ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

আফগানিস্তানের কাছে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শারজায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) ১৬১ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে আফগানিস্তান সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এর আগে বাংলাদেশ দল আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফাইনালে খেলার জন্য বাংলাদেশকে জিততে হতো ৪১ রানে, অথচ উল্টো শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে টাইগারদের। তাতেই ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত হলো আফগানিস্তানের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আর সেটার জন্য দরকার ছিল বড় একটা স্কোর। শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে আফগানরা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। লক্ষ্য তাড়ায় এসে দলীয় ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬), ৩৯ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল (৪) এবং ৯৫ রানে ইব্রাহিম জাদরান (৩৪) আউট হলেও তাদের কক্ষচ্যূত করা যায়নি। তিনজনই আউট হয়েছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে খেলতে গিয়ে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও খেলার ধারা নিচে তুলে ধরা হলো তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তর কথাই ধরা যাক। দল নির্বাচনে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কিংবা স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থাকার আবেদন জানিয়ে লিখলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সেরা একাদশ নির্বাচন করা।

  1. আফগানিস্তানের ইনিংসের শুরুতে ৯৫ রান তুলতেই তারা রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬), সেদিকউল্লাহ আতাল (৪) এবং ইব্রাহিম জাদরানকে (৩৪) হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল।
  2. তবে আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহিদি এবং রহমত শাহ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। নবম ওভারে আলিস আল ইসলামের বলে শহিদি লেট কাটে দুই রান নিলে ৮৭ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় আফগানিস্তানের। অপরাজিত অধিনায়ক শহিদি ৩৬ রান করেন এবং রহমত শাহ ৯০ বলে পাঁচ চারে অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস উপহার দেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ দুটি ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নিয়েছেন।
  3. এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই তানজিদ (১), সৌম্য (০), শান্ত (১৫) এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে হারিয়ে বাংলাদেশ বড় বিপদে পড়ে। সপ্তম ওভারে মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন। তাদের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪৭ বলে ৯৩ রান আসে। সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করে আউট হওয়ার পর দলের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে এবং ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন ইমন। ৯৬ বলের এই ইনিংসে তিনি পাঁচটি চার ও দুটি ছয় হাঁকিয়েছেন। আফগানদের হয়ে বল হাতে স্পিনাররা দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছেন, যারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। বিশেষ করে আফগান স্পিন তোপ বাংলাদেশ দলকে দিশেহারা করে ফেলে, যার ফলে বাংলাদেশ ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের নিচে থামিয়ে দেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। আলিস আল ইসলামের বলে লেট কাটে ২ রান নিলেন হাসমতউল্লাহ শহিদি। কিন্তু এই জয়ের পর তেমন উচ্ছ্বাসই দেখা গেল না দুই আফগান ব্যাটার—শহিদি ও রহমত শাহর মধ্যে। তাদের মুখের অভিব্যক্তি যেন এটাই বলছিল—বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় এ আর এমন কি। ব্যাটিংই যে বাংলাদেশ দলের দুশ্চিন্তার আরেক নাম, সেটা প্রমাণ করে আফগানদের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ল দলের ব্যাটিং লাইনআপ। বলের মেরিট না বুঝে ভুল শট নির্বাচনের সেই চিরাচরিত সমস্যা ব্যাটারদের। অনুজদের দুর্দশা দেখে জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েস ফেসবুক পোস্টে বিসিবিকেই ধুয়ে দিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • আউট হলেও তাদের কক্ষচ্যূত করা যায়নি। চার নম্বরে উইকেটে এসে রহমত শাহ দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। ৫ চারে ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক। হাসমতউল্লাহ শহিদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। আফগানদের পতন হওয়া তিন উইকেটের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

আফগানিস্তানের কাছে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৭:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

শারজায় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ। বুধবার (২১ অক্টোবর) ১৬১ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে আফগানিস্তান সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। এর আগে বাংলাদেশ দল আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬০ রানেই অলআউট হয়ে যায়। ফাইনালে খেলার জন্য বাংলাদেশকে জিততে হতো ৪১ রানে, অথচ উল্টো শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে টাইগারদের। তাতেই ৮৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় নিশ্চিত হলো আফগানিস্তানের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে খাদের কিনারে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। আর সেটার জন্য দরকার ছিল বড় একটা স্কোর। শুক্রবার টুর্নামেন্টের ফাইনালে আফগানরা মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের। লক্ষ্য তাড়ায় এসে দলীয় ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬), ৩৯ রানে সেদিকউল্লাহ আতাল (৪) এবং ৯৫ রানে ইব্রাহিম জাদরান (৩৪) আউট হলেও তাদের কক্ষচ্যূত করা যায়নি। তিনজনই আউট হয়েছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল তাড়া করে খেলতে গিয়ে।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও খেলার ধারা নিচে তুলে ধরা হলো তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার কিংবা নাজমুল হোসেন শান্তর কথাই ধরা যাক। দল নির্বাচনে আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কিংবা স্বজনপ্রীতি থেকে দূরে থাকার আবেদন জানিয়ে লিখলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সম্পূর্ণ মেধা ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সেরা একাদশ নির্বাচন করা।

  1. আফগানিস্তানের ইনিংসের শুরুতে ৯৫ রান তুলতেই তারা রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬), সেদিকউল্লাহ আতাল (৪) এবং ইব্রাহিম জাদরানকে (৩৪) হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল।
  2. তবে আফগান অধিনায়ক হাসমতউল্লাহ শহিদি এবং রহমত শাহ ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন। নবম ওভারে আলিস আল ইসলামের বলে শহিদি লেট কাটে দুই রান নিলে ৮৭ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় আফগানিস্তানের। অপরাজিত অধিনায়ক শহিদি ৩৬ রান করেন এবং রহমত শাহ ৯০ বলে পাঁচ চারে অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস উপহার দেন। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ দুটি ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নিয়েছেন।
  3. এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই তানজিদ (১), সৌম্য (০), শান্ত (১৫) এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়কে হারিয়ে বাংলাদেশ বড় বিপদে পড়ে। সপ্তম ওভারে মাত্র ২৮ রানে চার উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলের হাল ধরেন সাইফ হাসান ও পারভেজ হোসেন। তাদের পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪৭ বলে ৯৩ রান আসে। সাইফ ৮২ বলে ৪১ রান করে আউট হওয়ার পর দলের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে এবং ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেছেন ইমন। ৯৬ বলের এই ইনিংসে তিনি পাঁচটি চার ও দুটি ছয় হাঁকিয়েছেন। আফগানদের হয়ে বল হাতে স্পিনাররা দুর্দান্ত দাপট দেখিয়েছেন, যারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহ গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান। বিশেষ করে আফগান স্পিন তোপ বাংলাদেশ দলকে দিশেহারা করে ফেলে, যার ফলে বাংলাদেশ ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের নিচে থামিয়ে দেওয়ার মতো চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। আলিস আল ইসলামের বলে লেট কাটে ২ রান নিলেন হাসমতউল্লাহ শহিদি। কিন্তু এই জয়ের পর তেমন উচ্ছ্বাসই দেখা গেল না দুই আফগান ব্যাটার—শহিদি ও রহমত শাহর মধ্যে। তাদের মুখের অভিব্যক্তি যেন এটাই বলছিল—বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় এ আর এমন কি। ব্যাটিংই যে বাংলাদেশ দলের দুশ্চিন্তার আরেক নাম, সেটা প্রমাণ করে আফগানদের বিপক্ষে মুখ থুবড়ে পড়ল দলের ব্যাটিং লাইনআপ। বলের মেরিট না বুঝে ভুল শট নির্বাচনের সেই চিরাচরিত সমস্যা ব্যাটারদের। অনুজদের দুর্দশা দেখে জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটার ইমরুল কায়েস ফেসবুক পোস্টে বিসিবিকেই ধুয়ে দিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • আউট হলেও তাদের কক্ষচ্যূত করা যায়নি। চার নম্বরে উইকেটে এসে রহমত শাহ দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। ৫ চারে ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন আফগান অধিনায়ক। হাসমতউল্লাহ শহিদি অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে। আফগানদের পতন হওয়া তিন উইকেটের।