ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আরাফাত মিনহাসের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আরাফাত মিনহাসের অবিশ্বাস্য অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। বল হাতে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে একাই ইংলিশদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। ম্যাচে ৪০ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৬ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ম্যাচে খেলতে নেমেই এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বা ততোধিক উইকেট পাওয়ার ঘটনা। নিজের পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নেমেই দ্বিতীয়বার পেলেন ৫ বা তার বেশি উইকেটের স্বাদ। ওয়ানডেতে অর্ধশতক ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়া তৃতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হলেন তিনি। ব্যান্টনকে ফিরিয়ে শুরু করা আঘাতের পর ব্রুককে বোল্ড করেন তিনি।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান কিছুটা চাপে পড়েছিল। মাত্র ৩১ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন বাবর আজম, কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। উইল জ্যাকসের বলে আউট হওয়ার আগে তার সংগ্রহ ছিল ৩৪ রান। একপর্যায়ে ৮১ রান তুলতেই পাকিস্তান ৪ উইকেট হারিয়ে বসে। তবে এরপরই মোহাম্মদ নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসের জুটি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তাদের ৭৮ রানের এই জুটি দলকে বিপদমুক্ত করে। ৪৬ বলে অর্ধশতক হাঁকানো নওয়াজ শেষ পর্যন্ত ৭৪ বল মোকাবিলা করে ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৭৮ রানের জুটি পাকিস্তানের ইনিংসে গতি ফেরায়। শিশিরের সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করার আশা ছিল তার। তবে শুরুতে পাকিস্তানকে চাপে ফেললেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি ইংলিশরা। সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরান হাসান নওয়াজ ও মিনহাস।

নওয়াজের বিদায়ের পর মিনহাস আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন। ফাহিম আশরাফের সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় তারা মাত্র ৪৯ বলে ৭২ রান যোগ করেন। শেষ দিকে ফাহিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সহায়তায় পাকিস্তান নির্ধারিত ৯ উইকেটে ৩০২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। মিনহাস নিজে ৫৮ বলে ৫৯ রানের কার্যকর একটি ইনিংস খেলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সনি বেকার ৬৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন। শেষদিকে আশরাফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় পাকিস্তান।

৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টনের উদ্বোধনী জুটিতে ৯১ রান জমা হয় স্কোরবোর্ডে। ডাকেট ৮৬ এবং ব্যান্টন ৫৭ রান করে আউট হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনো ইংলিশদের হাতে ছিল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু মিনহাস আক্রমণে এসেই ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেন। তার ঘূর্ণি সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ৪৩.৪ ওভারে ২১৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। মিনহাসের ঘূর্ণিতে দিশেহারা সফরকারী ব্যাটাররা পাকিস্তান বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায় ইংল্যান্ড।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আরাফাত মিনহাসের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে

আপডেট সময় : ১০:৫৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

আরাফাত মিনহাসের অবিশ্বাস্য অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দাপুটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান। রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে স্বাগতিকরা। বল হাতে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে একাই ইংলিশদের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছেন বাঁহাতি এই স্পিনার। ম্যাচে ৪০ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৬ উইকেট। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম ম্যাচে খেলতে নেমেই এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ বা ততোধিক উইকেট পাওয়ার ঘটনা। নিজের পঞ্চম ওয়ানডে খেলতে নেমেই দ্বিতীয়বার পেলেন ৫ বা তার বেশি উইকেটের স্বাদ। ওয়ানডেতে অর্ধশতক ও পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়া তৃতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হলেন তিনি। ব্যান্টনকে ফিরিয়ে শুরু করা আঘাতের পর ব্রুককে বোল্ড করেন তিনি।

ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান কিছুটা চাপে পড়েছিল। মাত্র ৩১ রানে ২ উইকেট হারানো দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন বাবর আজম, কিন্তু তিনিও বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি। উইল জ্যাকসের বলে আউট হওয়ার আগে তার সংগ্রহ ছিল ৩৪ রান। একপর্যায়ে ৮১ রান তুলতেই পাকিস্তান ৪ উইকেট হারিয়ে বসে। তবে এরপরই মোহাম্মদ নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাসের জুটি ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয়। তাদের ৭৮ রানের এই জুটি দলকে বিপদমুক্ত করে। ৪৬ বলে অর্ধশতক হাঁকানো নওয়াজ শেষ পর্যন্ত ৭৪ বল মোকাবিলা করে ৭৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস উপহার দেন। পঞ্চম উইকেটে তাদের ৭৮ রানের জুটি পাকিস্তানের ইনিংসে গতি ফেরায়। শিশিরের সুবিধা নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো করার আশা ছিল তার। তবে শুরুতে পাকিস্তানকে চাপে ফেললেও সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারেনি ইংলিশরা। সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরান হাসান নওয়াজ ও মিনহাস।

নওয়াজের বিদায়ের পর মিনহাস আরও দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন। ফাহিম আশরাফের সাথে দারুণ বোঝাপড়ায় তারা মাত্র ৪৯ বলে ৭২ রান যোগ করেন। শেষ দিকে ফাহিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সহায়তায় পাকিস্তান নির্ধারিত ৯ উইকেটে ৩০২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায়। মিনহাস নিজে ৫৮ বলে ৫৯ রানের কার্যকর একটি ইনিংস খেলেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সনি বেকার ৬৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেছেন। শেষদিকে আশরাফের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যায় পাকিস্তান।

৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। বেন ডাকেট ও টম ব্যান্টনের উদ্বোধনী জুটিতে ৯১ রান জমা হয় স্কোরবোর্ডে। ডাকেট ৮৬ এবং ব্যান্টন ৫৭ রান করে আউট হলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনো ইংলিশদের হাতে ছিল বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু মিনহাস আক্রমণে এসেই ম্যাচের চিত্রপট বদলে দেন। তার ঘূর্ণি সামলাতে ব্যর্থ হয়ে ৪৩.৪ ওভারে ২১৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় ইংল্যান্ড। মিনহাসের ঘূর্ণিতে দিশেহারা সফরকারী ব্যাটাররা পাকিস্তান বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। ৩০৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালো শুরু পায় ইংল্যান্ড।