চ্যাম্পিয়নস লিগ: মেসিবিরোধী রেকর্ড গড়ে হলান্ড ও এমবাপ্পের ইতিহাস
- আপডেট সময় : ০৭:২৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরের ‘ম্যাচ ডে-২’ ছিল রেকর্ডময়। দুই দিনের এই সূচিতে মোট ১৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে গোল হয়েছে ৭৮টি। এটি চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে যেকোনো ‘ম্যাচউইক’-এ সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড। এর আগে গত মৌসুমে ‘ম্যাচ ডে-৩’-তে ১৮ ম্যাচে ৭১টি গোল হয়েছিল। এবারের আসরের প্রথম ৩৬ ম্যাচে মোট ১৪৭টি গোল হয়েছে, যার গড় ম্যাচপ্রতি ৪ দশমিক শূন্য ৮। এটি এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলগড়। ‘ম্যাচ ডে২’-তে মোট ১৮ ম্যাচে ৭৮ গোল হয়েছে। গত মৌসুমে ‘ম্যাচ ডে৩’-তে ১৮ ম্যাচে ৭১ গোলের রেকর্ড পেছনে পড়ল।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে মাঠে নেমে পিএসজির বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন আর্লিং হলান্ড। তার এই কীর্তি গড়ার পথে চ্যাম্পিয়নস লিগে মোট ৬০ ম্যাচে ৬১ গোল পূর্ণ হয়েছে। মাত্র ২৬ বছর ৮৫ দিন বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে লিওনেল মেসি ২৬ বছর ৮৬ দিন বয়সে ৬০ গোলের কোটা ছুঁয়েছিলেন। দ্রুততম ৬০ গোল করার দিক থেকেও সবার চেয়ে এগিয়ে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার হলান্ড। যেখানে হলান্ডের লেগেছে ৬০ ম্যাচ, সেখানে মেসির প্রয়োজন হয়েছিল ৮০ ম্যাচ, রবার্ট লেভানডফস্কির ৮৫, কিলিয়ান এমবাপ্পের ৮৯ এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৯৮ ম্যাচ।
ম্যাচটিতে ম্যানচেস্টার সিটি পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছে। ঘরের মাঠে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের এই প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচে ৪ গোল হজম করার ঘটনা সিটির জন্য এটিই প্রথম। এর আগে আটবার তারা ঘরের মাঠে তিন গোল হজম করেছিল। এছাড়া ৩২ মিনিটের মধ্যে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার ঘটনাও সিটির চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে নতুন তিক্ত অভিজ্ঞতা। এর আগে কখনোই ঘরের মাঠে প্রথমার্ধে এতটা বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি ইংলিশ এই ক্লাবটি।
অন্যদিকে, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে নিজের শততম চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচ খেললেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তিনি অষ্টম খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় ১০০ ম্যাচ খেলার মাইলফলক স্পর্শ করলেন। তাছাড়া ইউরোপিয়ান কাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে ২৭ বছর ২৯৮ দিন বয়সে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ১০০ ম্যাচ খেলার রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। মেসি ২৮ বছর ৮৪ দিন বয়সে এই রেকর্ড করেছিলেন। নিজের শততম ম্যাচে গোলও পেয়েছেন এমবাপ্পে। এই তালিকায় তার চেয়ে এগিয়ে আছেন কেবল মেসি (৭৭ গোল) ও লেভানডফস্কি (৮১ গোল)।
রিয়াল মাদ্রিদ জিতেছে তাদের আরেকটি অবিশ্বাস্য ম্যাচ। ৭ গোলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মাত্র ৭ মিনিটের ঝড়ে জয় নিশ্চিত করেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতার ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ৫০টি ম্যাচে হার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পাওয়ার গৌরব অর্জন করল রিয়াল। এছাড়া ইতালির মাটিতে টানা ১০ ম্যাচে জয়ের নতুন রেকর্ডও গড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ২০১৬ সালে রোমার বিপক্ষে ২-০ জয়ের মাধ্যমে শুরু হওয়া তাদের এই জয়যাত্রা এখনো অব্যাহত রয়েছে, এমনকি সবশেষ ম্যাচেও তারা রোমার বিপক্ষে ৪-৩ গোলের জয় তুলে নিয়েছে।

























