চিকিৎসা পরামর্শে এআই কি সত্যিই নির্ভরযোগ্য?
- আপডেট সময় : ০৪:২৪:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
চিকিৎসা বিজ্ঞানের জার্নাল ‘বিএমজে ওপেন’-এ চলতি বছরের এপ্রিলে প্রকাশিত এক গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় চ্যাটবটের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। গবেষকরা সেগুলোতে স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা প্রশ্ন করেন। গবেষণার ফলাফল বেশ উদ্বেগজনক; চ্যাটবটের দেওয়া উত্তরের প্রায় অর্ধেকই ছিল সমস্যাসংকুল এবং প্রায় ২০ শতাংশ উত্তর ছিল গুরুতর পর্যায়ের। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এআই-এর ওপর ভরসা করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ, তা এই চিত্র থেকেই স্পষ্ট। প্রায় অর্ধেক উত্তর ছিল সমস্যাজনক, আর প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ ছিল গুরুতর। চিকিৎসক ডাকার আগে সে এআইকে জিজ্ঞেস করল। সে শুধু আপনার দেওয়া তথ্য থেকে অনুমান করে মাত্র।
বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি বোঝা যাক। ধরুন, গভীর রাতে মিনহাজ নামের একজন ব্যক্তির বুকে ব্যথা শুরু হলো। তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে সে এআই-এর সাহায্য নিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে পরামর্শ এল যে এটি হয়তো সাধারণ গ্যাসের সমস্যা। এই তথ্যের ওপর বিশ্বাস করে সে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল। অথচ সকালে চিকিৎসকের ভাষ্য ছিল ভিন্ন। তিনি জানান, বুকের ব্যথা সবসময় গ্যাসের কারণে হয় না এবং এটি কখনোই অবহেলার বিষয় নয়। অক্সফোর্ডের চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটবটের সহায়তায় সাধারণ মানুষ নিজের শারীরিক সমস্যা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে পেরেছেন মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে।
এআই রোগীর শারীরিক অবস্থা সশরীরে পরীক্ষা করতে সক্ষম নয়, এটি কেবল ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অনুমাননির্ভর পরামর্শ দেয়। তাই রোগ বা ওষুধের সাধারণ ধারণা পেতে এআই ব্যবহার করা যেতে পারে, এমনকি চিকিৎসকের কাছে কী কী প্রশ্ন করবেন, তার তালিকা তৈরিতেও এটি সহায়ক। কিন্তু বুকে ব্যথা, তীব্র জ্বর বা শ্বাসকষ্টের মতো জরুরি ও গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। এআই ভালো কি মন্দ সেটি বড় বিষয় নয়, বরং তার ব্যবহারের সীমা ও সতর্কতা বজায় রাখাই এখন জরুরি।

























