নেতানিয়াহুর জোট ছাড়তে আগ্রহী শরিক দল ইউটিজে
- আপডেট সময় : ১১:১৯:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শরিক দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম (ইউটিজে) এখন গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে লিকুদ পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের আসন সংখ্যা কমে আসায় ইউটিজে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভাবছে। যদিও আইজেনকটের বিরোধী জোট ও ইউটিজের মধ্যে আদর্শগত বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, তবুও নেতানিয়াহুর ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলায় তারা নতুন সহযোগিতার পথ খুঁজছে। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দলটির প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা আইজেনকটের সঙ্গে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক সহযোগিতার বিষয়টি পরীক্ষা করে দেখতে প্রস্তুত।
নির্বাচনের এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন এবং গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে যাচ্ছে। এছাড়া আরব দলগুলো পেতে যাচ্ছে ১৯টি আসন। একক দল হিসেবে লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন এবং ইউটিজে ৭টি আসন পাচ্ছে। এ ছাড়াও নেতানিয়াহুর জোটে ওৎমা ইহুদিত ৭টি, শাস ৬টি এবং রিলিজিয়াস জায়োনিস্ট পার্টি ৬টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ ভোট গণনা পর্যন্ত নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩ আসন ও গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন জোট ৪৮ আসন পেতে যাচ্ছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরে আইজেনকটের দল ইয়াশার এককভাবে ২১টি, বি’ইয়াসাদ ১২টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং ইয়াসরায়েল বেইতেইনু ৭টি আসন নিশ্চিত করতে যাচ্ছে। আরব দলগুলোর মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১২টি ও মনসুর আব্বাসের দল রাআম ৮টি আসন পাচ্ছে। চ্যানেল ১৩-এর তথ্যমতে, নির্বাচনের এক্সিট পোল প্রকাশের পরপরই ইউটিজে নেতারা আইজেনকটের ফোন কলের অপেক্ষায় থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ হয়নি। ইউটেজি নেতারা জানিয়েছেন, তাঁরা আইজেনকোটের একটি ফোন কলের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে আইজেনকোট এখনো ইউটেজির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি বলে উল্লেখ করেছে চ্যানেল ১৩।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার গঠন এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সাথে হাত মেলানো হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধী শিবিরের নীরবতা রয়েছে, যদিও উদারপন্থী ইহুদিরা তাদের দ্রুত আরবদের সাথে জোট করার আহ্বান জানিয়েছেন। নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে হাত মেলানোর ইঙ্গিত দিল আরব জোট।
এখনো প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার বিশেষ ‘ডাবল এনভেলপ’ ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে। সেনাসদস্য, কারাবন্দী ও কূটনীতিকদের দেওয়া এসব ভোট চূড়ান্ত ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, গণনার শেষ পর্যায়ে এক বা দুটি আসনের ব্যবধানই সরকার গঠনের পুরো সমীকরণ বদলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।
























