থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং: কৃত্রিম টিস্যু তৈরির বিস্ময়কর প্রযুক্তি
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
প্রথাগত প্লাস্টিক বা রেজিনের বদলে জীবন্ত কোষ ও জৈব উপাদান ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি কাঠামো তৈরির আধুনিক প্রযুক্তি হলো থ্রিডি বায়োপ্রিন্টিং। চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, জীববিজ্ঞান এবং উপাদানবিদ্যার এক দারুণ সমন্বয় এই প্রযুক্তি। মানবদেহের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত, নতুন ওষুধের কার্যকারিতা যাচাই এবং পুনর্জনন চিকিৎসায় এটি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার শুরু হয় ‘বায়োইঙ্ক’ তৈরির মাধ্যমে। এখানে জীবন্ত কোষের সঙ্গে অ্যালজিনেট, কোলাজেন, জেলাটিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান মেশানো হয়। এরপর কম্পিউটারে নকশা করা সুনির্দিষ্ট কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বায়োপ্রিন্টারের সাহায্যে এই জৈব কালির স্তর সাজিয়ে ত্রিমাত্রিক গঠন তৈরি করা হয়। এক্সট্রুশন, ইঙ্কজেট, লেজার, শব্দতরঙ্গ কিংবা চৌম্বকীয় বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই প্রিন্টিং করা সম্ভব। প্রিন্টিং শেষ হওয়ার পর কৃত্রিম পরিবেশে অক্সিজেন ও পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিত করে কোষগুলোকে বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়।
বর্তমানে বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের ত্বক, হাড়, তরুণাস্থি এবং স্পন্দনক্ষম হৃৎপিণ্ডের টিস্যু তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া যকৃৎ, অগ্ন্যাশয়, মস্তিষ্ক এবং ক্যানসার গবেষণার জন্য ক্ষুদ্রাকৃতির টিস্যু মডেলও প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই গবেষণার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ মেরামত, স্নায়ুতন্ত্রের রোগের কারণ শনাক্তকরণ এবং ক্যানসার কোষের আচরণ বিশ্লেষণের কাজ সহজতর হয়েছে। মানুষের শরীরের জন্য সহনশীল নতুন ওষুধ পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এটি এক নিখুঁত মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসা গবেষণায় এই প্রযুক্তির পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র ও যোগাযোগ
- সূত্র: এআইসিএইচই ডটওআরজি
- টেকবার্তার সঙ্গে যোগাযোগ: [email protected]
- প্রতিবেদক: আহসান হাবীব

























