ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ওয়ানডেকে টি-টুয়েন্টি বানিয়ে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

Live News Bangla71
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬ ১৯২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নাহিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। রানতাড়ায় ঝড় তুলেছেন টাইগার ব্যাটাররা। তানজিদ তামিম ও নাজমুল হাসান শান্তর দাপুটে ব্যাটিংয়ে ১৫.১ ওভারেই ফলাফল এনে দিয়েছেন তারা। ৮ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজ শুরু করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের খেলা ডাচ-বাংলার সৌজন্যে সরাসরি সম্প্রচার করেছে ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিন, ধারাভাষ্য প্রচার করছে রেডিও ভূমি।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০.৪ ওভার ব্যাট করে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দলটি। জবাবে নেমে ২০৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে টিম টাইগার্স। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয়েছে ৪৫.৫ ওভারে।

রানতাড়ায় দলীয় ২৭ রানে স্বাগতিকরা প্রথম উইকেট হারায়। শাহীন শাহ আফ্রিদির করা তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে পয়েন্টে শামিল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ৪ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সপ্তম ওভারেই বাংলাদেশ দলীয় পঞ্চাশ রান ছুঁয়ে ফেলে। চোখের পলকে এই দুই ব্যাটার ৮২ রানের জুটি গড়েন।

টি-টুয়েন্টি মেজাজে খেলে ৩২ বলে ফিফটির দেখা পান তানজিদ তামিম। তাকে দারুণভাবে সমর্থন দিতে থাকেন শান্ত। জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। মোহাম্মাদ ওয়াসিমের বলে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে বল দিয়ে আউট হন। ৫ চারে ৩৩ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন। পরে লিটন দাসকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রান করেন তানজিদ। লিটন অপরাজিত থাকেন ৩ রানে।

পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে সফরকারীদের ব্যাটে পাঠিয়ে বল হাতে তাণ্ডব চালান নাহিদ রানা। ক্যারিয়ারসেরা সাফল্যের দেখা পান। ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। আগে ৫ ওয়ানডে খেলে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। যার মধ্যে ২০২৪ সালে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানে ২ উইকেট ছিল সেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ফাইফারের কীর্তি গড়লেন নাহিদ। তার আগে ২০১৯ সালে লর্ডসে ১০ ওভারে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

১১৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে পাকিস্তান। আগে সর্বনিম্ন ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে বাংলাদেশের দেয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬২ রানে হার দেখেছিল পাকিস্তান। এছাড়া আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ১৭১ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ৫৮ রানে হার দেখেছিল স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি। উদ্বোধনীতে ৪১ রান তোলেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। দশম ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য পায় টিম টাইগার্স। ফারহানকে ফেরান নাহিদ। ৪ চারে ৩৮ বলে ২৭ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার।

এরপর ছন্দপতন ঘটে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে। নাহিদ রানার গতিঝড় সামাল দিতে না পেরে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। টানা ৫ ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ। ৬৯ রানে ৫ উইকট হারানোর পথে চাপে পড়ে সফরকারী দল।

চাপ সামাল দেয়ার আগেই তাদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরপর ৩ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৮১ রানে ৮ উইকেট হারায় দলটি। ১ রান যোগ করতে আরও এক উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে ১১৪ রানের সংগ্রহ গড়তে পারে। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন ফাহিম।বাংলাদেশ সংবাদ

বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল দুজন দুঅঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। সাদাকাত ১৮, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১০ রান করেন।

নাহিদের ফাইফারের পাশাপাশি ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার অধিনায়ক ১০ ওভারে ২৯ রান খরচ করেন। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন ১টি করে উইকেট।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ওয়ানডেকে টি-টুয়েন্টি বানিয়ে পাকিস্তানকে হারাল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০১:১২:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

নাহিদ রানার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। রানতাড়ায় ঝড় তুলেছেন টাইগার ব্যাটাররা। তানজিদ তামিম ও নাজমুল হাসান শান্তর দাপুটে ব্যাটিংয়ে ১৫.১ ওভারেই ফলাফল এনে দিয়েছেন তারা। ৮ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজ শুরু করেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের খেলা ডাচ-বাংলার সৌজন্যে সরাসরি সম্প্রচার করেছে ওটিটি প্লাটফর্ম আইস্ক্রিন, ধারাভাষ্য প্রচার করছে রেডিও ভূমি।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০.৪ ওভার ব্যাট করে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দলটি। জবাবে নেমে ২০৯ বল হাতে রেখে জয় তুলে নিয়েছে টিম টাইগার্স। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০০ ওভারের ম্যাচ শেষ হয়েছে ৪৫.৫ ওভারে।

রানতাড়ায় দলীয় ২৭ রানে স্বাগতিকরা প্রথম উইকেট হারায়। শাহীন শাহ আফ্রিদির করা তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে পয়েন্টে শামিল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ৪ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সপ্তম ওভারেই বাংলাদেশ দলীয় পঞ্চাশ রান ছুঁয়ে ফেলে। চোখের পলকে এই দুই ব্যাটার ৮২ রানের জুটি গড়েন।

টি-টুয়েন্টি মেজাজে খেলে ৩২ বলে ফিফটির দেখা পান তানজিদ তামিম। তাকে দারুণভাবে সমর্থন দিতে থাকেন শান্ত। জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। মোহাম্মাদ ওয়াসিমের বলে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে বল দিয়ে আউট হন। ৫ চারে ৩৩ বলে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন। পরে লিটন দাসকে নিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রান করেন তানজিদ। লিটন অপরাজিত থাকেন ৩ রানে।

পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ ওয়াসিম একটি করে উইকেট নেন।

এর আগে সফরকারীদের ব্যাটে পাঠিয়ে বল হাতে তাণ্ডব চালান নাহিদ রানা। ক্যারিয়ারসেরা সাফল্যের দেখা পান। ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। আগে ৫ ওয়ানডে খেলে ৫ উইকেট শিকার করেছিলেন। যার মধ্যে ২০২৪ সালে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানে ২ উইকেট ছিল সেরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ফাইফারের কীর্তি গড়লেন নাহিদ। তার আগে ২০১৯ সালে লর্ডসে ১০ ওভারে ৭৫ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান।

১১৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড গড়ে পাকিস্তান। আগে সর্বনিম্ন ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে বাংলাদেশের দেয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬২ রানে হার দেখেছিল পাকিস্তান। এছাড়া আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ১৭১ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ৫৮ রানে হার দেখেছিল স্বাগতিকরা।

পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি। উদ্বোধনীতে ৪১ রান তোলেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। দশম ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য পায় টিম টাইগার্স। ফারহানকে ফেরান নাহিদ। ৪ চারে ৩৮ বলে ২৭ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার।

এরপর ছন্দপতন ঘটে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে। নাহিদ রানার গতিঝড় সামাল দিতে না পেরে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। টানা ৫ ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ। ৬৯ রানে ৫ উইকট হারানোর পথে চাপে পড়ে সফরকারী দল।

চাপ সামাল দেয়ার আগেই তাদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পরপর ৩ উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৮১ রানে ৮ উইকেট হারায় দলটি। ১ রান যোগ করতে আরও এক উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে ১১৪ রানের সংগ্রহ গড়তে পারে। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন ফাহিম।বাংলাদেশ সংবাদ

বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল দুজন দুঅঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। সাদাকাত ১৮, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১০ রান করেন।

নাহিদের ফাইফারের পাশাপাশি ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার অধিনায়ক ১০ ওভারে ২৯ রান খরচ করেন। তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন ১টি করে উইকেট।