ঢাকা ০২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

ওয়ানডেতে চার শ রানের চূড়ায় বাংলাদেশ এখনো কেন অনুপস্থিত?

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ক্রিকেট বিশ্বে ওয়ানডে ফরম্যাটে দলীয় চার শ রানের মাইলফলক এখন আর অলীক কোনো স্বপ্ন নয়। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে রাওয়ালপিন্ডিতে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেটে ৩৯৮ রান করার পর থেকেই যেন এই সংস্করণে রানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এরপর ২০০৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে নিয়মিত বিরতিতেই চার শ বা তার বেশি রানের ইনিংস দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মোট ৩৫ বার দলগুলো চার শ বা তার বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। আর শ্রীলঙ্কাও সেই বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৯৮ তুলে বুঝিয়ে দিয়েছিল ওয়ানডেতে দলীয় ৪০০ রানের হিমালয়ে ওঠা আর স্বপ্ন নয়। সর্বোচ্চ ৯ ইনিংসে চার শ রান করেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত, যারা সর্বোচ্চ নয়বার চার শ রানের ইনিংস গড়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা আটবার করে, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া তিনবার করে, নিউজিল্যান্ড দুবার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে একবার করে এই কীর্তি গড়েছে। জিম্বাবুয়ের মতো দলও তিন বছর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চার শ রানের দেখা পেয়েছে। অথচ টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড এখনো ওয়ানডে ক্রিকেটে চার শ রানের ইনিংস গড়তে পারেনি। বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান। এই তো কদিন আগেও আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।

তবে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশ অন্তত একবার চার শ রানের দেখা পেয়েছে। চলতি বছরের জুনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডান ৪ উইকেটে ৪০৬ রান সংগ্রহ করেছিল। যেহেতু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ একটি স্বীকৃত ‘লিস্ট এ’ টুর্নামেন্ট, তাই এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট চার শ রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে এইচপি দল টাইগার্সের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৪০৩ রান তুলেছিল।

বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় ওয়ানডেতেও রানের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। গত বছর ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া মিলিয়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে চার শ রান তাড়া করে জেতার পাঁচটি ঘটনার মধ্যে চারটিই ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। যেমন—রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের ৪২৯ রানের জবাবে জয়ী শ্রীলঙ্কা এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। ইতিহাসের প্রথম চার শ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার, যারা ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান টপকেছিল। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২০০৯ সালে ভারতের বিপক্ষে ৪১১ রান তাড়া করে জেতা শ্রীলঙ্কা। ২০০৬ সালে চার শ রানের ধারা সেই যে শুরু হলো, সময়ের পালাবদলে গতকাল রাতে ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা সেই তালিকাটাই হালনাগাদ করল। রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কা দলের ড্রেসিংরুমে গ্যারি কারস্টেনকে দেখে একটি স্মৃতি মনে পড়তে পারে। শেষ নামটি দেখে কি একটু আক্ষেপ জাগে। ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ৪২৯ রান তাড়া—রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড।

ঘরোয়া লিস্ট এ ক্রিকেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফিতে গত বছর ২৪ ডিসেম্বর ঝাড়খণ্ডের ৪১২ রান তাড়া করে কর্ণাটক জয়ী হয়েছিল। এছাড়াও গত জুলাই মাসে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইন্টার-প্রভিন্সিয়াল লিমিটেড ওভার কাপে নর্দান নাইটসের ৪১৪ রানের লক্ষ্য পাড়ি দিয়েছিল লেনেস্টের লাইটনিং। অর্থাৎ গত ডিসেম্বর থেকে মোট চারটি ম্যাচে চার শ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড হয়েছে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ও দলীয় রানের রেকর্ডে ইংল্যান্ডের অবস্থান শীর্ষে, তারা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৪৯৮ রানের ইনিংস খেলেছিল। একই সময়ে ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফিতেও অবিশ্বাস্য সব স্কোর দেখা গেছে। ২০২২ সালে অরুণাচলের বিপক্ষে তামিলনাড়ু ২ উইকেটে ৫০৬ রান এবং গত বছর ডিসেম্বরে বিহার ৬ উইকেটে ৫৭৪ রান তুলেছিল। এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে যে, আধুনিক ক্রিকেটে বড় রান করা এখন নতুন স্বাভাবিকতা।

উল্লেখ্য যে, রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের সাথে গ্যারি কারস্টেনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৯৬ সালের সেই একই মাঠে তিনি আরব আমিরাতের বিপক্ষে অপরাজিত ১৮৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। সময়ের বিবর্তনে সেই রাওয়ালপিন্ডি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অকল্পনীয় সব রান তাড়ায় জয়ের সাক্ষী হয়ে আছে। অথচ বাংলাদেশ দল এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চার শ রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় রয়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

ওয়ানডেতে চার শ রানের চূড়ায় বাংলাদেশ এখনো কেন অনুপস্থিত?

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ক্রিকেট বিশ্বে ওয়ানডে ফরম্যাটে দলীয় চার শ রানের মাইলফলক এখন আর অলীক কোনো স্বপ্ন নয়। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে রাওয়ালপিন্ডিতে কেনিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেটে ৩৯৮ রান করার পর থেকেই যেন এই সংস্করণে রানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। এরপর ২০০৬ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে নিয়মিত বিরতিতেই চার শ বা তার বেশি রানের ইনিংস দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে মোট ৩৫ বার দলগুলো চার শ বা তার বেশি রান করার কৃতিত্ব দেখিয়েছে। আর শ্রীলঙ্কাও সেই বিশ্বকাপে কেনিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৩৯৮ তুলে বুঝিয়ে দিয়েছিল ওয়ানডেতে দলীয় ৪০০ রানের হিমালয়ে ওঠা আর স্বপ্ন নয়। সর্বোচ্চ ৯ ইনিংসে চার শ রান করেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, এই তালিকায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত, যারা সর্বোচ্চ নয়বার চার শ রানের ইনিংস গড়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা আটবার করে, শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়া তিনবার করে, নিউজিল্যান্ড দুবার এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে একবার করে এই কীর্তি গড়েছে। জিম্বাবুয়ের মতো দলও তিন বছর আগে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে চার শ রানের দেখা পেয়েছে। অথচ টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দেশের মধ্যে পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আফগানিস্তান এবং আয়ারল্যান্ড এখনো ওয়ানডে ক্রিকেটে চার শ রানের ইনিংস গড়তে পারেনি। বাংলাদেশের ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ২০২৩ সালে সিলেটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৩৪৯ রান। এই তো কদিন আগেও আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজে জিম্বাবুয়ের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ।

তবে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে না পারলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলাদেশ অন্তত একবার চার শ রানের দেখা পেয়েছে। চলতি বছরের জুনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডান ৪ উইকেটে ৪০৬ রান সংগ্রহ করেছিল। যেহেতু ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ একটি স্বীকৃত ‘লিস্ট এ’ টুর্নামেন্ট, তাই এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেট চার শ রানের ক্লাবে প্রবেশ করেছে। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রামে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে এইচপি দল টাইগার্সের বিপক্ষে ৫ উইকেটে ৪০৩ রান তুলেছিল।

বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জনপ্রিয়তায় ওয়ানডেতেও রানের জোয়ার দেখা যাচ্ছে। গত বছর ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া মিলিয়ে লিস্ট এ ক্রিকেটে চার শ রান তাড়া করে জেতার পাঁচটি ঘটনার মধ্যে চারটিই ঘটেছে সাম্প্রতিক সময়ে। যেমন—রাওয়ালপিন্ডিতে ইংল্যান্ডের ৪২৯ রানের জবাবে জয়ী শ্রীলঙ্কা এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। ইতিহাসের প্রথম চার শ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি দক্ষিণ আফ্রিকার, যারা ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার ৪৩৪ রান টপকেছিল। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ২০০৯ সালে ভারতের বিপক্ষে ৪১১ রান তাড়া করে জেতা শ্রীলঙ্কা। ২০০৬ সালে চার শ রানের ধারা সেই যে শুরু হলো, সময়ের পালাবদলে গতকাল রাতে ইংল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা সেই তালিকাটাই হালনাগাদ করল। রাওয়ালপিন্ডিতে শ্রীলঙ্কা দলের ড্রেসিংরুমে গ্যারি কারস্টেনকে দেখে একটি স্মৃতি মনে পড়তে পারে। শেষ নামটি দেখে কি একটু আক্ষেপ জাগে। ১১৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি, ৪২৯ রান তাড়া—রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের পর রেকর্ড।

ঘরোয়া লিস্ট এ ক্রিকেটের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফিতে গত বছর ২৪ ডিসেম্বর ঝাড়খণ্ডের ৪১২ রান তাড়া করে কর্ণাটক জয়ী হয়েছিল। এছাড়াও গত জুলাই মাসে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে ইন্টার-প্রভিন্সিয়াল লিমিটেড ওভার কাপে নর্দান নাইটসের ৪১৪ রানের লক্ষ্য পাড়ি দিয়েছিল লেনেস্টের লাইটনিং। অর্থাৎ গত ডিসেম্বর থেকে মোট চারটি ম্যাচে চার শ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড হয়েছে।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যক্তিগত ও দলীয় রানের রেকর্ডে ইংল্যান্ডের অবস্থান শীর্ষে, তারা নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২০২২ সালে সর্বোচ্চ ৪৯৮ রানের ইনিংস খেলেছিল। একই সময়ে ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফিতেও অবিশ্বাস্য সব স্কোর দেখা গেছে। ২০২২ সালে অরুণাচলের বিপক্ষে তামিলনাড়ু ২ উইকেটে ৫০৬ রান এবং গত বছর ডিসেম্বরে বিহার ৬ উইকেটে ৫৭৪ রান তুলেছিল। এই পরিসংখ্যানগুলো স্পষ্ট করে যে, আধুনিক ক্রিকেটে বড় রান করা এখন নতুন স্বাভাবিকতা।

উল্লেখ্য যে, রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের সাথে গ্যারি কারস্টেনের স্মৃতি জড়িয়ে আছে। ১৯৯৬ সালের সেই একই মাঠে তিনি আরব আমিরাতের বিপক্ষে অপরাজিত ১৮৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন। সময়ের বিবর্তনে সেই রাওয়ালপিন্ডি এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অকল্পনীয় সব রান তাড়ায় জয়ের সাক্ষী হয়ে আছে। অথচ বাংলাদেশ দল এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চার শ রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায় রয়ে গেছে।