চট্টগ্রাম বোর্ডে ১৫ বছরের সর্বনিম্ন এইচএসসি পাসের হার
- আপডেট সময় : ১২:৩৫:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় পাসের হার উদ্বেগজনকভাবে কমেছে। এ বছর বোর্ডটিতে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফলের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মাত্র ২ হাজার ৯২৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ, সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ। একই সময়ে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৩ হাজার ২০১ জন। এইচএসসিতে পাসের হার ৫১.৬২%, জিপিএ-৫ ৩৫ হাজার।
শনিবার বেলা ১১টায় বোর্ডের মিলনায়তনে ফলাফল ঘোষণা করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী। এ সময় বোর্ডের সচিব মোহাম্মদ জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা নিয়ে গঠিত এই বোর্ডে মোট ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে সফল হয়েছেন ৫০ হাজার ১৬৬ জন। সামগ্রিক ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। এক্ষেত্রে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ছাত্রদের হার ৪৭ দশমিক ৬২ শতাংশ।
জেলাওয়ারি ফলাফলে দেখা যায়, চট্টগ্রাম নগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ, যা সর্বোচ্চ। সমগ্র চট্টগ্রাম জেলায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া কক্সবাজারে ৪৩ দশমিক ৩৪, বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২, রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ এবং খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। ২৮৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিলেও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার কেউ পাস করতে পারেননি। বিপরীতে ১৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সবচেয়ে বেশি ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। এরপর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৩১ শতাংশে। বোর্ডের গত ১৫ বছরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১২ সালে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর থেকে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গিয়ে ২০২০ সালে বিশেষ মূল্যায়নে পাসের হার ছিল শতভাগ। পরবর্তী বছরগুলোতে এই হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০২১ সালে ৮৯ দশমিক ৪, ২০২২ সালে ৭৮ দশমিক ৮, ২০২৩ সালে ৭৪ এবং ২০২৪ সালে ৭০ দশমিক ৪ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিলেন। দেশে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সৃজনশীল পদ্ধতি চালু হয় ২০১২ সালে। এরপর ২০২০ সালে করোনাকালে বিশেষ মূল্যায়ন পদ্ধতিতে শতভাগ পরীক্ষার্থীকে পাস করানো হয়। ২০২২ সালে ৭৮ দশমিক ৮, ২০২৩ সালে ৭৪, ২০২৪ সালে ৭০ দশমিক ৪ এবং ২০২৫ সালে ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেন।
পরীক্ষায় যারা এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন, তাদের পুনরায় সুযোগ পাওয়ার বিষয়েও নির্দেশনা রয়েছে। অকৃতকার্যরা এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে বোর্ড সূত্রে জানানো হয়েছে।
























