মিরপুরে কেন যাবেন ওয়াওজা এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়ামে?
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরের হাজী কুজরাত আলী মোল্লা মার্কেটের চতুর্থ তলায় গড়ে তোলা হয়েছে নতুন এক চিত্তবিনোদন কেন্দ্র, যার নাম ‘ওয়াওজা’। এই ভেবে যখন দু কদম যাবেন, ঠিক তখনই নিজেকে আবিষ্কার করলেন চাঁদের মাটিতে। এমন অসম্ভবকে সম্ভব করেছে মিরপুর ১২ নম্বরে অবস্থিত সদ্য চালু হওয়া চিত্তবিনোদনকেন্দ্র ওয়াওজা। বেশ কয়েকজন তরুণের সম্মিলিত উদ্যোগ এই ওয়াওজা। এমন নানা উদ্যোগ এখন দেশে দেখা গেলেও এই তরুণদের মতে, ওয়াওজা সেসব থেকে আলাদা। সত্যি বলতে এখানেও ভিন্নতা এনেছে ওয়াওজা।
বাংলাদেশের প্রথম প্রিমিয়াম ইলুশন ও ইমারসিভ এন্টারটেইনমেন্ট মিউজিয়াম হিসেবে এরই মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো দেশগুলোতে থাকা থ্রিডি আর্ট ও অপটিক্যাল ইলুশন মিউজিয়ামের আদলে এই কেন্দ্রটি সাজানো হয়েছে।
উদ্বোধনের তিন মাসের মাথায় এটি সব বয়সী মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। উদ্বোধনের মাত্র তিন মাসের মাথায় ইতিমধ্যে ওয়াওজা রাজধানীবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ওয়াওজার ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হৃদয় চৌধুরী জানান, দুই-তিন বছরের শিশু থেকে যেকোনো বয়সের মানুষ এখানে এসে আনন্দ উপভোগ করতে পারবে। দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটিকে বিভিন্ন সেগমেন্টে ভাগ করা হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো অপটিক্যাল ইলুশন মিউজিয়াম, পারস্পেকটিভ আর্ট এবং গেমিং জোন। তাদের ‘এক্সপেরিয়েন্স দ্য আনরিয়েল’ স্লোগান অনুযায়ী, প্রতিটি আয়োজনই দর্শকদের অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। এগুলোর সঙ্গে ছবি তোলার জন্য রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা, সাহায্যের জন্য থাকছেন ওয়াওজার কর্মীরা। এই থ্রিডি, পারস্পেকটিভ ওয়াল আর্টসের মধ্যে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ধাঁধায় ফেলবে রঙিন এক শহরের দৃশ্য।
এই কেন্দ্রের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ভর্টেক্স টানেল। অন্ধকারাচ্ছন্ন এই সুড়ঙ্গে লাল-নীল আলোর খেলায় দর্শকদের মনে হয় পায়ের নিচের মাটি সরে যাচ্ছে বা চারপাশ গোল হয়ে ঘুরছে। এ ছাড়া শ্যাডো ড্যান্স সেগমেন্টটিতে দর্শকরা ৩০ সেকেন্ড সময় পান মাইকেল জ্যাকসন বা হাল্কের মতো পছন্দের চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি অনুকরণ করতে, যা তাৎক্ষণিকভাবে স্ক্রিনে দেখা যায়। ধরুন আপনি দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু আপনার পায়ের নিচের মাটি নিজ থেকেই সরে যাচ্ছে, মনে হতে পারে এ কী করে সম্ভব। আরেকটু সামনে গিয়ে দেখতে পেলেন আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে হুবহু আরও কয়েকখানা আপনি। মনে হতেই পারে আপনি হয়তো স্বপ্ন দেখছেন, ঘুমটা বুঝি এখনই ভাঙল। ঘোরাঘুরি কিংবা ব্যবসার কাজে কোনো দেশ ভ্রমণে গেলে প্রথমেই যে কেউ সেখানকার দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চান। এই সময়ে আপনার অঙ্গভঙ্গিকে হুবহু অনুকরণ করবে সেই ক্যারেক্টার। মা–বাবা, ভাই-বোন কিংবা দম্পতি—ছবির জন্য সবার পছন্দ এই ঘর। শুধু খুঁজে পাওয়া যাবে আপনার মুখখানা। মূলত দেয়ালের মতো হুবহু দেখতে একটি পোশাক আছে এই জাদুর পেছনে, সঙ্গে চোখের ধোঁকা। শুধু তাই নয়, অন্যদিকে তাকালে আয়নার জাদুতে আপনি পরিণত হবেন কয়েক খানায়। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জীবন্ত এক শহর, আপনার সঙ্গেই যা হাঁটছে। প্রশ্ন আসতে পারে, মিরর মেইজ আর নতুন কী।
মহাকাশে পা রাখার অনুভূতি দিতে এখানে রয়েছে টিল্ট রুম, যেখানে খুব শীঘ্রই নভোচারীদের পোশাক যুক্ত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া অ্যামস রুমের দৃষ্টিভ্রম দর্শকদের অবাক করে, যেখানে দুজন মানুষ দাঁড়ালে একে অন্যকে দৈত্যের মতো বড় বা অনেক ছোট মনে হয়। ক্যামোফ্লাজ রুম ও মিরর মেইজের মতো জাদুকরী সব আয়োজনও দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে। মিরর মেইজে শত শত নিজের প্রতিচ্ছবি দেখার পাশাপাশি সূর্যমুখীর বাগানের আলোর খেলাও উপভোগ করা যায়। কিছুটা বাঁকানো এই ঘরে অবিকল চাঁদে পা রাখার মতো অনুভূতি পাবেন। অভিজ্ঞতাকে আরও বাস্তব করে তুলতে শিগগিরই আনা হবে নভোচারীদের পোশাক, এমনটাই জানিয়েছে ওয়াওজা কর্তৃপক্ষ। একই ঘরের দুই কোণে দাঁড়ালে একজনকে লাগবে দৈত্যের মতো বড় আর আরেকজনকে লাগবে ছোট—এমনই দৃষ্টিভ্রমের খেলা দেখায় এই অ্যামস রুম।
অ্যাক্টিভিটির বাইরে ওয়াওজাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ গেম। ছোট-বড় সবার জন্য রাখা এসব গেমের মধ্যে লাল-নীল ব্লকের খেলা এবং নাটাই দিয়ে ঘুড়ি ওড়ানোর ভিডিও গেমগুলো অন্যতম। ইনডোর এবং আউটডোর উভয় ধরনের গেমের অভিজ্ঞতাই এখানে এক ছাদের নিচে মিলছে। এক কথায় আউটডোর থেকে শুরু করে ইনডোর—এক ছাদের নিচেই পাচ্ছেন সব রকম গেমসের অনুভূতি।
ওয়াওজাতে প্রবেশের টিকেট মূল্য জনপ্রতি ৫০০ টাকা, সাথে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য। একটি টিকেটে এক ঘণ্টার জন্য সব অ্যাক্টিভিটি ও গেম যতবার খুশি উপভোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এই বিনোদনকেন্দ্র দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে।

























