ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

প্রধানমন্ত্রী: সদিচ্ছা থাকলে একটি জায়গা মানুষের ভালোর জন্য পরিবর্তন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো জায়গাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দরভাবে রূপান্তর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুরে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখী লেনের পাশে বর্জ্য অপসারণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা বলেন। সকালে সাভার সেনানিবাসে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদানের পর তিনি এই এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যদি পরিকল্পনা থাকে, যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে একটি জায়গাকে কীভাবে মানুষের ভালোর জন্য, মানুষের উপকারের জন্য সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, এই জায়গা হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আপনারা যদি সরকারকে সহযোগিতা করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা ধীরে ধীরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যে বিষয়গুলো আছে, সমস্যা রয়েছে, সেগুলোকে আমরা সমাধান করতে পারব। একই সঙ্গে সামনে আরও যে জায়গা আছে, যেগুলোতে এখনো ময়লার স্তূপ জমে আছে, সেই জায়গাগুলোর ব্যাপারেও তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

‘রূপান্তর’ নামের এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই মাস আগের এই জায়গার করুণ অবস্থার তুলনায় বর্তমানের পরিবর্তন দৃশ্যমান। এই চার কিলোমিটার এলাকা এখন মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস ও চলাচলের জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক হয়েছে। তিনি এলাকাটির সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব স্থানীয়দের ওপর অর্পণ করে বলেন, সরকার অবকাঠামো তৈরি করে দিয়েছে, এখন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিবেশবান্ধব এই রূপান্তর ধরে রাখতে হবে। এ সময় তিনি বলেন, দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল এবং আজ প্রায় দুই মাস পর এই জায়গাতে কী কী পরিবর্তন এসেছে। সড়কের পাশে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জায়গাটিকে সুন্দর করে গড়ে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবেই অন্তত এই চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কমবেশি যেসব মানুষ আছেন, তাঁদের কাছে অবশ্যই দেখতে যেমন ভালো লাগছে, তাঁদের পক্ষে একটু ভালো পরিবেশে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয়েছে। যেখানে মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে এবং সে সৌন্দর্যকে অনুভব করতে পারবে ও উপভোগ করতে পারবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসকের আওতাধীন পরবর্তী চার কিলোমিটার এলাকায় যেসব মিল-কারখানা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেখানে ময়লার স্তূপ রয়েছে, সেগুলো অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটিকে উপভোগ্য ও নির্মল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সবুজায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানটিতে ৬ হাজার ১৩০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে, যার মধ্যে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা ও রঙ্গন ফুলের গাছ রয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের পর ৮ হাজার ৮০০ বর্গমিটার এলাকায় মাটি ও সমপরিমাণ জায়গায় বালু ভরাট করা হয়েছে। এলাকাটি আলোকিত রাখতে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি, পানিনিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন এবং ১ কিলোওয়াটের দুটি সোলার সিস্টেম বসানো হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ১ কিলোওয়াটের একটি উইন্ড টারবাইনও স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা অপসারণ, মাটি ভরাট, পালিসেডিং, সারফেস ড্রেন নির্মাণ ও নেটিংসহ সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানটিকে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা, রঙ্গন ফুলসহ বিভিন্ন ধরনের ৬ হা।

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতিকারক দিকগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

প্রধানমন্ত্রী: সদিচ্ছা থাকলে একটি জায়গা মানুষের ভালোর জন্য পরিবর্তন

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে যেকোনো জায়গাকে মানুষের কল্যাণে সুন্দরভাবে রূপান্তর করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার দুপুরে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আরিচামুখী লেনের পাশে বর্জ্য অপসারণ ও সবুজায়ন কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা বলেন। সকালে সাভার সেনানিবাসে ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে যোগদানের পর তিনি এই এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, যদি পরিকল্পনা থাকে, যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে একটি জায়গাকে কীভাবে মানুষের ভালোর জন্য, মানুষের উপকারের জন্য সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, এই জায়গা হচ্ছে তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আপনারা যদি সরকারকে সহযোগিতা করেন, তাহলে অবশ্যই আমরা ধীরে ধীরে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর যে বিষয়গুলো আছে, সমস্যা রয়েছে, সেগুলোকে আমরা সমাধান করতে পারব। একই সঙ্গে সামনে আরও যে জায়গা আছে, যেগুলোতে এখনো ময়লার স্তূপ জমে আছে, সেই জায়গাগুলোর ব্যাপারেও তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে।

‘রূপান্তর’ নামের এই প্রকল্পের আওতায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে জমে থাকা দীর্ঘদিনের ময়লা পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই মাস আগের এই জায়গার করুণ অবস্থার তুলনায় বর্তমানের পরিবর্তন দৃশ্যমান। এই চার কিলোমিটার এলাকা এখন মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাস ও চলাচলের জন্য অনেক বেশি আরামদায়ক হয়েছে। তিনি এলাকাটির সৌন্দর্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার দায়িত্ব স্থানীয়দের ওপর অর্পণ করে বলেন, সরকার অবকাঠামো তৈরি করে দিয়েছে, এখন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পরিবেশবান্ধব এই রূপান্তর ধরে রাখতে হবে। এ সময় তিনি বলেন, দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল এবং আজ প্রায় দুই মাস পর এই জায়গাতে কী কী পরিবর্তন এসেছে। সড়কের পাশে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জায়গাটিকে সুন্দর করে গড়ে তুলেছে। স্বাভাবিকভাবেই অন্তত এই চার কিলোমিটার এলাকার মধ্যে কমবেশি যেসব মানুষ আছেন, তাঁদের কাছে অবশ্যই দেখতে যেমন ভালো লাগছে, তাঁদের পক্ষে একটু ভালো পরিবেশে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয়েছে। যেখানে মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে এবং সে সৌন্দর্যকে অনুভব করতে পারবে ও উপভোগ করতে পারবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, জেলা প্রশাসকের আওতাধীন পরবর্তী চার কিলোমিটার এলাকায় যেসব মিল-কারখানা রয়েছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দূষণ রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যেখানে ময়লার স্তূপ রয়েছে, সেগুলো অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটিকে উপভোগ্য ও নির্মল করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সবুজায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানটিতে ৬ হাজার ১৩০টি গাছ রোপণ করা হয়েছে, যার মধ্যে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা ও রঙ্গন ফুলের গাছ রয়েছে। এছাড়া ১০ হাজার টন বর্জ্য অপসারণের পর ৮ হাজার ৮০০ বর্গমিটার এলাকায় মাটি ও সমপরিমাণ জায়গায় বালু ভরাট করা হয়েছে। এলাকাটি আলোকিত রাখতে ১২০টি বৈদ্যুতিক বাতি, পানিনিষ্কাশনের জন্য ২০টি সারফেস ড্রেন এবং ১ কিলোওয়াটের দুটি সোলার সিস্টেম বসানো হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির অংশ হিসেবে পরীক্ষামূলকভাবে ১ কিলোওয়াটের একটি উইন্ড টারবাইনও স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ঢাকা–আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা অপসারণ, মাটি ভরাট, পালিসেডিং, সারফেস ড্রেন নির্মাণ ও নেটিংসহ সবুজায়ন প্রকল্পের আওতায় স্থানটিকে নিম, সুপারি, তাল, মাধবীলতা, রঙ্গন ফুলসহ বিভিন্ন ধরনের ৬ হা।

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৯৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। যথাযথ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতিকারক দিকগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে তিনি পুনরায় গুরুত্বারোপ করেন।