গ্যাস সংকটে আবারও উৎপাদন বন্ধ যমুনা সার কারখানায়
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় ফের থমকে দাঁড়িয়েছে উৎপাদন। পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানাটির সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক। কারখানা সূত্রে জানা গেছে, নিরবচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই চাপের গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদামত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। এতে উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কারখানাটির উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন। চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ সাত মাসের বিরতির পর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকেনি। গত ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে দীর্ঘ ১৬ দিন পর গত ২৩ অক্টোবর আবারও উৎপাদনে ফেরে কারখানাটি। কিন্তু দুই দিন না পেরোতেই নতুন করে গ্যাস সংকটে ফের বন্ধ হয়ে গেল উৎপাদন।
তথ্যা অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময় গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটি দীর্ঘসময় বন্ধ ছিল। বিশেষ করে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে দীর্ঘ সাত মাস উৎপাদন পুরোপুরি স্থবির ছিল। কারখানার উৎপাদন সচল থাকলে এটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) নিবন্ধিত ১ হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে।
উৎপাদন চালু থাকলে কারখানাটিতে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি টাকার মুনাফা আসে। অথচ কারখানা বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন পরিচালনা খরচসহ প্ল্যান্ট সচল রাখার জন্য প্রতি মাসে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৬ কোটি টাকা বিল প্রদান করতে হয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সারের যোগান নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।


























