ঢাকা ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

স্মিতা পাতিলের লড়াই: প্রথা ভাঙা জীবনের সেই অমলিন ছাপ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১৯৫৫ সালের ১৭ অক্টোবর ভারতের পুনেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন স্মিতা পাতিল। তাঁর বাবা শিবাজিরাও গিরধর পাতিল ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং মা বিদ্যাতাই পাতিল ছিলেন সমাজসেবী। এই দুই অভিভাবকের ব্যক্তিত্বের গভীর ছাপ পড়েছিল স্মিতার বেড়ে ওঠার ওপর। পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী স্মিতা ক্যারিয়ারের শুরুতে মুম্বাই দূরদর্শনে সংবাদপাঠিকা হিসেবে কাজ করেছেন। শ্যাম বেনেগালের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসা এই অভিনেত্রী সে সময় প্রচলিত গায়ের রঙ ও সৌন্দর্যের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন নারীদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন, তেমনি তাঁর অভিনয়েও ফুটে উঠত প্রথাগত ধারার বাইরের এক বলিষ্ঠ সত্তা। নায়িকা হতে হলেই গায়ের রং হবে ফর্সা—এমন ধারণাকে ভেঙে দিয়েছিলেন স্মিতা। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাব পূর্ণমাত্রায় পড়ত অভিনয়েও।

১৯৭৪ সালে ‘মেরে সাথ চল’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় ‘নিশান্ত’, ‘চরণদাস চোর’, ‘মন্থন’ ও ‘ভূমিকা’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি বলিউডে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘আক্রোশ’, ‘চক্র’, ‘সদগতি’, ‘অর্থ’, ‘দেবশিশু’, ‘চিদম্বরম’, ‘গুলামি’, ‘বাজার’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘মান্ডি’, ‘অর্ধসত্য’ ও ‘মির্চ মাসালা’-এর মতো ছবিগুলো মাইলফলক হয়ে আছে। নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল স্মিতার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি অত্যন্ত বহুমাত্রিক অভিনেত্রী ছিলেন। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি কতটা গভীর যেতে পারতেন, তার উদাহরণ পাওয়া যায় ‘মন্থন’ ছবিতে। সে সময় চরিত্রের বাস্তবতার জন্য তিনি কুঁড়েঘরে থাকা, গোয়ালঘরে কাজ করা, দুধ দোহন থেকে শুরু করে জল তোলার মতো পরিশ্রমী কাজগুলোও শিখে নিয়েছিলেন। সেই অধ্যায় দীর্ঘ হয় অন্যান্য যশস্বী পরিচালকের নির্দেশনায়।

বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করার ক্ষেত্রে স্মিতার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বেশ স্পষ্ট। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বাণিজ্যিক ছবি কেবল মজা করার জন্য করা যায়, কিন্তু অভিনয়ের বৃত্তে আটকে থাকাটা তিনি পছন্দ করতেন না। শাবানা আজমির উদাহরণ টেনে তিনি জানিয়েছিলেন, বাণিজ্যিক ছবির এই চাপে নিজেকে হারিয়ে ফেলা তাঁর পছন্দ নয়। এমনকি বাণিজ্যিক ছবিতে নারীদের শরীরকে প্রলোভনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ধারণারও তিনি ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি সব সময় চাইতেন, দর্শক যেন নারীর শরীর নয়, বরং চরিত্র ও তার ভেতরের শক্তিকে দেখতে পায়। শৈল্পিকধারা বা বিকল্পধারার ছবির পাশাপাশি বাণিজ্যিক ছবিতেও স্মিতা ছিলেন সমান সাবলীল। আমি ভাবছি, শাবানা (আজমি) পারবে কি না ওই বৃত্ত থেকে বের হতে—আমার মনে হয়, সে এখন অনেক ভেতরে ঢুকে গেছে।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার সময় স্মিতা প্রায়ই অস্বস্তিতে থাকতেন, যার অন্যতম কারণ ছিল ছবির দৃশ্য বা গান। ‘নমক হালাল’ ছবির জনপ্রিয় বৃষ্টির গান ‘আজ রাপাত যায়ে তো’-এর শুটিং করতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে বেশ চাপে ছিলেন। এ বিষয়ে অমিতাভ বচ্চন পরবর্তীতে তাঁর ব্লগে এবং ২০১৫ সালে স্মিতাকে নিয়ে আয়োজিত এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, গানটি স্মিতার সংস্কৃতি ও মানসিকতার সঙ্গে একেবারেই খাপ খাচ্ছিল না। এমনকি সাধারণ মানুষ যখন তাঁকে এই ছবির জন্য চিনত, তখনও তিনি অস্বস্তি বোধ করতেন কারণ তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে অনেক বেশি গভীর ও অর্থবহ ছবিতে কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে স্মিতা পাতিলকে নিয়ে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে অমিতাভ স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ও বলেছিল, এই গানটা তার সংস্কৃতি ও চিন্তার বাইরে। একবার এয়ারপোর্টে কেউ ওকে “নমক হালালের” জন্য চিনে ফেললে সে নাকি লজ্জা পেত।

যশ চোপড়ার একটি সিনেমার কাজ থেকে হঠাৎ বাদ পড়ার ঘটনাটি স্মিতাকে বেশ আঘাত দিয়েছিল। শুটিং শুরুর মাত্র একদিন আগে যশ চোপড়া তাঁকে না জানিয়ে অন্য কাউকে নিতে চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি জানানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন শশী কাপুরকে। পরবর্তীতে মুখোমুখি হলে স্মিতা স্পষ্ট ভাষায় যশ চোপড়াকে বলেছিলেন, তার সিদ্ধান্তের চেয়েও তিনি নিজে না জানানোয় বেশি কষ্ট পেয়েছেন। এই সত্য স্বীকার করে যশ চোপড়া নিজের লজ্জিত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে মুখোমুখি হলে স্মিতা বলেন, ‘যশজি, আপনি যা করেছেন, নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই করেছেন।

নিজের কাজের জায়গায় সংলাপ নিয়ে আপস করতে পছন্দ করতেন না স্মিতা। মান্য পাতিল এক স্মৃতিচারণায় বলেন, একটি সিনেমায় তাঁকে ‘ম্যায় তোমহারে বাচ্চে কি মা বাননে ওয়ালি হুঁ’—এই সংলাপটি বলতে বলা হয়েছিল। স্মিতা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে বলেন, তিনি এমন ক্লিশে সংলাপ বলবেন না। পরবর্তীতে অনেক আলোচনার পর সংলাপটি বদলে ‘ম্যায় মা বাননে ওয়ালি হুঁ’ করা হয়। বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন সাহসী এবং স্পষ্টবাদী। রাজ বব্বরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক আলোচনার জন্ম দিলেও তিনি তা কখনও অস্বীকার করেননি। আবার কারো সংসার ভাঙার বিষয়টি নিয়ে তাঁর মধ্যে অপরাধবোধও কাজ করত।

স্মিতার শেষ জীবন ছিল বিষাদময়। ১৯৮৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাজ ও স্মিতার একমাত্র সন্তান প্রতীকের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পরপরই স্মিতা শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ ডিসেম্বর তাঁর প্রচণ্ড জ্বর আসে, যার তীব্রতা এতটাই ছিল যে সদ্যোজাত সন্তানকে কোলে নেওয়ার মতো শক্তিও তাঁর ছিল না। সেই রাতেই খিঁচুনি ও রক্তবমির পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি কোমায় চলে যান। মাত্র ৩১ বছর বয়সে, দুই সপ্তাহ বয়সী সন্তানকে পৃথিবীর মায়ায় রেখে ১৯৮৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি যে বলিষ্ঠ অভিনয়ের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

স্মিতা পাতিলের লড়াই: প্রথা ভাঙা জীবনের সেই অমলিন ছাপ

আপডেট সময় : ১২:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

১৯৫৫ সালের ১৭ অক্টোবর ভারতের পুনেতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন স্মিতা পাতিল। তাঁর বাবা শিবাজিরাও গিরধর পাতিল ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং মা বিদ্যাতাই পাতিল ছিলেন সমাজসেবী। এই দুই অভিভাবকের ব্যক্তিত্বের গভীর ছাপ পড়েছিল স্মিতার বেড়ে ওঠার ওপর। পুনে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থী স্মিতা ক্যারিয়ারের শুরুতে মুম্বাই দূরদর্শনে সংবাদপাঠিকা হিসেবে কাজ করেছেন। শ্যাম বেনেগালের হাত ধরে চলচ্চিত্রে আসা এই অভিনেত্রী সে সময় প্রচলিত গায়ের রঙ ও সৌন্দর্যের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি যেমন নারীদের অধিকার নিয়ে সরব ছিলেন, তেমনি তাঁর অভিনয়েও ফুটে উঠত প্রথাগত ধারার বাইরের এক বলিষ্ঠ সত্তা। নায়িকা হতে হলেই গায়ের রং হবে ফর্সা—এমন ধারণাকে ভেঙে দিয়েছিলেন স্মিতা। তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাব পূর্ণমাত্রায় পড়ত অভিনয়েও।

১৯৭৪ সালে ‘মেরে সাথ চল’ ছবির মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর শ্যাম বেনেগালের পরিচালনায় ‘নিশান্ত’, ‘চরণদাস চোর’, ‘মন্থন’ ও ‘ভূমিকা’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে তিনি বলিউডে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘আক্রোশ’, ‘চক্র’, ‘সদগতি’, ‘অর্থ’, ‘দেবশিশু’, ‘চিদম্বরম’, ‘গুলামি’, ‘বাজার’, ‘আকালের সন্ধানে’, ‘মান্ডি’, ‘অর্ধসত্য’ ও ‘মির্চ মাসালা’-এর মতো ছবিগুলো মাইলফলক হয়ে আছে। নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল স্মিতার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি অত্যন্ত বহুমাত্রিক অভিনেত্রী ছিলেন। চরিত্রের প্রয়োজনে তিনি কতটা গভীর যেতে পারতেন, তার উদাহরণ পাওয়া যায় ‘মন্থন’ ছবিতে। সে সময় চরিত্রের বাস্তবতার জন্য তিনি কুঁড়েঘরে থাকা, গোয়ালঘরে কাজ করা, দুধ দোহন থেকে শুরু করে জল তোলার মতো পরিশ্রমী কাজগুলোও শিখে নিয়েছিলেন। সেই অধ্যায় দীর্ঘ হয় অন্যান্য যশস্বী পরিচালকের নির্দেশনায়।

বাণিজ্যিক সিনেমায় কাজ করার ক্ষেত্রে স্মিতার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বেশ স্পষ্ট। ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বাণিজ্যিক ছবি কেবল মজা করার জন্য করা যায়, কিন্তু অভিনয়ের বৃত্তে আটকে থাকাটা তিনি পছন্দ করতেন না। শাবানা আজমির উদাহরণ টেনে তিনি জানিয়েছিলেন, বাণিজ্যিক ছবির এই চাপে নিজেকে হারিয়ে ফেলা তাঁর পছন্দ নয়। এমনকি বাণিজ্যিক ছবিতে নারীদের শরীরকে প্রলোভনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার ধারণারও তিনি ঘোর বিরোধী ছিলেন। তিনি সব সময় চাইতেন, দর্শক যেন নারীর শরীর নয়, বরং চরিত্র ও তার ভেতরের শক্তিকে দেখতে পায়। শৈল্পিকধারা বা বিকল্পধারার ছবির পাশাপাশি বাণিজ্যিক ছবিতেও স্মিতা ছিলেন সমান সাবলীল। আমি ভাবছি, শাবানা (আজমি) পারবে কি না ওই বৃত্ত থেকে বের হতে—আমার মনে হয়, সে এখন অনেক ভেতরে ঢুকে গেছে।

অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করার সময় স্মিতা প্রায়ই অস্বস্তিতে থাকতেন, যার অন্যতম কারণ ছিল ছবির দৃশ্য বা গান। ‘নমক হালাল’ ছবির জনপ্রিয় বৃষ্টির গান ‘আজ রাপাত যায়ে তো’-এর শুটিং করতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে বেশ চাপে ছিলেন। এ বিষয়ে অমিতাভ বচ্চন পরবর্তীতে তাঁর ব্লগে এবং ২০১৫ সালে স্মিতাকে নিয়ে আয়োজিত এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, গানটি স্মিতার সংস্কৃতি ও মানসিকতার সঙ্গে একেবারেই খাপ খাচ্ছিল না। এমনকি সাধারণ মানুষ যখন তাঁকে এই ছবির জন্য চিনত, তখনও তিনি অস্বস্তি বোধ করতেন কারণ তিনি তাঁর ক্যারিয়ারে অনেক বেশি গভীর ও অর্থবহ ছবিতে কাজ করেছিলেন। ২০১৫ সালে স্মিতা পাতিলকে নিয়ে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে অমিতাভ স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘ও বলেছিল, এই গানটা তার সংস্কৃতি ও চিন্তার বাইরে। একবার এয়ারপোর্টে কেউ ওকে “নমক হালালের” জন্য চিনে ফেললে সে নাকি লজ্জা পেত।

যশ চোপড়ার একটি সিনেমার কাজ থেকে হঠাৎ বাদ পড়ার ঘটনাটি স্মিতাকে বেশ আঘাত দিয়েছিল। শুটিং শুরুর মাত্র একদিন আগে যশ চোপড়া তাঁকে না জানিয়ে অন্য কাউকে নিতে চেয়েছিলেন এবং বিষয়টি জানানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন শশী কাপুরকে। পরবর্তীতে মুখোমুখি হলে স্মিতা স্পষ্ট ভাষায় যশ চোপড়াকে বলেছিলেন, তার সিদ্ধান্তের চেয়েও তিনি নিজে না জানানোয় বেশি কষ্ট পেয়েছেন। এই সত্য স্বীকার করে যশ চোপড়া নিজের লজ্জিত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে মুখোমুখি হলে স্মিতা বলেন, ‘যশজি, আপনি যা করেছেন, নিশ্চয়ই ভেবেচিন্তেই করেছেন।

নিজের কাজের জায়গায় সংলাপ নিয়ে আপস করতে পছন্দ করতেন না স্মিতা। মান্য পাতিল এক স্মৃতিচারণায় বলেন, একটি সিনেমায় তাঁকে ‘ম্যায় তোমহারে বাচ্চে কি মা বাননে ওয়ালি হুঁ’—এই সংলাপটি বলতে বলা হয়েছিল। স্মিতা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে বলেন, তিনি এমন ক্লিশে সংলাপ বলবেন না। পরবর্তীতে অনেক আলোচনার পর সংলাপটি বদলে ‘ম্যায় মা বাননে ওয়ালি হুঁ’ করা হয়। বাস্তব জীবনেও তিনি ছিলেন সাহসী এবং স্পষ্টবাদী। রাজ বব্বরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক আলোচনার জন্ম দিলেও তিনি তা কখনও অস্বীকার করেননি। আবার কারো সংসার ভাঙার বিষয়টি নিয়ে তাঁর মধ্যে অপরাধবোধও কাজ করত।

স্মিতার শেষ জীবন ছিল বিষাদময়। ১৯৮৬ সালের ২৮ নভেম্বর রাজ ও স্মিতার একমাত্র সন্তান প্রতীকের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পরপরই স্মিতা শারীরিকভাবে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৩ ডিসেম্বর তাঁর প্রচণ্ড জ্বর আসে, যার তীব্রতা এতটাই ছিল যে সদ্যোজাত সন্তানকে কোলে নেওয়ার মতো শক্তিও তাঁর ছিল না। সেই রাতেই খিঁচুনি ও রক্তবমির পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি কোমায় চলে যান। মাত্র ৩১ বছর বয়সে, দুই সপ্তাহ বয়সী সন্তানকে পৃথিবীর মায়ায় রেখে ১৯৮৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি যে বলিষ্ঠ অভিনয়ের দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন, তা ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরকাল অমলিন হয়ে থাকবে।