ঢাকা ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

হানিফ পাপ্পুর হাত ধরে বেঁচে থাকা রিকশাচিত্রের গল্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রিকশা ও রিকশাচিত্র ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে। এ শিল্পের গৌরবোজ্জ্বল যাত্রার পেছনে কাজ করছে হানিফ পাপ্পুর মতো শিল্পীদের দীর্ঘ ত্যাগ ও একাগ্রতা। চরম অভাব ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি জীবনভর এই লোকশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। শিল্প চর্চার তাগিদে তাঁর দৃঢ় স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, জীবন চলে গেলেও তিনি এই কাজ কোনো দিন ছাড়বেন না। পরে ডিজিটাল শিল্পের দাপটে কাজ কমে গেলেও হাল ছাড়েননি। তাঁর দৃঢ় উচ্চারণ, ‘ভাতে মরলেও এই কাজ আমি ছাড়ব না। একসময় যাঁকে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন, কাজ না পেয়ে পাগল হয়ে গেছেন, তাঁর সেই কাজই পরে কুড়িয়েছে প্রশংসা।

১৯৬৭ বা ১৯৬৮ সালের দিকে মামার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যানার আঁকার কাজের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন হানিফ পাপ্পু। এরপর বছরের পর বছর সিনেমার পোস্টার এবং রিকশার পেছনের প্লেটে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নানা দৃশ্য এঁকেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে এই কায়িক শিল্প চাহিদা হারালে তিনি দৈনিক ব্যবহারের নানাবিধ বস্তু যেমন হারিকেন, কেটলি, মগ ও চশমায় রিকশাচিত্র আঁকা শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই তাঁর এই বৈচিত্র্যময় উদ্যোগকে পাগলামি মনে করলেও শেষ পর্যন্ত তা সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

বর্তমানে তাঁর এই শিল্পযাত্রায় সঙ্গে রয়েছেন শিষ্য মুনির হোসেন। রিকশাচিত্র বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাওয়ায় হানিফ পাপ্পু দারুণ গর্বিত, তবে বাণিজ্যিক প্রসারের কারণে যেন এই শিল্পের নিজস্ব ধারা, ঐতিহ্য ও মূল মোটিফ হারিয়ে না যায়—সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন, এই শিল্প প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্থান পাবে এবং উপযুক্ত সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন প্রজন্মের হাত ধরে চিরকাল টিকে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

হানিফ পাপ্পুর হাত ধরে বেঁচে থাকা রিকশাচিত্রের গল্প

আপডেট সময় : ০৯:২৫:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রিকশা ও রিকশাচিত্র ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেসকোর অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভ করে। এ শিল্পের গৌরবোজ্জ্বল যাত্রার পেছনে কাজ করছে হানিফ পাপ্পুর মতো শিল্পীদের দীর্ঘ ত্যাগ ও একাগ্রতা। চরম অভাব ও নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি জীবনভর এই লোকশিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। শিল্প চর্চার তাগিদে তাঁর দৃঢ় স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, জীবন চলে গেলেও তিনি এই কাজ কোনো দিন ছাড়বেন না। পরে ডিজিটাল শিল্পের দাপটে কাজ কমে গেলেও হাল ছাড়েননি। তাঁর দৃঢ় উচ্চারণ, ‘ভাতে মরলেও এই কাজ আমি ছাড়ব না। একসময় যাঁকে দেখে অনেকে ভেবেছিলেন, কাজ না পেয়ে পাগল হয়ে গেছেন, তাঁর সেই কাজই পরে কুড়িয়েছে প্রশংসা।

১৯৬৭ বা ১৯৬৮ সালের দিকে মামার মাধ্যমে চলচ্চিত্র শিল্পে ব্যানার আঁকার কাজের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন হানিফ পাপ্পু। এরপর বছরের পর বছর সিনেমার পোস্টার এবং রিকশার পেছনের প্লেটে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নানা দৃশ্য এঁকেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তারে এই কায়িক শিল্প চাহিদা হারালে তিনি দৈনিক ব্যবহারের নানাবিধ বস্তু যেমন হারিকেন, কেটলি, মগ ও চশমায় রিকশাচিত্র আঁকা শুরু করেন। শুরুতে অনেকেই তাঁর এই বৈচিত্র্যময় উদ্যোগকে পাগলামি মনে করলেও শেষ পর্যন্ত তা সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

বর্তমানে তাঁর এই শিল্পযাত্রায় সঙ্গে রয়েছেন শিষ্য মুনির হোসেন। রিকশাচিত্র বৈশ্বিক স্বীকৃতি পাওয়ায় হানিফ পাপ্পু দারুণ গর্বিত, তবে বাণিজ্যিক প্রসারের কারণে যেন এই শিল্পের নিজস্ব ধারা, ঐতিহ্য ও মূল মোটিফ হারিয়ে না যায়—সে বিষয়ে তিনি সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। তিনি আশা করেন, এই শিল্প প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় স্থান পাবে এবং উপযুক্ত সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন প্রজন্মের হাত ধরে চিরকাল টিকে থাকবে।