ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মাত্র দুটি ফ্যান ও ফ্রিজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি চরম বিপাকে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে। তাদের পরিবারের ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে কেবল কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ এবং একটি আইপিএস। আগস্ট মাস পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল হিসেবে তাদের দিতে হতো মাত্র ১ হাজার ৩২৬ টাকা। গত পাঁচ মাস গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করলেও সেপ্টেম্বরের বিল দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গেছে পুরো পরিবার।

সেপ্টেম্বরের বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। যেখানে স্বাভাবিক ব্যবহারের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে ছয় হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে। মৃত আবু তাহেরের নামে থাকা এই মিটারটি ব্যবহারকারী শহীদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই কীভাবে এমন ভুতুড়ে বিল এল, তা বোধগম্য নয়। তিনি মনে করেন, বিল প্রস্তুতে নিয়োজিত কর্মীদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ আবাসিক গ্রাহক হয়েও হঠাৎ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল পেয়ে হতবাক তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, বিল হাতে পাওয়ার পর বিদ্যুৎকর্মীর কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ওই কর্মী কোনো দায় না নিয়ে উল্টো গ্রাহককে কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধনের পরামর্শ দেন। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের হয়রানি ও ভোগান্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শহীদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের ভুলের খেসারত গ্রাহককে দিতে হবে কেন? তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তখন ওই কর্মী জানান, ভুল সংশোধনের জন্য তাঁদের কার্যালয়ে যেতে হবে। শহীদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব, এটি কোন ধরনের কথা। আমি চাই, এর জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’।

বিদ্যুৎ বিলের এই গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমান জানান, প্রথমে বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করা সম্ভব ছিল না। তবে পরবর্তীতে বিলের কপি পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে, ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুতই অফিসের লোকজন গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন এবং ভুতুড়ে বিলটি সংশোধন করে নতুন করে বিল সমন্বয় করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মাত্র দুটি ফ্যান ও ফ্রিজ

আপডেট সময় : ০৬:২৮:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হরিকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম ওরফে রনি চরম বিপাকে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বিল নিয়ে। তাদের পরিবারের ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে কেবল কয়েকটি বাতি, দুটি ফ্যান, একটি ফ্রিজ এবং একটি আইপিএস। আগস্ট মাস পর্যন্ত নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল হিসেবে তাদের দিতে হতো মাত্র ১ হাজার ৩২৬ টাকা। গত পাঁচ মাস গড়ে মাত্র ১৮৭ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করলেও সেপ্টেম্বরের বিল দেখে রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে গেছে পুরো পরিবার।

সেপ্টেম্বরের বিদ্যুৎ বিলের কপিতে ভ্যাট ও বিলম্ব মাশুলসহ মোট টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৯৬ টাকা। যেখানে স্বাভাবিক ব্যবহারের চেয়ে অস্বাভাবিকভাবে ছয় হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়েছে। মৃত আবু তাহেরের নামে থাকা এই মিটারটি ব্যবহারকারী শহীদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই কীভাবে এমন ভুতুড়ে বিল এল, তা বোধগম্য নয়। তিনি মনে করেন, বিল প্রস্তুতে নিয়োজিত কর্মীদের চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ আবাসিক গ্রাহক হয়েও হঠাৎ লাখ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল পেয়ে হতবাক তিনি।

অভিযোগের বিষয়ে শহীদুল ইসলাম বলেন, বিল হাতে পাওয়ার পর বিদ্যুৎকর্মীর কাছে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ওই কর্মী কোনো দায় না নিয়ে উল্টো গ্রাহককে কার্যালয়ে গিয়ে বিল সংশোধনের পরামর্শ দেন। এই প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের হয়রানি ও ভোগান্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে শহীদুল ইসলাম জানান, বিদ্যুতের ভুলের খেসারত গ্রাহককে দিতে হবে কেন? তিনি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তখন ওই কর্মী জানান, ভুল সংশোধনের জন্য তাঁদের কার্যালয়ে যেতে হবে। শহীদুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘তারা ভুল করবে, আর আমরা তা সংশোধনের জন্য তাদের দরজায় দরজায় ঘুরব, এটি কোন ধরনের কথা। আমি চাই, এর জন্য দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’।

বিদ্যুৎ বিলের এই গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চাটখিল আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) জুনায়েদুর রহমান জানান, প্রথমে বিলের কপি না দেখে মন্তব্য করা সম্ভব ছিল না। তবে পরবর্তীতে বিলের কপি পাওয়ার পর তিনি স্বীকার করেন যে, ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুতই অফিসের লোকজন গ্রাহকের বাড়িতে গিয়ে মিটার পরীক্ষা করবেন এবং ভুতুড়ে বিলটি সংশোধন করে নতুন করে বিল সমন্বয় করা হবে।