হলেই টিকিট বিক্রির হার উদ্বেগজনকভাবে কম। ছবিগুলোর মান ও প্রচারণার ঘাটতিকেই দর্শক খরায় ভোগার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন হল কর্তৃপক্ষ ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা। তবে দর্শক টানার ক্ষেত্রে ছবিগুলো কতটা সফল হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
ঢাকার পান্থপথের স্টার সিনেপ্লেক্সে গত রবিবার হলিউডের ছবি দেখতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত দেশীয় চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’ উপভোগ করেন নিয়মিত দর্শক আরিফুর নাহার। তবে ছবিটি দেখে পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারেননি তিনি। ষাটোর্ধ্ব এই দর্শক জানান, ছবি দেখলেও মন ভরেনি। সিনেমা মুক্তির আগে সঠিক পরিকল্পনা ও জোরদার প্রচারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মত দেন তিনি। একই ধরনের মন্তব্য করেন উত্তরার এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময় হাসান। সেন্ট্রাল পয়েন্টে দুই বন্ধুর সঙ্গে ‘চিরকুট’ দেখার পর তিনি জানান, ফেসবুকে ‘রাজশাহীর গল্প এবার বড় পর্দায়’ প্রচার বার্তা দেখেই সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা ও ঘুরতে যাওয়ার স্মৃতি থাকায় ছবিটি তাঁর কাছে দেখার মতো মনে হয়েছে, তবে ভালো হওয়ার আরও সুযোগ ছিল। রাজশাহী অঞ্চলের গল্প হওয়ায় এখানকার মানুষের মধ্যে আলাদা আবেগ কাজ করছে। দুই বন্ধু সোমবার সেন্টার পয়েন্টে ‘চিরকুট’ দেখেছেন।
মফস্বল ও রাজধানীর হলগুলোতে ছবিগুলোর প্রদর্শনীতে পাওয়া গেছে ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ সিনেপ্লেক্সে প্রদর্শিত হচ্ছিল ‘চিরকুট’ ও ‘কাট–পিস’। প্রেক্ষাগৃহটির ব্র্যান্ডিং ও ডিজিটাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, কাঙ্ক্ষিত দর্শক না পাওয়ায় মুক্তির তৃতীয় দিনেই ‘কাট–পিস’ সরিয়ে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় পটভূমির গল্প হওয়ায় ‘চিরকুট’ দেখতে দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দর্শক আসছেন, যা আগামী শুক্রবারে ৭০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ছবিটির প্রচারণায় ঘাটতি ছিল এবং পরিচিত অনেক অভিনয়শিল্পী থাকা সত্ত্বেও পোস্টারে তাঁদের রাখা হয়নি। আশা করছি, আগামী শুক্রবার তা বেড়ে ৭০ শতাংশে যেতে পারে।
অন্যদিকে ঢাকার প্রেক্ষাগৃহগুলোর পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক। শ্যামলী সিনেমা হলের প্রতিদিন চারটি প্রদর্শনীতে চলছে ‘কাট–পিস’। কিন্তু ৩১৬ আসনের এই হলে প্রতিটি প্রদর্শনীতে ১০টির বেশি টিকিট বিক্রি হচ্ছে না বলে মঙ্গলবার দুপুরে জানান হল ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহ। বিকল্প কোনো সিনেমা না থাকায় এটি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভালো ছবির দর্শক এখনো আছে, কিন্তু নির্মাতাদের দর্শকদের রুচি ও চাহিদা বোঝা প্রয়োজন। একইভাবে কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাট–পিস’ ছবি দুটির হালও নাজুক। প্রেক্ষাগৃহটির প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক মঙ্গলবার দুপুরে জানান, মোট আসনসংখ্যার ১০ শতাংশ দর্শকও মিলছে না এবং দিন যত যাচ্ছে উপস্থিতি আরও কমছে। হলিউড ও কোরীয় সিনেমার পাশাপাশি বাংলাদেশের ছবিও দেখেন।
উৎসবের সময় একসঙ্গে তিনটি সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে আসা ইতিবাচক হলেও সার্বিক নির্মাণ ও প্রচারণার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, বছরজুড়ে ভালো মানের চলচ্চিত্র নির্মিত হলে দর্শকেরা এমনিতেই হলমুখী হন। উৎসবের সময় বড় তারকার ছবি থাকলে অন্য ছবিগুলোর প্রতিও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়ে। কিন্তু এবারের পূজায় মুক্ত পাওয়া ছবিগুলোর প্রচার প্রচারণায় বড় ঘাটতি ছিল এবং একই সঙ্গে কনটেন্টের গুণগত মানের দিকেও নির্মাতাদের আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।


























